📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম রহ.

📄 ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম রহ.


তার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনা, যার কারণে বাদশা আইয়ুবের সাথে তার সংঘাত হয়েছিল, তা হচ্ছে- তিনি যখন মিশরে বসবাস করছিলেন, তখন প্রকাশ পেল যে, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও বড় বড় পদের ব্যক্তিরা সকলেই গোলাম। পূর্বে মালিক নাজমুদ্দীন আইয়ুব তাদেরকে ক্রয় করেছিল। একারণে তাদের উপর গোলাম বা দাসের বিধান কার্যকর হবে। স্বাধীনদের উপর তাদের নেতৃত্ব বৈধ নয়। তাই তিনি স্পষ্টভাবে তার ফাতওয়া প্রকাশ করেন যে, তাদের নেতৃত্ব জায়েয হবে না; কারণ তারা গোলাম। সমগ্র মিশর সেই সকল আমিরদের ক্রোধে জ্বলে উঠল, যারা প্রতিটি উচু উচু পদে সমাসীন ছিল। এমনকি সরাসরি সুলতানের নায়েব ও দাসদের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তারা শায়খ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালামের নিকট আসল। তারা তাকে এই ফাতওয়া থেকে বিরত করার চেষ্টা করল। তারপর তাকে হুমকি ধমকি দিল। কিন্তু তিনি এসকল হুমকি ধমকি প্রত্যাখ্যান করলেন। অথচ তিনি দামেশক থেকে ভীষণ নিপীড়ন সহ্য করে এখানে (মিশরে) এসেছিলেন। কিন্তু তিনি তার জীবনে হক কালিমার বিকল্প কিছু খুঁজে পাননি। তাই বিষয়টি মালিক আইয়ুবের নিকট উত্থাপন করা হয়। বাদশা শায়খের কথাকে অসম্ভব মনে করে তা প্রত্যাখ্যান করল। আর বলে দিল, এ ব্যাপারে কথা বললে তা ক্ষমাযোগ্য হবে না। তাই শায়খ বুঝতে পারলেন যে, তার কথা শোনা হবে না। এজন্য তিনি বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তিনি শুধু ফাতওয়া প্রদানকারী হয়ে বসে থাকলেন না; কারণ তিনি জানেন যে, যেমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা তাকে তার কথা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন, তেমনিভাবে তার নিরবতা সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করবেন। এখানে শায়খ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালামের বীরত্ব প্রকাশ পায়। অতঃপর এই আল্লাহভীরু আলেম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, তিনি সকল সামাজিক অবস্থান, সম্পদ, নিরাপত্তা, বরং পুরো দুনিয়াকে কুরবানী করে উঁচু পদ থেকে সরে পড়বেন।

শায়খ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম তার গাধায় আরোহন করলেন এবং তার পরিবারবর্গকে আরেকটি গাধায় আরোহন করালেন। অম্লান বদনে কায়রো থেকে চিরতরে বের হয়ে যাওয়ার এবং কোন অখ্যাত জনপদে বসবাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। যেহেতু তার ফাতওয়া শোনা হচ্ছে না, তাই তিনি সকলের থেকে পৃথক হয়ে যাবেন। কিন্তু উলামাদের মূল্য অনুধাবনকারী মিশরের জনগণ এ বিষয়টি মানতে পারল না। শায়খের পিছনে পিছনে মিশরের হাজার হাজার আলেম, নেককার, ব্যবসায়ী, নারী-পুরুষ ও শিশুরাও বের হয়ে পড়ল। শায়খের সমর্থনে এবং তার বিরোধীদের প্রত্যাখ্যান করে। বাদশা নাজমুদ্দীন আইয়ুবের নিকট অসংখ্য সংবাদ পৌছতে লাগল। বাদশা দৌড়ে এল শায়খ ইজ্জুদ্দীনের পিছ পিছ তাকে সন্তুষ্ট করাতে। কিন্তু শায়খ তো তার ফাতওয়া কার্যকর করার আগে রাজি হবেন না। তিনি বললেন-

“তুমি যদি চাও, এ সকল আমিররা স্ব স্ব পদের অধিকারী হবে, তাহলে অবশ্যই এদেরকে বিক্রি করবে। অতঃপর যে এদেরকে ক্রয় করবে, সে আযাদ করবে। আর যেহেতু পূর্বে এসকল আমিরদের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে মুসলমানদের বায়তুল মাল থেকে, তাই এখন এদের বিক্রয় মূল্যও মুসলমানদের বায়তুল মালে ফেরত দিতে হবে।”

নাজমুদ্দীন আইয়ুব শায়খের কথায় একমত হল এবং এই বাহাদুর শায়খের কথার প্রতি নত হল, যিনি আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে পরওয়া করেননি। শায়খ নিজেই সরাসরি আমিরদের বিক্রয়ের দায়িত্ব নিলেন, যাতে কোন ধরণের তামাশা না হয়। শায়খ আমিরদেরকে একজনের পর একজন নিলামে উঠাতে লাগলেন এবং তাদের মূল্য বাড়াতে লাগলেন। জনগণও নিলামে অংশগ্রহণ করল। অবশেষে যখন মূল্য অনেক বেড়ে গেল, তখন বাদশা নাজমুদ্দীন তার ব্যক্তিগত মাল থেকে আমিরদেরকে ক্রয় করলেন। অতঃপর আযাদ করে দিলেন। আর উক্ত মাল বায়তুল মালে জমা করলেন। এভাবে ঐসকল আমিরদেরকে বিক্রি করা হল, যারা মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, সামরিক বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগে নেতৃত্ব দিত। সেদিন থেকেই শায়খ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম আমিরদের বিক্রিকারী নামে খ্যাতি লাভ করেন।

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 সায়্যিদ কুতুব রহ.

📄 সায়্যিদ কুতুব রহ.


শাসক জামাল আব্দুন নাসের যখন তাকে তার সেই মত থেকে ফেরাতে চেষ্টা করল, যা তিনি তার বিরুদ্ধে পোষণ করতেন, তখন তিনি তার সেই প্রসিদ্ধ উক্তিটি করেছিলেন-
“যে শাহাদাত আঙ্গুল নামাযের মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছে, তা এমন একটি অক্ষরও লিখতে পারবে না, যাতে তাগুতের শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।”
আমাদের যামানায় কত শায়খ ও আলেম এই হক কথাটির কারণে তাগুতদের কারাগারে বন্দী হয়ে আছেন!

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 উসামা বিন লাদেন রহ.

📄 উসামা বিন লাদেন রহ.


যিনি সেই সকল কুফরী জাতি ও তাগুতী শাসনব্যবস্থাসমূহের একমাত্র টার্গেট ও লক্ষ্য হয়ে গিয়েছিলেন, যারা হোয়াইট হাউসের 'পাহারাদার কুকুরের' ভূমিকা পালন করছে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাকে শহীদদের সাথে কবুল করুন। যুগে যুগে যত মহাপুরুষগণ আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের জন্য কারারুদ্ধ হয়েছেন, হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের সকলের কথা যদি লিখতে যাই, তাহলে আমার মনে হয় না যে, আমি তাদের গুণে শেষ করতে পারবো। কারণ তাদের সংখ্যা কয়েকটি বই বা কয়েকটি খণ্ডে লিখে শেষ করার চেয়েও বেশি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আল্লাহ আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত করুন, যারা আল্লাহর দ্বীনের উপর অবিচল থেকেছেন এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তার পথে ডেকেছেন।

পরিশেষে আমি বলবো- নিশ্চয়ই শক্তিমান মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিন অপেক্ষা প্রিয় ও উত্তম। আর বীরত্ব এমনই একটি বৈশিষ্ট্য, একমাত্র ঐ সকল শক্তিমান লোকেরাই তাতে অলংকৃত হতে পারে, যারা স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশীল। কাপুরুষতা ও ভীরুতা যাদের পেশা নয় এবং ধ্বংসশীল দুনিয়ার প্রতি যারা ঝুঁকে পড়েনি। তাই বীরত্ব মানুষের সাথে উদ্ভিদের ন্যায় বেড়ে উঠে, বৃদ্ধি পায়। যখন একজন ব্যক্তি তার প্রতি গুরুত্ব দেয়, তার যত্ন নেয় এবং তার হক যথাযথভাবে আদায় করে, তখন তা তার সাথে সাথে বেড়ে উঠে, বড় হয় এবং উক্ত ব্যক্তির মর্যাদা উচু হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00