📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 অহংকার, আত্মম্ভরতা, অপরকে তুচ্ছ জ্ঞানকরণ ও বিদ্রূপ করণ

📄 অহংকার, আত্মম্ভরতা, অপরকে তুচ্ছ জ্ঞানকরণ ও বিদ্রূপ করণ


আল্লাহ বলেন- ﴿إِنْ فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَّا هُمْ بِبَالِغِيْهِ﴾ তাদের অন্তরে আছে শুধু আত্মম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। [সুরা মুমিন: ৫৬]

আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন- ﴿سَأَصْرِفُ عَنْ ايْتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ﴾ আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা দুনিয়াতে না-হক অহঙ্কার করে। [সুরা আ'রাফ: ১৪৬]

তিনি আরও বলেছেন- ﴿تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا ۚ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ﴾ [পরকালীন (শান্তির) আমি তাদেরকে দান করব, যারা দুনিয়াতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে এবং অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। বস্তুত শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। [সুরা কাসাস: ৮৩]

অন্যত্র বলেছেন- ﴿كَذلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى كُلِّ قَلْبٍ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ﴾ এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী স্বৈরাচারীর অন্তরে মোহর এঁটে দেন। [সুরা মুমিন: ৩৫]

আরেক আয়াতে আছে-
إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ নিশ্চয় তিনি অহঙ্কারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা নাহল: ২৩]

আল্লাহ বলেছেন-
وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا আর হোনাইনের দিন, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য আত্মমুগ্ধ করে ফেলেছিল। কিন্তু তোমাদের সংখ্যাধিক্য কোন উপকারে আসেনি। [সুরা তওবা: ২৫]

লোকমান যে তদীয় পুত্রকে নসিহত করেছিলেন, তার মধ্যে আছে-
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا জমীনের উপর তুমি দম্ভ ভরে পদচারণ কোরো না। [সুরা লুকমান: ১৮]

আত্মপ্রশংসা আরেক বালা। কেমন বালা? আল্লাহ বলেন-
فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى অতএব, তোমরা আত্মপ্রশংসা কোরো না। তিনি ভালো জানেন, সে সংযমী? [সুরা নাজম: ৩২]

তিনি আরও বলেছেন-
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُرَكُّونَ أَنْفُسَهُمْ بَلِ اللَّهُ يُزَكِّى مَنْ يَشَاءُ তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পুতঃপবিত্র বলে থাকে; বরং আল্লাহ পবিত্র করেন, যাকে ইচ্ছা তাকেই। [সুরা নিসা: ৪৯]

আল্লাহ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে নিষেধ করেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاء مِّنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ মুমিনগণ! কেউ যেন অপরকে উপহাস না করে। কেননা, সে তার চেয়ে উত্তম হতে পারে। কোন নারীও যেন অপর কোন নারীকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। [সুরা হুজরাত: ১১]

উপহাস একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি- قُلْ أَبِاللهِ وَايْتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُونَ ﴿۲۵﴾ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ *
বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর হুকুম-আহকাম এবং তাঁর রসুলের সাথে বিদ্রূপ করতে? ছলনা কোরো না, তোমরা তো কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। [সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬]

إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ ﴿٣٩﴾ وَإِذَا مَرُّوا بِهِمُ يَتَغَامَزُونَ
যারা অপরাধী, তারা মুমিনদের সাথে উপহাস করত। তারা যখন মুমিনদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন তারা চোখ টিপে ইশারা করত। [সুরা মুতাফিফীন: ২৯-৩০]

রসুল বলছেন- لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ.
যার অন্তরে যারা বরাবর অহঙ্কার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ২৭৫]

তিনি আরও বলছেন- بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ
একজন মুসলমানের অন্যায় হিসাবে তার অপর মুসলমান ভাইকে ছোট জ্ঞান করাই যথেষ্ট। [সহীহ মুসরিম: হাদীস নং- ৬৭০৬]

আমাদের এই যামানায় অপরকে ছোট জ্ঞান করা এবং বড়াই ও তাকাব্বরী করা বিষয়টি খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই আপনি একজনকে দেখবেন, সে আরেক জনকে অবজ্ঞা করছে, কারণ তার লেখাপড়া কম; তার মর্যাদা কম; তার চাকরি ছোট, সে গরীব মানুষ অথবা সে নিম্ন বংশের। আরও কত কারণ আছে।

হাদীসে আছে, নবী বলেছেন-
لا يَزَالُ الرَّجُلُ يَذْهَبُ بِنَفْسِهِ حَتَّى يُكْتَبَ فِي الجَبَّارِين، فَيُصِيبَهُ مَا أَصَابَهُمْ.
মানুষ অহঙ্কার করতে থাকে, একপর্যায়ে তার নাম স্বৈরাচারীদের তালিকায় লেখা হয়। তারপর তাদের ভাগ্যে যা জুটবে, তার ভাগ্যেও তা-ই জোটে। [সুনান তিরমিযী: হাদীস নং- ২০০০]

কিছু কিছু মানুষ তাদের চেয়ে নিচু পদের, অথবা কম মর্যাদার লোকদেরকে ভাই বলে সম্বোধন করতে ইতস্তত করে। বরং বিষয়টি তাদের কাছে শিষ্টাচার, ভদ্রতা বর্হিভূত এবং রুচিবিরুদ্ধ বলে মনে হয়। এগুলো সব হয় প্রভাব-প্রতিপত্তি রক্ষার দোহাই দিয়ে।

এই হতভাগারা কীভাবে বুঝবে যে, যাকে তারা নীচু ভাবছে, সে হয়তো আল্লাহ -র কাছে তাদের প্রিয় এবং হাজার গুণে শ্রেষ্ঠ হতে পারে। রসুল বলছেন-
رُبَّ أَشْعَثَ أَغْبَرَ مَدْفُوعِ بِالأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ.
অনেক আলুথালু চুল ও ধূসর চেহারার লোক আছে, যাদেরকে দরজা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তারা যদি আল্লাহর নামে কসম করেন, তা হলে আল্লাহ তা পুরা করে দেন। [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ৬৮৪৮]

এখানে যে বিষয়টি সম্পর্কে সাবধান করা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে নেককারদের সাথে উপহাস করার বিষয়টি। এটি একটি ভয়ানক ব্যাপার।

আল্লাহ বলছেন-
قُلْ أَبِاللهِ وَايْتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِعُونَ ﴿۱۵﴾ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ *
বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর হুকুম-আহকাম এবং তাঁর রসুলের সাথে বিদ্রূপ করতে? ছলনা কোরো না, তোমরা তো কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। [সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬]
ইসলামের নিদর্শন যেমন, দাড়ি, পর্দা এবং পোশাক ইত্যাদি নিয়ে উপহাস করারও একই কথা। এগুলো নিয়ে যে ব্যাক্তি উপহাস করবে, তার মুরতাদ হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। নাউযু বিল্লাহ। আমাদের উচিত, এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া এবং ভাইবন্ধুদেরকে সতর্ক করা। বিষয়টি ভয়ঙ্কর।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 শত্রুতা ও দুশমনি

📄 শত্রুতা ও দুশমনি


মুমিন মুত্তাকীদের দোআর মধ্যে উল্লেখ আছে- رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلا لِلَّذِينَ آمَنُوا হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং ঈমানের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রবর্তী ভাইদেরকে ক্ষমা করো। আমাদের অন্তরের ঈমানদারদের বিরুদ্ধে কোন শত্রুতা রেখো না। [সুরা হাশর: ۱۰]

জান্নাতে মুমিনদের মর্যাদা কেমন হবে, সেই সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলছেন- وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِّنْ غِلَّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُّتَقْبِلِينَ ﴾ তাদের অন্তরে যেই শত্রুতা ছিল, তা আমি বের করে দিয়েছি। তারা ভাই ভাই হয়ে সামনা-সামনি আসনে বসবে। [সুরা হিজর: ৪৭]

وَ نَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهُرُ আমি তাদের অন্তরের দুশমনি আমি বের করে দিয়েছি। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণিসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। [সুরা আ'রাফ: ৪৩]

আমরা এই ব্যাধি সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনার বেলায় নীচের এই শিক্ষাপ্রদ ঘটনাটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হতে পারি। ঘটনাটি হচ্ছে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.। তিনি এমন যুবক, যাকে প্রতিপালন করেছেন রসুল ﷺ। তিনি তাঁকে আদব-শিষ্টাচার শিখিয়েছেন; তালীম দিয়েছেন। তিনি প্রতিপালিত হয়েছেন, ইজ্জত, শক্তি ও ইলমের উৎসভূতিতে। আমাদের আজকালের যুবকদের মত নয়, যাদেরকে হিসাববিজ্ঞান এবং শিল্পকলা ইত্যাদি প্রলুব্ধ করে রেখেছে। অথচ সেগুলো তাদের জন্য ক্ষতিকর; উপকারী নয়।

ইমাম আহমাদ আনাস রা.-র হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ ﷺ-র সাথে বসে ছিলাম। একসময় নবীজী বললেন, এখন তোমাদের সামনে একজন জান্নাতী মানুষ উদ্ভাসিত হবেন। তখন একজন আনসারী লোককে দেখা গেল। তার দাড়ি থেকে উযুর নিংড়ে পড়ছিল। তার জুতোজোড়া বাম হাতে রাখা। পরের দিনও রসুলুল্লাহ ﷺ একই কথা বললেন। তখনও সেই আগের লোকটিকে আগের দিনের অবস্থায় দেখা গেল। তারপর যখন তৃতীয় দিন হল, রসুলুল্লাহ ﷺ আগের মত কথাই বললেন। তখনও সেই আগের লোকটিকে আগের অবস্থায়ই দেখা গেল। তারপর রসুলুল্লাহ ﷺ যখন উঠে গেলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস লোকটিকে অনুসরণ করতে লাগলেন। লোকটিকে লক্ষ করে বললেন-
আমি আমার পিতার সাথে ঝগড়া করেছি। কাজেই আমি কসম করেছি, আমি তাঁর বাড়িতে তিনদিন প্রবেশ করব না। আপনি যেখানে যাবেন, সেখানে যদি আপনি আমাকে নেন, তা হলে নিতে পারেন।
লোকটি বলল- আচ্ছা।

আনাস বলেন, আবদুল্লাহ বয়ান করতেন যে, তিনি সেই তিনটি রাত তাঁর সাথে কাটালেন। কিন্তু তিনি তাঁকে রাতে উঠে কোন এবাদত করতে দেখলেন না। তবে যখন তার ঘুম ভাঙত এবং তিনি বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন, তখন যিকির করতেন এবং আল্লাহু আকবার।
বলতেন। এরপর একেবারে ফজরের সালাতের জন্য উঠতেন।

আবদুল্লাহ বলেন, তবে আমি তাকে ভালো ছাড়া মন্দ কোন কথা বলতে শুনিনি। তারপর যখন তিন রাত অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন আমি তার আমলকে মনে মনে অতিসামান্য জ্ঞান করে বললাম-
আল্লাহর বান্দা! আমার বাবার সাথে আমার কোন বিবাদ হয়নি এবং কোন বর্জনের ঘটনাও ঘটেনি। তবে আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-কে তিনবার বলতে শুনেছি, 'এখন তোমাদের সামনে একজন জান্নাতী মানুষ উদ্ভাসিত হবেন।' তখন তিনবারই আপনি উদ্ভাসিত হয়েছেন। এর কারণেই আমি আপনার সরণাপন্ন হয়েছিলাম, আপনার আমল দেখার জন্য। যাতে আমি আপনাকে অনুসরণ করতে পারি। কিন্তু আপনাকে তো তেমন বড় কোন আমল করতে দেখলাম না। তা হলে রসুলুল্লাহ ﷺ যে মর্তবার কথা বললেন, সে পর্যন্ত আপনি কীভাবে পৌঁছলেন?

তিনি বললেন- আমার আমল তুমি যা দেখলে এ-ই।

আবদুল্লাহ বলেন, তারপর যখন আমি ফিরে আসতে লাগলাম, তখন তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন-
আমার আমল তুমি যা দেখলে, তাক-ই। তবে আমার অন্তরে কোন মুসলমানের উদ্দেশ্যে দুশমনি খুঁজে পাই না এবং আল্লাহ মানুষকে যা দিয়েছেন, সে জন্য কোন হিংসা করি না।

তখন আবদুল্লাহ বললেন- এই বস্তুটাই আপনাকে ওই পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। এই বস্তুটা অনুসরণ করা সম্ভব নয়। [মুসনাদ আহমাদ: হাদীস নং- ১২৬৯৭]

হাঁ, এটাই হচ্ছে মুসলমানের ভালোবাসা দিয়ে হৃদয় পূর্ণ করা, তাদেরকে মাফ করে দেওয়া এবং তাদের কর্মকান্ডের ধৈর্য ধারণ বদলা।

মুসলমান ভাই আমার! আসুন, ইমাম মুসলিমের বর্ণনা করা এই হাদীসটি নিয়ে আমরা একটু ভাবি। আবু হোরায়রা রসুলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন- تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحًا.

সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং যারা আল্লাহর সাথে কোনোকিছু শরীক করে না, তাদের সবাইকে মাফ করে দেওয়া হয়। তবে সেই লোককে মাফ করা হয় না, যার ভাইয়ের তার শত্রুতা আছে। বলা হয়, ‘এরা সমঝোতা না করা পর্যন্ত এদেরকে মাফ করার বিষয় মুলতবি রাখো; এরা সমঝোতা না করা পর্যন্ত এদেরকে মাফ করার বিষয় মুলতবি রাখো; এরা সমঝোতা না করা পর্যন্ত এদেরকে মাফ করার বিষয় মুলতবি রাখো।’ [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ৬৭০৯]

চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলেছেন, শত্রুতার মধ্যে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। কাজেই শত্রুতাপূর্ণ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি অত্যন্ত পীড়া ভোগ করতে থাকে। এটা হচ্ছে নগদ শাস্তি। পরকালীন শাস্তি আরও ভয়াবহ; আরও বিভীষিকাময়।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 নৈরাশ্য

📄 নৈরাশ্য


'পদ স্থায়ী হলে এবং আল্লাহ -র সাহায্য আসতে বিলম্ব হলে এই নৈরাশ্যের রোগ সৃষ্টি হয়। ফলে আল্লাহ-র সাহায্য এবং ওয়াদার ব্যাপারে অনেক লোক নিরাশ হয়ে এবং দাওয়াত ও আমল ছেড়ে দিয়ে বসেছে। এর চেয়ে বড় কথা, দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ-র ওয়াদা এবং ধমকির ব্যতিক্রম হতে পারে, এই বিশ্বাস তৈরি হওয়া।

আমরা সবসময় শুনতে পাচ্ছি যে, কিছু লোক পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কারণে। তারা বলে, আল্লাহ-র দুশমনরা সুদৃঢ় হচ্ছে; বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের কব্জা শক্তিশালী হচ্ছে; রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়াদি এখন তাদের হাতের মুঠোয়। এখন আর ইসলামের জয় বা ইসলামের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

আমার এক বন্ধু এক নেককার লোকের গল্প শুনিয়েছেন। লোকটি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ছিল। তারপর সে তা ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার পর তার বন্ধুরা তার কাছে এল এবং তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করল। তখন সে বলল, আমেরিকা, আমেরিকার সাজসরঞ্জাম এবং তাদের চৌকস দৃষ্টি সম্পর্কে গাফলতিতে বসবাস করে আমরা দাওয়াতের কাজে সফল হতে পারব? এখানে কোন বিষয় উহ্য আছে? এমতাবস্থায় আমরা কিছু করতে পারব? এরকমই ছিল লোকটির বক্তব্য।

এই হতভাগা ভুলে গেছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ- غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴾
সবকিছুর উপর পরাক্রমশালী; কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না। [সুরা ইউসুফ: ২১]

এই যে যেমন মুসা-এর কাহিনী। তাঁর জীবন ও দাওয়াত কার্যক্রমের প্রতিটা পদক্ষেপে আল্লাহ-এর সাহায্য আসা, জালেমদের প্রতিহত হওয়া এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর সুদৃঢ় হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরছে সেই কাহিনী। আমরা আল্লাহ-এর এই বাণীটি নিয়ে ফিকির করতে পারি-

۞ فَالْتَقَطَةَ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا ۚ إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ ۞
তখন ফেরাউনের পরিবার তাঁকে উঠিয়ে নিল, যাতে সে তাদের শত্রু এবং দুঃখের কারণ হতে পারে। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান এবং তাদের সেনাবাহিনী ছিল ছিল অপরাধী। [সুরা কাসাস: ০৮]

অপর বাণী- ۞ فَرَدَدْنَاهُ إِلَىٰ أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ۞
[তারপর আমি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যেন চক্ষু শীতল হয়, তিনি দুঃখ না করেন এবং তিনি জেনে নেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য; কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না। [সুরা কাসাস: ১৩]

আল্লাহ-এর অপর বাণী- وَجَاءَ رَجُلٌ مِّنْ أَقْصَا الْمَدِينَةِ يَسْعَىٰ قَالَ يَا مُوسَىٰ إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ ۞
তখন শহরের প্রান্ত থেকে এক লোক দৌড়ে এল। বলল, হে মুসা! নিশ্চয় পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার জন্য পরামর্শ করছে। তুমি বের হয়ে যাও। আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী। [সুরা কাসাস: ২০]

যখন তার কওমের কেউ কেউ বলল- إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
নিশ্চয় আমরা ধৃত হয়ে যাচ্ছি। [সুরা শুআরা: ৬১]

তখন তিনি দৃঢ়তার সাথে বললেন- ﴿قَالَ كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ﴾ সে বলল, না; কক্ষণও নয়; নিশ্চয় আমার সাথে আমার রব আছেন, তিনি অবশ্যই আমাকে পথ দেখাবেন। [সুরা শুআরা: ৬২]

এভাবেই নবীদের কাহিনী ঐশী দাওয়াত সংরক্ষণ এবং জালেম বিদ্রোহীদের দমনের গল্প বয়ান করে। একসময় ঐশী দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়।

﴿وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَرِثِينَ ﴿٥﴾ وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ﴾ যাদেরকে পৃথিবীতে দুর্বল করা হয়েছিল, আমি ইচ্ছা করি তাদেরকে অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা করতে, তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে এবং দুনিয়াতে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে। [সুরা কাসাস: ০৫-০৬]

এখানে একজন সাধারণ মানুষের প্রসিদ্ধ একটি গল্প উল্লেখ করব। সেটি প্রকাশ করে দৃষ্টির স্বচ্ছতা এবং অন্তরের নির্মলতা। আমাদের পূর্বপুরুষগণ উল্লেখ করেছেন যে, একটি শহর অবরোধ করার সময় লোকজন শত্রুদের বিমান হামলা সম্পর্কে কথা তুলল। কেউ কেউ ঘাবড়ে গেল এবং ভীত হয়ে পড়ল। পরে তারা বিমানের দেখা পেল না। এক বেদুইন এগিয়ে এসে অন্যদেরকে বলল, আচ্ছা, এই যে বিমানের কথা বলছ তোমরা, সেটা আসলে কী জিনিস? তারা বলল, একটি জিনিস আমাদের উপর উড়ে আসবে এবং আমাদেরকে লক্ষ করে বোম ফেলবে। বেদুইন স্বাভাবিক ও সুস্থ ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, সেটা কি আল্লাহ -র চেয়ে শক্তিশালী; না কি আল্লাহ তার চেয়ে শক্তিশালী? তারা উত্তর দিল, অবশ্যই আল্লাহ তার চেয়ে অনেক... ঊর্ধ্বে। বেদুইন বলল, তা হলে সেটা যেন তোমাদেরকে পেরেশান না করে।

আজ এরকম সুস্থ প্রকৃতির মানুষেরই বড্ড অভাব।

আরেকটি গল্প বলছি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য। তবে কাহিনীর নায়ক একজন কবি, দুষ্ট এবং উম্মাদ লোক। গল্পটি হচ্ছে, একবার আরব দেশগুলোর এক কর্ণধার ব্যক্তি বললেন, ফিলিস্তিনের শতকরা ৯৯ ভাগ বিচার-আচার আমেরিকার হাতে। তার মানে আমেরিকার কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং সমস্ত কর্মকাণ্ডের চাবি তার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। তখন এই দুষ্ট কবি উত্তর দিল-
وَلْتَعْلَمْ أَمْرِيَكَا أَنَّهَا لَيْسَتْ هِيَ اللَّهُ الْعَزِيزَ الْقَدِيرُ وَلَنْ تَمْنَعَ الطَّائِرَ مِنْ أَنْ يَطِيرَ
[জেনে রাখুক আমেরিকা, সে মহাপরাক্রমশালী খোদা হয়ে বসেনি; সে পারবে না, পাখির উড়া বন্ধ করতে।] (কবিদের স্বভাবের মধ্যে মিথ্যার প্রবণতা আছে, তবে এই কবির এই কথাটি সত্য।)

সুতরাং আমাদের এই ব্যাধি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আল্লাহ -র এই বাণীটি নিয়ে ফিকির করতে হবে- ﴿الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ﴾
[আজ তোমাদের দীন সম্পর্কে কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় কোরো না; ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য দীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিলাম আমার নেয়ামতসমূহ। আর তোমাদের জন্য মনোনীত করে দিলাম ইসলামকে ধর্ম হিসাবে। [সুরা মায়িদা: ০৩]

শেষে আসুন আমরা চিন্তা করি আল্লাহ-র এই বাণীটি নিয়ে- ﴿يُبَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِنْ يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَاْيْئَسُوا مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَايْئَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَفِرُونَ ﴾
ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে অনুসন্ধান করো এবং তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় কেবল কাফের সম্প্রদায়। [সুরা ইউসুফ: ৮৭]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম

📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম


কোন দিন বান্দার ভালোবাসা, গাইরুল্লাহর জন্য হওয়া এবং তার বন্ধুত্ব, প্রেম প্রবৃত্তি ও সাধ দুনিয়ার জন্য সাব্যস্ত হওয়া- এ হচ্ছে মহাবিপদ এবং অন্তরের জন্য ঘাতক বিষ সমতুল্য। নিঃসন্দেহে এগুলো এরকম বান্দাকে ধ্বংস এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। আসুন, আমার সঙ্গে এই আয়াতগুলো নিয়ে ভাবনায় শরীক হোন-

إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءُ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَّبِّهِمُ الْهُدَى
[সেগুলো কিছু নাম ছাড়া তো কিছু নয়, যেগুলো তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা স্থির করেছ; সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল নাযিল করেননি। তারা শুধু অনুমান এবং মনের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাকে। অথচ তাদের কাছে এসেছে তাদের রবের পক্ষ থেকে নির্দেশনা। [সুরা আন-নাজম: ২৩]

كَالَّذِي اسْتَهْوَتُهُ الشَّيْطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ
[ওই ব্যক্তির মত, যাকে শয়তান বনভূমিতে বিপথগামী করে ছেড়ে দিয়েছে। [সুরা আনআম: ৭১]

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوْنَهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ
ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নির্দেশনা বাদ দিয়ে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? [সুরা আল-কাসাস: ৫০]

أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ
[তুমি কি তার প্রতি লক্ষ করেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্য স্থির করেছে এবং আল্লাহ তাকে জেনেবুঝেই পথভ্রষ্ট করেছেন? [সুরা আল-জাসিয়া: ২৩]

أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ )
আল্লাহ এদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে। [সুরা মুহাম্মাদ: ১৬]

وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ *
অনেক লোক নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে না জেনে পথভ্রষ্ট করে। [সুরা আনআম: ১১৯]

প্রবৃত্তি অন্তরের বড় একটি রোগ। চাই প্রবৃত্তির সাধারণ অর্থই নেওয়া হোক, অথবা বিশেষ অর্থ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'প্রেম মানুষকে অন্ধ এবং বধির করে' শীর্ষক আলোচনার মধ্যে বলেন, এজন্যই কবি বলেছেন-
عَدُوٌّ لِمَنْ عَادَتْ، وَسِلْمٌ لِأَهْلِهَا وَمَنْ قَرَّبَتْ لَيْلَى أَحَبَّ وَأَقْرَبَا
লাইলি যাকে শত্রু জ্ঞান করেন, আমি তার শত্রু; তিনি যাকে কাছে টানেন, সে আমার প্রিয় এবং নিকটজন। [ رِسَالَةُ أَمْرَاضِ الْقُلُوْبِ وَشِفَاؤُهَا لِشَيْخِ الْإِسْلَامِ ]

এই ব্যক্তি বন্ধুতা ও শত্রুতার সূত্র ঠিক করেছে লাইলিকে; আল্লাহ- কে নয়।

শাইখুল ইসলাম আরও উল্লেখ এক ব্যক্তির গল্প করেছেন। সে একজন কালো মেয়েকে ভালোবাসত। তার ভালোবাসা আজব রকমের। মেয়েটি তার হৃদয়ের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তাই সে বলছে-
أُحِبُّ لِحَتِهَا السُّوْدَانَ حَتَّى أُحِبَّ لِحُتِهَا سُوْدَ الْكِلابِ.
[আমি তার কারণে ভালোবাসিকে নিগ্রোদেরকে; এমন কি তার ভালোবাসার উম্মাদনায় আমি কালো কুকুরকেও ভালোবাসি।]

আবশ্যক হল, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের শত্রুতা, আমাদের দান, আমাদের বারণ, আমাদের কর্ম এবং আমাদের বর্জন- সব হবে লা-শরীফ আল্লাহ-র জন্য। রসুল -র এই হাদীসটির উপর আমল করার জন্য-

مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য দুশমনি করে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্য বারণ করে, তার ঈমান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। [সুনান আবু দাউদ: হাদীস নং- ৪৬৮৩]

সর্বনিকৃষ্ট কিসিমের ভালোবাসা হচ্ছে আল্লাহ -র দুশমনদেরকে ভালোবাসা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00