📄 এবাদত
এবাদত যেমন, সালাত, সওম, সদকা, হজ ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র। এগুলোর মধ্যে এখলাস আছে কি না, এবং এগুলো লৌকিকতা মুক্ত কি না, সে কথা যাচাই করার জন্যই পরীক্ষা হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলছেন-
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْتُهُ هَبَاءً مَنْثُورًا
এবং আমি তাদের আমলের দিকে মনোনিবেশ করব; অতঃপর সেগুলোকে আমি বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত করে দিব। [সুরা ফুরকান: ২৩]
রসুল-র হাদীসে আছে-
إِيَّاكُمْ وَ شِرْكَ السَّرَائِرِ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَ مَا شِرْكُ السَّرَائِرِ؟ قَالَ: يَقُومُ الرَّجُلُ فَيُصَلَّى فَيُزَيِّنُ صَلَاتَهُ جَاهِدًا لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ النَّاسِ إِلَيْهِ، فَذَلِكَ شِرْكُ السَّرَائِرِ.
তোমরা গুপ্ত শির্ক থেকে আত্মরক্ষা করো। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! গুপ্ত শির্ক কী? তিনি বললেন, একজন সালাত পড়তে দাঁড়ায়। মানুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকে বলে আপ্রাণ চেষ্টা করে সে সালাতকে সুন্দর করে। এরকম মানুষকে দেখানোই হচ্ছে গুপ্ত শির্ক। [সহীহ ইবনে খুযাইমা: হাদীস নং- ৯৩৭]
এবাদত বিশুদ্ধ করা হয় কি না এবং নবী থেকে যেভাবে বর্ণিত আছে, সেভাবে আদায় করা হয় কি না, এবাদতের ক্ষেত্রে তা-ও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা করা হয় তাকওয়ার পর্যায়ও। আল্লাহ তাআলা বলছেন-
وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ
বরং তোমাদের নিকট থেকে তাঁর কাছে পৌঁছে শুধু তোমাদের তাকওয়া। [সুরা হজ: ৩৮]
এবাদতের ক্ষেত্রে যেই পরীক্ষা হয়, এগুলো তার সামান্য নমুনা মাত্র।
📄 ইলম
আত্মার পরীক্ষার সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র হচ্ছে ইলম। কত মানুষ এই পরীক্ষায় স্খলনের শিকার হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। অনেকেই ইলম হাসিল করে আল্লাহ-র জন্য; তারপর গুপ্ত প্রবৃত্তি, নেতৃত্বের লোভ, প্রসিদ্ধি, মাদবরি, সমকালের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, বিবাদ- বিসম্বাদ, প্রতিপক্ষকে পরাস্থ করণ ইত্যাদি হীন বিষয়ের দিকে নিয়ত বদলে যায়।
হাদীসে আছে- مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا.
যেই ইলম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তা কেউ দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্জন করে, তা হলে সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না। [সুনান আবু দাউদ: হাদীস নং- ৩৬৬৬]
📄 দাওয়াত
আত্মার পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ খুববেশি এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ, প্রসিদ্ধি এবং সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্পৃহা- এগুলো সব এমন পরীক্ষা, যেগুলো দাওয়াতকে দায়ীর জন্য বিপর্যয় হিসেবে স্থির করে। নাউযু বিল্লাহ। আবার দাওয়াত থেকে বিরত থাকা অথবা আল্লাহ-র সন্তুষ্টি বাদে ভিন্ন দিকে দাওয়াতকে প্রবাহিত করাটাও আরেক দূরারোগ্য ব্যাধি।
📄 বিরোধ ও বিবাদ
এটি হচ্ছে শয়তানের খামার ও চারণভূমিসমূহের অন্যতম। এজন্য আল্লাহ মতবিরোধের আদর্শ পন্থার দিকে অবহিত করে বলেছেন-
وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ﴾ এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায়, যেটি অধিক সুন্দর। [সুরা নাহল: ১২৫]
অনেক সময় বিতর্ককারী হকের পক্ষেই মাঠে নামে; কিন্তু পরে সে আত্মপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানেই আছে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা। আল্লাহ বলেছেন-
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتُبِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ * * তোমরা কিতাবী সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্ক করবে; তবে উত্তম পন্থায়। [সুরা আনকাবূত: ৪৬]
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যে বলেছেন, 'বিরোধ পুরোটাই অনিষ্টকর।' কথাটি তিনি সঠিক বলেছেন।