📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 ইলম

📄 ইলম


আত্মার পরীক্ষার সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র হচ্ছে ইলম। কত মানুষ এই পরীক্ষায় স্খলনের শিকার হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। অনেকেই ইলম হাসিল করে আল্লাহ-র জন্য; তারপর গুপ্ত প্রবৃত্তি, নেতৃত্বের লোভ, প্রসিদ্ধি, মাদবরি, সমকালের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, বিবাদ- বিসম্বাদ, প্রতিপক্ষকে পরাস্থ করণ ইত্যাদি হীন বিষয়ের দিকে নিয়ত বদলে যায়।

হাদীসে আছে- مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا.

যেই ইলম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তা কেউ দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্জন করে, তা হলে সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না। [সুনান আবু দাউদ: হাদীস নং- ৩৬৬৬]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 দাওয়াত

📄 দাওয়াত


আত্মার পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ খুববেশি এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ, প্রসিদ্ধি এবং সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্পৃহা- এগুলো সব এমন পরীক্ষা, যেগুলো দাওয়াতকে দায়ীর জন্য বিপর্যয় হিসেবে স্থির করে। নাউযু বিল্লাহ। আবার দাওয়াত থেকে বিরত থাকা অথবা আল্লাহ-র সন্তুষ্টি বাদে ভিন্ন দিকে দাওয়াতকে প্রবাহিত করাটাও আরেক দূরারোগ্য ব্যাধি।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 বিরোধ ও বিবাদ

📄 বিরোধ ও বিবাদ


এটি হচ্ছে শয়তানের খামার ও চারণভূমিসমূহের অন্যতম। এজন্য আল্লাহ মতবিরোধের আদর্শ পন্থার দিকে অবহিত করে বলেছেন-

وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ﴾ এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায়, যেটি অধিক সুন্দর। [সুরা নাহল: ১২৫]

অনেক সময় বিতর্ককারী হকের পক্ষেই মাঠে নামে; কিন্তু পরে সে আত্মপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানেই আছে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা। আল্লাহ বলেছেন-

وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتُبِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ * * তোমরা কিতাবী সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্ক করবে; তবে উত্তম পন্থায়। [সুরা আনকাবূত: ৪৬]

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যে বলেছেন, 'বিরোধ পুরোটাই অনিষ্টকর।' কথাটি তিনি সঠিক বলেছেন।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা

📄 প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা


এই বিষয়টি ইচ্ছা করেই পরে উল্লেখ করলাম। তার কারণ, বেশিরভাগ মানুষ আত্মার পরীক্ষাকে সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি-নারী এবং সন্তান-সন্তুতির কামনা বাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে থাকেন। এগুলোও নিঃসন্দেহে ফেতনা এবং পরীক্ষা-

إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ) নিশ্চয় তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষার বিষয়। [সুরা তাগাবুন: ১৫]

রসুল -ও বলছেন-

إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ
নিশ্চয় দুনিয়া মিষ্টি সবুজ-শ্যামল। আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে পাঠিয়েছেন। তিনি দেখছেন, তোমরা কেমন আমল করো। কাজেই তোমরা ভয় করো দুনিয়াকে এবং ভয় করো নারীসমাজকে। কেননা, বনী ইসরায়ীলের প্রথম ফেতনা সংঘটিত হয়েছিল নারীসমাজকে ঘিরে। [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ৭১২৪]

কিন্তু যেসব ক্ষেত্রের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মার পরীক্ষায় সেগুলোর প্রভাব বেশি এবং অধিক কার্যকর। ওগুলো থেকে থেকে বেঁচে থাকা কলবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00