📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 আত্মার পরীক্ষার অর্থ

📄 আত্মার পরীক্ষার অর্থ


বন্ধুগণ! সকালসন্ধ্যা আমাদের হৃদয়সমূহের পরীক্ষা হয়ে থাকে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পরীক্ষা হয় হৃদয়ের। আমরা কি এ বিষয়ে অবগত আছি? একটি ভুল এই কলবের জীবন নস্যাৎ করতে পারে এবং বরবাদ করে দিতে পারে যাবতীয় আমল。

আল্লাহ বলেছেন- وَلِيَبْتَلِيَ اللهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ তোমাদের বুকে যাকিছু আছে তা পরীক্ষা করা আল্লাহর ইচ্ছা এবং অন্তরের বিষয় যাচাই করা তাঁর উদ্দেশ্য। আল্লাহ অন্তরের বিষয় জানেন। [সুরা আল ইমরান: ১৫৪]

আল্লাহ আরও বলেছেন- أولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ) তাকওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ এদের অন্তরসমূহের পরীক্ষা নিয়েছেন। এদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহাপুরস্কার। [সুরা হুজরাত: ০২]

এরা কারা, তাকওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ যাদের অন্তরসমূহের পরীক্ষা নিয়েছেন?

এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল মহান দুইজন সাহাবী, আবু বকর সিদ্দীক এবং উমর ইবনুল খাত্তাব -র ব্যাপারে, যখন তাঁরা রসুলুল্লাহ -র দরবারে নিজেদের আওয়াজ বুলন্দ করে ফেলেছিলেন। ইমাম বুখারী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনী তামীমের একটি প্রতিনিধি দল নবীজী -র দরবারে উপস্থিত হল। তখন আবু বকর বললেন-
কা'কা' ইবনে মা'বাদ ইবনে যুরারাকে এদের আমীর নিযুক্ত করে দিন (ইয়া রসুলাল্লাহ!)।

উমর বলে ফেললেন- না; বরং আকরা' ইবনে হাবিসকে আমীর নিযুক্ত করুন।

তখন আবু বকর উমরকে বললেন- তোমার উদ্দেশ্য আমার বিরোধিতা করা।

উমর বললেন- না; আমার উদ্দেশ্য অমন নয়।

এতে কলহ সৃষ্টি হল এবং তাদের আওয়াজ বড় হয়ে গেল। তখন এই আয়াত নাযিল হল- يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সামনে অগ্রণী হয়ো না, এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং জানেন। [সুরা হুজরাত: ০১]

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর কলহ থেমে গেল। [সহীহ বুখারী: হাদীস নং- ৪৩৬৭]

হাঁ, ইসলামে ধর্মে কোন মোসাহেবী নেই- يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَرْفَعُوٓا۟ أَصْوَٰتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِىِّ وَلَا تَجْهَرُوا۟ لَهُۥ بِٱلْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ ঈমানদারগণ! নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে যেরকম উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেরকম উচ্চস্বরে কথা বোলো না। [সুরা হুজরাত: ০২]

এরপর কী বলা হয়েছে?
أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ)

এতে তোমাদের আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে, অথচ তোমরা টেরও পাবে না। [সুরা হুজরাত: ০২]

সুবহানাল্লাহ! কত জটিল কথা। অথচ বেশিরভাগ মানুষ চিন্তাও করে না যে, তাদের আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এই আয়াতে কাদেরকে ধমক দেওয়া হয়েছে? আবু বকরকে, যাঁর ব্যাপারে রসুল বলেছেন-

لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا مِنْ أُمَّتِي لَا تَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ
আমি যদি উম্মতের কাউকে বন্ধু সাব্যস্ত করতাম, তা হলে আবু বকরকে সাব্যস্ত করতাম। [সহীহ বুখারী: হাদীস নং- ৩৯০৪]

আরেক জন হচ্ছেন উমর, যাঁর ব্যাপারে রসুল বলেছেন-

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ قَطُّ سَالِكًا فَجًّا إِلَّا سَلَكَ فَبًّا غَيْرَ فَجَكَ
সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কোন পথে চলতে গিয়ে যদি তোমার সাথে শয়তানের দেখা হয়, তা হলে সে তোমার রাস্তা ছেড়ে অন্য পথ ধরে। [সহীহ বুখারী: হাদীস নং- ৩২৯৪]

কিন্তু তাঁরা দুইজন তওবা করেছিলেন, এস্তেগফার করেছিলেন এবং শপথ কলেছিলেন যে, তারা রসুল-র সাথে কথা বলবেন পরামর্শ দানকারীর মত গুনগুন আওয়াজে।

এখানেই ফলাফলটা বেরিয়ে আসে-

أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ)
তাকওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ এদের অন্তরসমূহের পরীক্ষা নিয়েছেন। এদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মহাপুরস্কার। [সুরা হুজরাত: ০২]
অর্থাৎ তাদের অন্তরগুলোকে আল্লাহ তাকওয়ার জন্য শোধিত করেছেন। এখন সেগুলো শুধু তাকওয়াই লালন করে। [আল্লামা আলুসী এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে লিখেছেন, মানে আল্লাহ তাদের কলবকে তাকওয়ার জন্য পরিশুদ্ধ করে দিয়েছেন; এখন সেখানে তাকওয়া ছাড়া অন্যকিছুর স্থান নেই। কেমন যেন তাদের কলব তাকওয়ার রাজ্য হাসিল করেছে। দেখুন, রুহুল মাআনী: সুরা হুজরাত।]

আমাদের দৃষ্টিতে মুসলিম উম্মাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ দু'জন ব্যক্তি থেকে ঘটে যাওয়া ছোট্ট একটি ঘটনা; তাদের পক্ষ থেকে সংঘটিত সামান্য এক গাফলতকে কেন্দ্র করে একটি সহজ পরীক্ষামাত্র।

কিন্তু আমাদের ব্যাপারে কী বলব?

আমরা যে কত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছি, অথচ আমরা টেরও পাইনি, এর কোন ইয়ত্তা নেই।

এখানে এই আয়াতে অদ্ভুত এক রহস্য আছে, তা হল وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ [অথচ তোমরা টেরও পাবে না।] তার কারণ, অনেক সময়ই মানুষের আমল নষ্ট হয়, অথচ সে টেরও পায় না। সে কল্পনাও করে না যে, তার অমুক অন্যায়টির কারণে তার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে; অথবা তার আমলের কোন ঝুঁকি আছে, একথা সে ভাবেই না।

কত আমল, কত কথা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, অথচ সে তা চিন্তাও করে না।

যদি রসুলুল্লাহ -এর দরবারে উচ্চস্বরে কথা বলা এতদূর গড়ায় যে, আবু বকর, উমর -এর আমল ধ্বংস করে দিবে, তা হলে সেইসব লোকের অবস্থা কী হবে, যারা নিজেদের কণ্ঠ ব্যবহার করে হকের আওয়াজ নির্বাপিত করে? তারা আসলে এমন লোক, যারা তাগুতের বিধিমালাকে আল্লাহ -র শরীয়তের উপর প্রাধান্য দেয়। তারা এমন, যারা সাহায্য করে এবং বন্ধুত্ব করে শয়তানের পথে।

আমরা 'আত্মার পরীক্ষা' কথাটির অর্থ আরও পরিষ্কার করে বুঝবার জন্য একটি মহান হাদীস পড়তে পারি, যেটি হোযায়ফা ইবনুল য়ামান নবী করীম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবীজী বলেছেন- تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ وَ أَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى تَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ عَلَى أَبْيَضَ مِثْلِ الصَّفَا فَلا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالآخَرُ أَسْوَدُ مُرْبَادًا كَالْكُوزِ مُجَنِّيًا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهُ.

মানুষের অন্তরে ফেতনা পেশ করা হয় চাটাইয়ের বাতার মত একের পর এক। তারপর যেই অন্তরটি তা আকড়ে ধরে গ্রহণ করে, তার মধ্যে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তরটি তা গ্রহণ করে না, তার মধ্যে সাদা দাগ পড়ে। তারপর উভয় অন্তরের দাগ- সাদাটি হয় একেবারে শ্বেত পাথরের মত। তখন আসমান-জমীন থাকা পর্যন্ত কোন ফেতনা তার ক্ষতিসাধন করতে পারে না। আর অপরটি হয়ে যায় ঘুটঘুটে কালো ভাঙা মগের মত। সে কোন ভালো বিষয় উপলব্ধি করতে পারে না এবং প্রবৃত্তিস্থিত বিষয় বাদে কোন গর্হিত বিষয় অগ্রাহ্য করতে পারে না। [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ৩৮৬]

আল্লাহ আমাদের অন্তরসমূহ সাদা করে দিন এবং গুনাহখাতা, দোষত্রুটি এবং শকসন্দেহ থেকে পবিত্র করে দিন। হাদীসে ফেতনা পেশ করার কথা (تُعْرَضُ) সাধারণ বর্তমানকাল-জ্ঞাপক পদে ব্যক্ত করা হয়েছে। এখানে সেটি বালা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবিরামতার প্রতি ইঙ্গিত করছে। এই ফেতনাগুলো একবারে পেশ হয় না; বরং অল্প অল্প করে পেশ হয় এবং কলব পুরো কালো হয়ে যায়। নাউযু বিল্লাহ। অথবা আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখেন এবং সে পরীক্ষায় সফল হয়। তখন কোন ফেতনা আসমান-জমীন থাকা পর্যন্ত তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 লক্ষণীয়

📄 লক্ষণীয়


শাইখুল আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলছেন, নক্স মানুষকে আহ্বান করে না-ফরমানী এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে; আর আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ডাকেন তাঁকে ভয় করা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে নক্সকে বারণ করার দিকে। কলব এই দুই আহ্বায়কের মাঝে অবস্থান করে থাকে। এটাই হচ্ছে ফেতনা ও পরীক্ষার ক্ষেত্র।

এখানে লক্ষ করার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। তা হল দাওয়াত এবং ইলম হাসিলের মহানব্রতে নিয়োজিত কিছু কিছু মানুষ ধারণা করে থাকেন যে, চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে দৈহিক নির্যাতন- যেমন, জেল, জুলুম, বন্দীত্ব এবং খুন ইত্যাদি। অথবা পরোক্ষা নির্যাতন- যেমন, সমাজের বয়কট, তার ডাকে সাড়া না দেওয়া, ঠাট্টা-বিদ্রূপ ইত্যাদি। এমনটা ধারণা করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তাৎপর্যকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। কত মানুষ দৈহিক জুলুম-নির্যাতনের পরীক্ষায় সফল হয়; কিন্তু আত্মার পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়ে যায়। এজন্য পরিপক্ক ইলমের অধিকারীগণ দোআ করে থাকেন-

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
হে আমাদের রব! আমাদেরকে সত্যপথ দেখানোর পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্য লঙ্ঘনে প্রবৃত্ত কোরো না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে দান করো রহমত। নিশ্চয় তুমি মহান দাতা। [সুরা আল ইমরান: ০৮]

এখানে আমরা 'আত্মার পরীক্ষা' সম্পর্কিত ভূমিকা শেষ করব। তবে এখানে মুমিনদেরকে আল্লাহ -র পক্ষ থেকে সূক্ষ্ম ভয় মিশ্রিত এই দাওয়াতটি পেশ করছি-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ)

ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসুলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে ডাকেন, যার মধ্যে রয়েছে তোমাদের জীবন। জেনে রেখো, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে থাকেন। বস্তুত তাঁর কাছেই সমবেত হবে। [সুরা আনফাল: ২৪]

আল্লাহ -র কাছে আমরা কামনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে আল্লাহ ও রসুলের ডাকে সাড়া দিতে তৌফীক দেন এবং সাহায্য করেন। তৌফীক দিন যাতে আমাদের জীবন আছে, সেটা কবুল করতে এবং আমাদের ও আমাদের অন্তরের মাঝে যেন অন্তরায় সৃষ্টি না হয়, সে জন্য। তিনি এর মালিক এবং তিনি একাজে সক্ষম।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 কলব আক্রমণকারী রোগব্যাধি

📄 কলব আক্রমণকারী রোগব্যাধি


ছোট্ট একটি টুকরো কলব; কিন্তু তার কর্মকাণ্ড বড় আজব কিসিমের। এই কলবের সাথে তুলনা করা যেতে কেবল সাগরের সাথে, আমরা যার শুধু উপরস্থিত অংশই বাহ্যিকভাবে দেখতে পাই। অথচ বাস্তবে সেটা স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জগৎ। তার মধ্যে আছে নানা প্রজাতির জীবজন্তু এবং আজবসব উদ্ভিদ। সাগরবিশেষজ্ঞদের যেগুলো বোকা বানিয়ে দিয়েছে।

এই কলবও তেমনই। কেননা, যে ব্যক্তি এই কলব নিয়ে যথাযথ চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে, কলবে যেসব অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সে কারণে মানব ব্যক্তিত্বে অবস্থা, মান ও বিশেষণে যে তফাত লক্ষ করা যায়, সেগুলো অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। এই যা বললাম, তা হল এই ক্ষুদ্র ও বিশাল কলবের সিন্ধু থেকে বিন্দুমাত্র।

কলবকে যেসব রোগব্যাধি আক্রমণ করে, সেগুলো সম্পর্কে কিছু কুরআনিক ইঙ্গিত এখানে তুলে ধরছি। সেগুলো হচ্ছে যেমন, গাফলত, অন্ধতা, বক্রতা, বিবর্তন, ঘৃণাবোধ, আবদ্ধতা, পাষণ্ডতা, অবহেলা, লৌকিকতা, কপটতা, হিংসা এবং আরও অনেক কিছু।

সুবহানাল্লাহ! এগুলো সবই কি কলবকে আক্রমণ করে? হাঁ; এবং এর চেয়েও বড় কিছু ব্যাপার আছে।

**ফলাফল**
ফলাফল হচ্ছে এই যে, এই আক্রমণের পর কলব মোহর, তালাবদ্ধতা এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং মানুষ প্রতিরোধ-ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন তার অন্তর কালো হয়ে যায়।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 সুস্থ অন্তরের কিছু অবস্থা ও গুণাবলি

📄 সুস্থ অন্তরের কিছু অবস্থা ও গুণাবলি


যে রকম এই কলব কিছু রোগব্যাধির মুখোমুখি হয়, তেমনই কিছু ঈমানী বৈশিষ্ট্য এবং বন্দেগীর বিভিন্ন স্তরের প্রশংসনীয় কিছু গুণাবলিও এই কলব অর্জন করে থাকে। যেমন, নম্রতা, নমনীয়তা, একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, আল্লাহ -এর জন্য ভালোবাসা, খোদাভীতি, দৃঢ়তা, ভয়, আশা, তওবা ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছু।

**ফলাফল**
ফলাফল সুস্থতা- إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبِ سَلِيمٍ তবে যে ব্যক্তি সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। [সুরা শুআরা: ৭৮-৭৯], সঞ্জীবন, ঈমান এবং সাদা অন্তরের অধিকারী হওয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00