📄 কলব আক্রমণকারী রোগব্যাধি
ছোট্ট একটি টুকরো কলব; কিন্তু তার কর্মকাণ্ড বড় আজব কিসিমের। এই কলবের সাথে তুলনা করা যেতে কেবল সাগরের সাথে, আমরা যার শুধু উপরস্থিত অংশই বাহ্যিকভাবে দেখতে পাই। অথচ বাস্তবে সেটা স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জগৎ। তার মধ্যে আছে নানা প্রজাতির জীবজন্তু এবং আজবসব উদ্ভিদ। সাগরবিশেষজ্ঞদের যেগুলো বোকা বানিয়ে দিয়েছে।
এই কলবও তেমনই। কেননা, যে ব্যক্তি এই কলব নিয়ে যথাযথ চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে, কলবে যেসব অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সে কারণে মানব ব্যক্তিত্বে অবস্থা, মান ও বিশেষণে যে তফাত লক্ষ করা যায়, সেগুলো অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। এই যা বললাম, তা হল এই ক্ষুদ্র ও বিশাল কলবের সিন্ধু থেকে বিন্দুমাত্র।
কলবকে যেসব রোগব্যাধি আক্রমণ করে, সেগুলো সম্পর্কে কিছু কুরআনিক ইঙ্গিত এখানে তুলে ধরছি। সেগুলো হচ্ছে যেমন, গাফলত, অন্ধতা, বক্রতা, বিবর্তন, ঘৃণাবোধ, আবদ্ধতা, পাষণ্ডতা, অবহেলা, লৌকিকতা, কপটতা, হিংসা এবং আরও অনেক কিছু।
সুবহানাল্লাহ! এগুলো সবই কি কলবকে আক্রমণ করে? হাঁ; এবং এর চেয়েও বড় কিছু ব্যাপার আছে।
**ফলাফল**
ফলাফল হচ্ছে এই যে, এই আক্রমণের পর কলব মোহর, তালাবদ্ধতা এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং মানুষ প্রতিরোধ-ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন তার অন্তর কালো হয়ে যায়।
📄 সুস্থ অন্তরের কিছু অবস্থা ও গুণাবলি
যে রকম এই কলব কিছু রোগব্যাধির মুখোমুখি হয়, তেমনই কিছু ঈমানী বৈশিষ্ট্য এবং বন্দেগীর বিভিন্ন স্তরের প্রশংসনীয় কিছু গুণাবলিও এই কলব অর্জন করে থাকে। যেমন, নম্রতা, নমনীয়তা, একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, আল্লাহ -এর জন্য ভালোবাসা, খোদাভীতি, দৃঢ়তা, ভয়, আশা, তওবা ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছু।
**ফলাফল**
ফলাফল সুস্থতা- إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبِ سَلِيمٍ তবে যে ব্যক্তি সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। [সুরা শুআরা: ৭৮-৭৯], সঞ্জীবন, ঈমান এবং সাদা অন্তরের অধিকারী হওয়া।
📄 উপকারী ইলম ও অপকারী ইলম
যে ইলম আপনাকে আল্লাহ-র পথ দেখায়, আল্লাহ-র পরিচয় প্রদান করে, তা-ই উপকারী ইলম।
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ فَهُذَا يَوْمُ الْبَعْثِ وَلَكِنَّكُمْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾ আর যাদেরকে ইলম ও ঈমান দান করা হয়েছে, তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। এটাই তো পনুরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা জানতে না। [সূরা রুম : ৫৬]
কিছু ইলম আছে ঈমানী আর কিছু ইলম আছে কুফরী; কিছু ইলম আছে উপকারী আবার কিছু ইলম আছে অপকারী। যেমন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غُفِلُونَ﴾ তারা শুধু পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে বা চিনে। আর আখেরাত সম্বন্ধে তারা গাফেল। [সূরা রুম: ৭]
بَلِ ادَّرَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّنْهَا بَلْ هُمْ مِّنْهَا عَمُونَ ) বরং আখেরাত সম্বন্ধে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই, তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহে পড়ে আছে, বরং তারা এ বিষয়ে অন্ধ। [সূরা নামল : ৬৬]
ذُلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ * তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই। [সূরা নাজম: ৩০]
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَهُ آيْتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَنُ فَكَانَ مِنَ الْغَوِيْنَ ﴿١٥﴾ وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَهُ بِهَا وَلِكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكُهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِأَيْتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
[হে মুহাম্মাদ!] তুমি তাদেরকে ওই ব্যক্তির ঘটনা শুনিয়ে দাও, যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম। পরে সে সেসব নিদর্শনাবলিকে এড়িয়ে গেছে। ফলে শয়তান তার পিছু নিয়েছে। আর তাই সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। আর আমি যদি চাইতাম, তা হলে তাকে আমি সেসব নিদর্শনাবলি দ্বারা উচ্চ মর্যাদা দান করতাম। কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। অতএব, তার উদাহরণ হল কুকুরের ন্যায়। যদি তুমি তার উপর বোঝা চাপাও, তা হলে সে হাঁপাতে থাকে অথবা যদি তুমি [তার উপর বোঝা না চাপিয়ে] এমনিই ছেড়ে দাও, তা হলেও সে হাঁপাতে থাকে। এ হচ্ছে সে সম্প্রদায়ের উপমা, যারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে। অতএব, তুমি ঘটনা বর্ণনা কর যাতে করে তারা ভেবে দেখে। [সূরা আ'রাফ: ১৭৫-১৭৬]
ইহুদী সম্প্রদায় ও তাদের ইলমের ব্যাপারে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِلُوا التَّوْرِيةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِأَيْتِ اللَّهِ
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পন করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উপমা হল পুস্তকের বিশাল বোঝা বহনকারী গাধার ন্যায়। কতই না নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের উপমা, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। [সূরা জুমআ : ৫]
এটা ইলম, কিন্তু এ ইলম সত্য পথ প্রদর্শনকারী নয়; এটা দলীল, কিন্তু এর দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া যায় না; এটা প্রমাণ, কিন্তু অকাট্য নয়; এটা কালাম, কিন্তু এর কোনো হাকীকত নেই। বরং এ ইলম বিকৃতি, পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর দিকে পথ দেখায়। অতএব, এ ইলমের অধিকারীরা সুখ পাবে কোথায়?
فَاسْتَحَبُّوا الْعَى عَلَى الْهُدَى
অতঃপর তারা হেদায়েতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে পছন্দ করল। [সূরা হা-মীম-সাজদা : ১৭]
وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا
এবং তাদের কথা 'আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত'- বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন- সুতরাং অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া তারা কেউই ঈমান আনবে না। [সূরা নিসা : ১৫৫]
ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের লাইব্রেরিতে প্রত্যেক বিষয়, প্রত্যেক জাতি, প্রত্যেক সম্প্রদায় এবং প্রত্যেক কৃষ্টি-কালচার ও সভ্যতা সম্বন্ধে লক্ষ লক্ষ বই-পুস্তক আছে। কিন্তু যে সম্প্রদায়ের মালিকানায় এ মহামূল্যবান লাইব্রেরি, তারা আল্লাহ-কে অস্বীকার করে। তারা কেবল পার্থিব জগতের প্রকাশ্য ও বাহ্য বিষয়গুলোকেই দেখে। পার্থিব জগতই তাদের কাছে সব। এর বাইরে যা কিছু আছে, তা তারা দেখে না, বোঝে না, শোনে না, উপলব্ধি করে না।
وَ جَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَ أَبْصَارًا وَ أَفْدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْدَتُهُمْ مِّنْ شَيْءٍ
আর আমি তাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তকরণ সৃষ্টি করে দিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের শ্রুতিশক্তি, দর্শনশক্তি ও তাদের হৃদয় তাদের কোনো কাজে লাগেনি। [সূরা আহ্বাফ: ২৬]
চারণভূমি সবুজ-শ্যামল ঘাসে পরিপূর্ণ থাকলে কী হবে, যদি বকরি অসুস্থ থাকে! পানি যতই শীতল ও সুমিষ্ট হোক তাতে কী লাভ হবে, যদি মুখের ভিতরই তিক্ততা থাকে!
كَمْ آتَيْنَهُمْ مِنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ *
আমি তাদেরকে কতই না স্পষ্ট নিদর্শনাবলি দিয়েছিলাম। [সূরা বাকারা : ২১১]
﴿وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ﴾ আর তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি থেকে কোনো নিদর্শন তাদের কাছে এলেই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। [সূরা আনআম : ৪]
যে ইলম আপনাকে আল্লাহ-র পথ দেখায়, আল্লাহ-র পরিচয় প্রদান করে, তা-ই উপকারী ইলম।
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ فَهُذَا يَوْمُ الْبَعْثِ وَلَكِنَّكُمْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾ আর যাদেরকে ইলম ও ঈমান দান করা হয়েছে, তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। এটাই তো পনুরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা জানতে না। [সূরা রুম : ৫৬]
কিছু ইলম আছে ঈমানী আর কিছু ইলম আছে কুফরী; কিছু ইলম আছে উপকারী আবার কিছু ইলম আছে অপকারী। যেমন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غُفِلُونَ﴾ তারা শুধু পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে বা চিনে। আর আখেরাত সম্বন্ধে তারা গাফেল। [সূরা রুম: ৭]
بَلِ ادَّرَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّنْهَا بَلْ هُمْ مِّنْهَا عَمُونَ ) বরং আখেরাত সম্বন্ধে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই, তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহে পড়ে আছে, বরং তারা এ বিষয়ে অন্ধ। [সূরা নামল : ৬৬]
ذُلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ * তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই। [সূরা নাজম: ৩০]
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَهُ آيْتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَنُ فَكَانَ مِنَ الْغَوِيْنَ ﴿١٥﴾ وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَهُ بِهَا وَلِكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكُهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِأَيْتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
[হে মুহাম্মাদ!] তুমি তাদেরকে ওই ব্যক্তির ঘটনা শুনিয়ে দাও, যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম। পরে সে সেসব নিদর্শনাবলিকে এড়িয়ে গেছে। ফলে শয়তান তার পিছু নিয়েছে। আর তাই সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। আর আমি যদি চাইতাম, তা হলে তাকে আমি সেসব নিদর্শনাবলি দ্বারা উচ্চ মর্যাদা দান করতাম। কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। অতএব, তার উদাহরণ হল কুকুরের ন্যায়। যদি তুমি তার উপর বোঝা চাপাও, তা হলে সে হাঁপাতে থাকে অথবা যদি তুমি [তার উপর বোঝা না চাপিয়ে] এমনিই ছেড়ে দাও, তা হলেও সে হাঁপাতে থাকে। এ হচ্ছে সে সম্প্রদায়ের উপমা, যারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে। অতএব, তুমি ঘটনা বর্ণনা কর যাতে করে তারা ভেবে দেখে। [সূরা আ'রাফ: ১৭৫-১৭৬]
ইহুদী সম্প্রদায় ও তাদের ইলমের ব্যাপারে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِلُوا التَّوْرِيةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِأَيْتِ اللَّهِ
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পন করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উপমা হল পুস্তকের বিশাল বোঝা বহনকারী গাধার ন্যায়। কতই না নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের উপমা, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। [সূরা জুমআ : ৫]
এটা ইলম, কিন্তু এ ইলম সত্য পথ প্রদর্শনকারী নয়; এটা দলীল, কিন্তু এর দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া যায় না; এটা প্রমাণ, কিন্তু অকাট্য নয়; এটা কালাম, কিন্তু এর কোনো হাকীকত নেই। বরং এ ইলম বিকৃতি, পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর দিকে পথ দেখায়। অতএব, এ ইলমের অধিকারীরা সুখ পাবে কোথায়?
فَاسْتَحَبُّوا الْعَى عَلَى الْهُدَى
অতঃপর তারা হেদায়েতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে পছন্দ করল। [সূরা হা-মীম-সাজদা : ১৭]
وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا
এবং তাদের কথা 'আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত'- বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন- সুতরাং অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া তারা কেউই ঈমান আনবে না। [সূরা নিসা : ১৫৫]
ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের লাইব্রেরিতে প্রত্যেক বিষয়, প্রত্যেক জাতি, প্রত্যেক সম্প্রদায় এবং প্রত্যেক কৃষ্টি-কালচার ও সভ্যতা সম্বন্ধে লক্ষ লক্ষ বই-পুস্তক আছে। কিন্তু যে সম্প্রদায়ের মালিকানায় এ মহামূল্যবান লাইব্রেরি, তারা আল্লাহ-কে অস্বীকার করে। তারা কেবল পার্থিব জগতের প্রকাশ্য ও বাহ্য বিষয়গুলোকেই দেখে। পার্থিব জগতই তাদের কাছে সব। এর বাইরে যা কিছু আছে, তা তারা দেখে না, বোঝে না, শোনে না, উপলব্ধি করে না।
وَ جَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَ أَبْصَارًا وَ أَفْدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْدَتُهُمْ مِّنْ شَيْءٍ
আর আমি তাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তকরণ সৃষ্টি করে দিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের শ্রুতিশক্তি, দর্শনশক্তি ও তাদের হৃদয় তাদের কোনো কাজে লাগেনি। [সূরা আহ্বাফ: ২৬]
চারণভূমি সবুজ-শ্যামল ঘাসে পরিপূর্ণ থাকলে কী হবে, যদি বকরি অসুস্থ থাকে! পানি যতই শীতল ও সুমিষ্ট হোক তাতে কী লাভ হবে, যদি মুখের ভিতরই তিক্ততা থাকে!
كَمْ آتَيْنَهُمْ مِنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ *
আমি তাদেরকে কতই না স্পষ্ট নিদর্শনাবলি দিয়েছিলাম। [সূরা বাকারা : ২১১]
﴿وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ﴾ আর তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি থেকে কোনো নিদর্শন তাদের কাছে এলেই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। [সূরা আনআম : ৪]
📄 বেশি বেশি পড়াশোনা করুন পাশাপাশি গবেষণাও করুন
যে সকল বিষয় মনে সুখ ও শান্তি বয়ে আনে, তার মধ্যে অধিক পরিমাণে পড়াশোনা করা, বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা, অধ্যয়নের পরিধি বিস্তৃত করা এবং গভীর থেকে গভীরতর গবেষণা করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞানীরাই [আলেমরাই] তাঁকে ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
﴿بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ﴾ বরং তারা যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তারা তা অস্বীকার করেছিল। [সূরা ইউনুস: ৩৯]
আলেম তো তিনিই, যার বড় মন ও প্রশস্ত হৃদয় থাকে এবং যিনি আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক তৃপ্তিতে থাকেন।
এক কবি বলেছেন- '[জ্ঞান এমনই জিনিস] তাকে যতই খরচ করবে, ততই তা বৃদ্ধি পাবে। আর যতই হাত গুটিয়ে রাখবে, ততই তা কমতে থাকবে।'
পাশ্চাত্যের এক গবেষক লিখেছেন- 'আমি আমার অফিসের আলমারিতে একটি ফাইল বানিয়ে রেখেছি। তার উপর লেখা আছে 'যে সব বোকামি আমি করেছি'। সারা দিন আমি যেসব বোকামি ও ভুলত্রুটি করে থাকি, তা ওই ফাইলে লিখে রাখি। যাতে সেগুলো দেখে দেখে আমি সংশোধন হতে পারি।
এ ব্যাপারে পূর্বেকার আলেম ও নেককার বান্দাগণ বর্ণিত গবেষকের চেয়েও বহু অগ্রগামী ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দিন-রাতের যাবতীয় কাজকর্ম ও আচার-আচরণের বিবরণ যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে লিখে রাখতেন এবং সে অনুযায়ী নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করতেন।
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ আর আমি তিরস্কারকারী আত্মার শপথ করছি। [সূরা কিয়ামাহ : ২]
হাসান বসরী বলেছেন- 'একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের হিসাব তারচেয়েও বেশি ও কঠিনভাবে রাখে, যেমন কোনো ব্যবসায়ী তার অংশীদারের হিসাব রাখে।'
রবী ইবনে খুসাইম এক শুক্রবার থেকে আরেক শুক্রবার পর্যন্ত যা কিছু বলতেন, তার সবই লিখে রাখতেন। [সপ্তাহান্তে] যদি তাতে কোনো ভালো কথা পেতেন, তা হলে আল্লাহ -র শুকরিয়া আদায় করতেন। আর মন্দ কিছু পেলে আল্লাহ -র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন।
পূর্বের যামানার এক নেককার বান্দা বলেছেন- 'চল্লিশ বছর পূর্বে কৃত একটি গুনাহের জন্য আমি এখনও আল্লাহ র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'
وَالَّذِيْنَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَّقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ আর যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে [আল্লাহর ভয়ে] তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত থাকে। [সূরা মু'মিনূন: ৬০]
সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে দৃষ্টি অবনত করা। আল্লাহ বলেছেন- قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوجَهُمْ ذٰلِكَ أَزْكَى لَهُمْ তুমি মুমিনদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত এবং তারা যেন তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতর পন্থা। [সুরা আননূর: ৩০]
যে সকল বিষয় মনে সুখ ও শান্তি বয়ে আনে, তার মধ্যে অধিক পরিমাণে পড়াশোনা করা, বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা, অধ্যয়নের পরিধি বিস্তৃত করা এবং গভীর থেকে গভীরতর গবেষণা করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞানীরাই [আলেমরাই] তাঁকে ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
﴿بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ﴾ বরং তারা যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তারা তা অস্বীকার করেছিল। [সূরা ইউনুস: ৩৯]
আলেম তো তিনিই, যার বড় মন ও প্রশস্ত হৃদয় থাকে এবং যিনি আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক তৃপ্তিতে থাকেন।
এক কবি বলেছেন- '[জ্ঞান এমনই জিনিস] তাকে যতই খরচ করবে, ততই তা বৃদ্ধি পাবে। আর যতই হাত গুটিয়ে রাখবে, ততই তা কমতে থাকবে।'
পাশ্চাত্যের এক গবেষক লিখেছেন- 'আমি আমার অফিসের আলমারিতে একটি ফাইল বানিয়ে রেখেছি। তার উপর লেখা আছে 'যে সব বোকামি আমি করেছি'। সারা দিন আমি যেসব বোকামি ও ভুলত্রুটি করে থাকি, তা ওই ফাইলে লিখে রাখি। যাতে সেগুলো দেখে দেখে আমি সংশোধন হতে পারি।
এ ব্যাপারে পূর্বেকার আলেম ও নেককার বান্দাগণ বর্ণিত গবেষকের চেয়েও বহু অগ্রগামী ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দিন-রাতের যাবতীয় কাজকর্ম ও আচার-আচরণের বিবরণ যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে লিখে রাখতেন এবং সে অনুযায়ী নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করতেন।
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ আর আমি তিরস্কারকারী আত্মার শপথ করছি। [সূরা কিয়ামাহ : ২]
হাসান বসরী বলেছেন- 'একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের হিসাব তারচেয়েও বেশি ও কঠিনভাবে রাখে, যেমন কোনো ব্যবসায়ী তার অংশীদারের হিসাব রাখে।'
রবী ইবনে খুসাইম এক শুক্রবার থেকে আরেক শুক্রবার পর্যন্ত যা কিছু বলতেন, তার সবই লিখে রাখতেন। [সপ্তাহান্তে] যদি তাতে কোনো ভালো কথা পেতেন, তা হলে আল্লাহ -র শুকরিয়া আদায় করতেন। আর মন্দ কিছু পেলে আল্লাহ -র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন।
পূর্বের যামানার এক নেককার বান্দা বলেছেন- 'চল্লিশ বছর পূর্বে কৃত একটি গুনাহের জন্য আমি এখনও আল্লাহ র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'
وَالَّذِيْنَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَّقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ আর যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে [আল্লাহর ভয়ে] তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত থাকে। [সূরা মু'মিনূন: ৬০]
সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে দৃষ্টি অবনত করা। আল্লাহ বলেছেন- قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوجَهُمْ ذٰلِكَ أَزْكَى لَهُمْ তুমি মুমিনদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত এবং তারা যেন তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতর পন্থা। [সুরা আননূর: ৩০]