📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 নৈরাশ্য

📄 নৈরাশ্য


'পদ স্থায়ী হলে এবং আল্লাহ -র সাহায্য আসতে বিলম্ব হলে এই নৈরাশ্যের রোগ সৃষ্টি হয়। ফলে আল্লাহ-র সাহায্য এবং ওয়াদার ব্যাপারে অনেক লোক নিরাশ হয়ে এবং দাওয়াত ও আমল ছেড়ে দিয়ে বসেছে। এর চেয়ে বড় কথা, দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ-র ওয়াদা এবং ধমকির ব্যতিক্রম হতে পারে, এই বিশ্বাস তৈরি হওয়া।

আমরা সবসময় শুনতে পাচ্ছি যে, কিছু লোক পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কারণে। তারা বলে, আল্লাহ-র দুশমনরা সুদৃঢ় হচ্ছে; বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের কব্জা শক্তিশালী হচ্ছে; রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়াদি এখন তাদের হাতের মুঠোয়। এখন আর ইসলামের জয় বা ইসলামের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

আমার এক বন্ধু এক নেককার লোকের গল্প শুনিয়েছেন। লোকটি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ছিল। তারপর সে তা ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার পর তার বন্ধুরা তার কাছে এল এবং তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করল। তখন সে বলল, আমেরিকা, আমেরিকার সাজসরঞ্জাম এবং তাদের চৌকস দৃষ্টি সম্পর্কে গাফলতিতে বসবাস করে আমরা দাওয়াতের কাজে সফল হতে পারব? এখানে কোন বিষয় উহ্য আছে? এমতাবস্থায় আমরা কিছু করতে পারব? এরকমই ছিল লোকটির বক্তব্য।

এই হতভাগা ভুলে গেছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ- غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴾
সবকিছুর উপর পরাক্রমশালী; কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না। [সুরা ইউসুফ: ২১]

এই যে যেমন মুসা-এর কাহিনী। তাঁর জীবন ও দাওয়াত কার্যক্রমের প্রতিটা পদক্ষেপে আল্লাহ-এর সাহায্য আসা, জালেমদের প্রতিহত হওয়া এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর সুদৃঢ় হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরছে সেই কাহিনী। আমরা আল্লাহ-এর এই বাণীটি নিয়ে ফিকির করতে পারি-

۞ فَالْتَقَطَةَ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا ۚ إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ ۞
তখন ফেরাউনের পরিবার তাঁকে উঠিয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু এবং দুঃখের কারণ হতে পারে। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান এবং তাদের সেনাবাহিনী ছিল ছিল অপরাধী। [সুরা কাসাস: ০৮]

অপর বাণী- ۞ فَرَدَدْنَاهُ إِلَىٰ أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ۞
[তারপর আমি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যেন চক্ষু শীতল হয়, তিনি দুঃখ না করেন এবং তিনি জেনে নেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য; কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না। [সুরা কাসাস: ১৩]

আল্লাহ-এর অপর বাণী- وَجَاءَ رَجُلٌ مِّنْ أَقْصَا الْمَدِينَةِ يَسْعَىٰ قَالَ يَا مُوسَىٰ إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ ۞
তখন শহরের প্রান্ত থেকে এক লোক দৌড়ে এল। বলল, হে মুসা! নিশ্চয় পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার জন্য পরামর্শ করছে। তুমি বের হয়ে যাও। আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী। [সুরা কাসাস: ২০]

যখন তার কওমের কেউ কেউ বলল- إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
নিশ্চয় আমরা ধৃত হয়ে যাচ্ছি। [সুরা শুআরা: ৬১]

তখন তিনি দৃঢ়তার সাথে বললেন- ﴿قَالَ كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ﴾ সে বলল, না; কক্ষণও নয়; নিশ্চয় আমার সাথে আমার রব আছেন, তিনি অবশ্যই আমাকে পথ দেখাবেন। [সুরা শুআরা: ৬২]

এভাবেই নবীদের কাহিনী ঐশী দাওয়াত সংরক্ষণ এবং জালেম বিদ্রোহীদের দমনের গল্প বয়ান করে। একসময় ঐশী দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়।

﴿وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَرِثِينَ ﴿٥﴾ وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ﴾ যাদেরকে পৃথিবীতে দুর্বল করা হয়েছিল, আমি ইচ্ছা করি তাদেরকে অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা করতে, তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে এবং দুনিয়াতে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে। [সুরা কাসাস: ০৫-০৬]

এখানে একজন সাধারণ মানুষের প্রসিদ্ধ একটি গল্প উল্লেখ করব। সেটি প্রকাশ করে দৃষ্টির স্বচ্ছতা এবং অন্তরের নির্মলতা। আমাদের পূর্বপুরুষগণ উল্লেখ করেছেন যে, একটি শহর অবরোধ করার সময় লোকজন শত্রুদের বিমান হামলা সম্পর্কে কথা তুলল। কেউ কেউ ঘাবড়ে গেল এবং ভীত হয়ে পড়ল। পরে তারা বিমানের দেখা পেল না। এক বেদুইন এগিয়ে এসে অন্যদেরকে বলল, আচ্ছা, এই যে বিমানের কথা বলছ তোমরা, সেটা আসলে কী জিনিস? তারা বলল, একটি জিনিস আমাদের উপর উড়ে আসবে এবং আমাদেরকে লক্ষ করে বোম ফেলবে। বেদুইন স্বাভাবিক ও সুস্থ ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, সেটা কি আল্লাহ -র চেয়ে শক্তিশালী; না কি আল্লাহ তার চেয়ে শক্তিশালী? তারা উত্তর দিল, অবশ্যই আল্লাহ তার চেয়ে অনেক... ঊর্ধ্বে। বেদুইন বলল, তা হলে সেটা যেন তোমাদেরকে পেরেশান না করে।

আজ এরকম সুস্থ প্রকৃতির মানুষেরই বড্ড অভাব।

আরেকটি গল্প বলছি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য। তবে কাহিনীর নায়ক একজন কবি, দুষ্ট এবং উম্মাদ লোক। গল্পটি হচ্ছে, একবার আরব দেশগুলোর এক কর্ণধার ব্যক্তি বললেন, ফিলিস্তিনের শতকরা ৯৯ ভাগ বিচার-আচার আমেরিকার হাতে। তার মানে আমেরিকার কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং সমস্ত কর্মকাণ্ডের চাবি তার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। তখন এই দুষ্ট কবি উত্তর দিল-
وَلْتَعْلَمْ أَمْرِيَكَا أَنَّهَا لَيْسَتْ هِيَ اللَّهُ الْعَزِيزَ الْقَدِيرُ وَلَنْ تَمْنَعَ الطَّائِرَ مِنْ أَنْ يَطِيرَ
[জেনে রাখুক আমেরিকা, সে মহাপরাক্রমশালী খোদা হয়ে বসেনি; সে পারবে না, পাখির উড়া বন্ধ করতে।] (কবিদের স্বভাবের মধ্যে মিথ্যার প্রবণতা আছে, তবে এই কবির এই কথাটি সত্য।)

সুতরাং আমাদের এই ব্যাধি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আল্লাহ -র এই বাণীটি নিয়ে ফিকির করতে হবে- ﴿الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ﴾
[আজ তোমাদের দীন সম্পর্কে কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় কোরো না; ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য দীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিলাম আমার নেয়ামতসমূহ। আর তোমাদের জন্য মনোনীত করে দিলাম ইসলামকে ধর্ম হিসাবে। [সুরা মায়িদা: ০৩]

শেষে আসুন আমরা চিন্তা করি আল্লাহ-র এই বাণীটি নিয়ে- ﴿يُبَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِنْ يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَاْيْئَسُوا مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَايْئَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَفِرُونَ ﴾
ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে অনুসন্ধান করো এবং তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় কেবল কাফের সম্প্রদায়। [সুরা ইউসুফ: ৮৭]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম

📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম


কোন দিন বান্দার ভালোবাসা, গাইরুল্লাহর জন্য হওয়া এবং তার বন্ধুত্ব, প্রেম প্রবৃত্তি ও সাধ দুনিয়ার জন্য সাব্যস্ত হওয়া- এ হচ্ছে মহাবিপদ এবং অন্তরের জন্য ঘাতক বিষ সমতুল্য। নিঃসন্দেহে এগুলো এরকম বান্দাকে ধ্বংস এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। আসুন, আমার সঙ্গে এই আয়াতগুলো নিয়ে ভাবনায় শরীক হোন-

إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءُ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَّبِّهِمُ الْهُدَى
[সেগুলো কিছু নাম ছাড়া তো কিছু নয়, যেগুলো তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা স্থির করেছ; সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল নাযিল করেননি। তারা শুধু অনুমান এবং মনের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাকে। অথচ তাদের কাছে এসেছে তাদের রবের পক্ষ থেকে নির্দেশনা। [সুরা আন-নাজম: ২৩]

كَالَّذِي اسْتَهْوَتُهُ الشَّيْطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ
[ওই ব্যক্তির মত, যাকে শয়তান বনভূমিতে বিপথগামী করে ছেড়ে দিয়েছে। [সুরা আনআম: ৭১]

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوْنَهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ
ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নির্দেশনা বাদ দিয়ে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? [সুরা আল-কাসাস: ৫০]

أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ
[তুমি কি তার প্রতি লক্ষ করেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্য স্থির করেছে এবং আল্লাহ তাকে জেনেবুঝেই পথভ্রষ্ট করেছেন? [সুরা আল-জাসিয়া: ২৩]

أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ )
আল্লাহ এদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে। [সুরা মুহাম্মাদ: ১৬]

وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ *
অনেক লোক নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে না জেনে পথভ্রষ্ট করে। [সুরা আনআম: ১১৯]

প্রবৃত্তি অন্তরের বড় একটি রোগ। চাই প্রবৃত্তির সাধারণ অর্থই নেওয়া হোক, অথবা বিশেষ অর্থ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'প্রেম মানুষকে অন্ধ এবং বধির করে' শীর্ষক আলোচনার মধ্যে বলেন, এজন্যই কবি বলেছেন-
عَدُوٌّ لِمَنْ عَادَتْ، وَسِلْمٌ لِأَهْلِهَا وَمَنْ قَرَّبَتْ لَيْلَى أَحَبَّ وَأَقْرَبَا
লাইলি যাকে শত্রু জ্ঞান করেন, আমি তার শত্রু; তিনি যাকে কাছে টানেন, সে আমার প্রিয় এবং নিকটজন। [ رِسَالَةُ أَمْرَاضِ الْقُلُوْبِ وَشِفَاؤُهَا لِشَيْخِ الْإِسْلَامِ ]

এই ব্যক্তি বন্ধুতা ও শত্রুতার সূত্র ঠিক করেছে লাইলিকে; আল্লাহ- কে নয়।

শাইখুল ইসলাম আরও উল্লেখ এক ব্যক্তির গল্প করেছেন। সে একজন কালো মেয়েকে ভালোবাসত। তার ভালোবাসা আজব রকমের। মেয়েটি তার হৃদয়ের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তাই সে বলছে-
أُحِبُّ لِحَتِهَا السُّوْدَانَ حَتَّى أُحِبَّ لِحُتِهَا سُوْدَ الْكِلابِ.
[আমি তার কারণে ভালোবাসিকে নিগ্রোদেরকে; এমন কি তার ভালোবাসার উম্মাদনায় আমি কালো কুকুরকেও ভালোবাসি।]

আবশ্যক হল, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের শত্রুতা, আমাদের দান, আমাদের বারণ, আমাদের কর্ম এবং আমাদের বর্জন- সব হবে লা-শরীফ আল্লাহ-র জন্য। রসুল -র এই হাদীসটির উপর আমল করার জন্য-

مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য দুশমনি করে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্য বারণ করে, তার ঈমান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। [সুনান আবু দাউদ: হাদীস নং- ৪৬৮৩]

সর্বনিকৃষ্ট কিসিমের ভালোবাসা হচ্ছে আল্লাহ -র দুশমনদেরকে ভালোবাসা।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি

📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি


আল্লাহ বলছেন-

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ সুতরাং মানুষকে ভয় কোরো না; ভয় করো আমাকে। [সুরা মায়িদা: ৪৪]

আল্লাহ আরও বলছেন-

فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর?) অথচ বেশি ভয়ের যোগ্য হলে আল্লাহ; যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। [সুরা তওবা: ১৩]

যাদের অন্তরে রোগ আছে, তাদের খাসলত হচ্ছে তারা বলে থাকে- يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ তারা বলে, আমাদের ভয় হয় যে, আমাদেরকে কোন ঘূর্ণিপাক পেয়ে বসবে। [সুরা মায়িদা: ৫২]

যারা ঈমানদার এবং যাদের অন্তর সুস্থ, তাদের বৈশিষ্ট্য- الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا * * وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٣﴾
যাদেরকে কিছু লোক বলল, লোকজন তোমাদের মোকাবেলা করার জন্য একত্র হয়েছে; অতএব, তোমরা তাদেরকে ভয় করো। একথা শুনে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার তত্ত্বাবধায়ক। [সুরা আল-ইমরান: ১৭৩]

এখানে এক প্রকার স্বভাবজাত ভীতি আছে, যেটাকে দোষণীয় বলা যায় না। যেমন কোন ব্যক্তির মানব কিম্বা প্রাণী দুশমনকে ভয় করা। তবে ঈমানী ভয় শুধু হয় আল্লাহ থেকে।

গাইরুল্লাহর ভয় না থাকা অন্তরের শক্তি এবং বাহাদুরীর দলিল; যেরম সেটা দলিল ঈমানের। ইমাম আহমাদ বলেছেন, তুমি যদি সুস্থ হয়ে থাক, তা হলে কাউকে ভয় করবে না; অর্থাৎ কোন মাখলুককে ভয় করবে না।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 কুমন্ত্রণা

📄 কুমন্ত্রণা


ব্যাধি ব্যাপক এবং সর্বগ্রাসী একটি ব্যাধি। বেশিরভাগ মানুষের সাথেই খেলতামাশা করে এবং তাদের ফরয-ওয়াজিব ও এবাদত-বন্দেগী ধ্বংস করে। শেখ সাদীকে এই কুমন্ত্রণার চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জওয়াবে বলেছিলেন, আল্লাহ-র কাছে সুস্থতা চাওয়া, তাঁর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করা এবং একে প্রতিহত করার জন্য হিম্মত করা ছাড়া এর আর কোন চিকিৎসা নেই। এর সম্পর্কে অন্যমনস্ক হলে এবং এর সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বর্জন করলে, এই রোগ দূর হয়ে যাবে। তার কারণ, মানুষের মধ্যে যখন কুমন্ত্রণা অব্যাহত থাকে, তখন সেটা কঠিন এবং সুদৃঢ় হয়। আর যখন সেটা রোধ করার জন্য হিম্মত করা হয় এবং সে সম্পর্কে অমনোযোগের পথ অবলম্বন করা হয়, তখন তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।

আল্লাহ সুরা 'নাসে'র মধ্যে আমাদেরকে এই বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হুকুম করেছেন- قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿٢﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿۳﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٢﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ ﴾ বলো, আমি আশ্রয় কামনা করছি মানুষের রবের। মানুষের অধিপতির। মানুষের মাবুদের। কুমন্ত্রণা দানকারী আত্মগোপনকারী থেকে। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জ্বিন ও ইনসান থেকে। [সুরা নাস: ০১-০৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00