📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 আমি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলবো

📄 আমি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলবো


আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন, আপনাদের আদর্শ হোক আল্লাহর রাসূল ﷺ, যিনি কোমলতাকে ভালবাসতেন।
যেমন আমাদের মাতা আয়েশা রা. বলেছেন-
مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا، مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا، فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ.
"যখনই রাসূল ﷺ-কে দু'টি বিষয়ের একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেওয়া হত, তখন রাসূল ﷺ দু'টির মধ্যে তুলনামূলক সহজটি গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না তা গুনাহ হত। আর যদি গুনাহ হত, তখন তিনিই তার থেকে সর্বাধিক দূরে থাকতেন।” [সহিহ বুখারি- ৩৫৬০]

আয়েশা রা. আরও বলেন-
مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ، وَلَا امْرَأَةً، وَلَا خَادِمًا، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٍ قَطُّ، فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ، إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ، فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
"রাসূল ﷺ কখনো নিজ হাতে কাউকে প্রহার করেননি। কোন স্ত্রীকেও নয়; কোন খাদেমকেও নয়। তবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হলে ভিন্ন কথা। কখনো তাকে কোন কষ্ট দেওয়ার কারণে তিনি কষ্ট দানকারী থেকে তার প্রতিশোধ নেননি। তবে আল্লাহর কোন বিধানের অমর্যাদা করা হলে তিনি মহান আল্লাহর জন্য তার প্রতিশোধ নিতেন।" [সহিহ মুসলিম- ২৩২৮]

সুতরাং আমাদের নবী যেখানে বীরত্ব দেখানো উচিত, সেখানে কঠিন বীর ছিলেন আর যে স্থানে বীরত্ব দেখানো আবশ্যক নয়, সেখানে ছিলেন দয়াবান, কোমল ও বিনম্র। তাই শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং চিন্তা করুন। বীরত্বের সীমারেখার ব্যাপারে যা কিছু বলা আবশ্যক মনে হয়েছিল, তা আলোচনা করার পর এখন আমি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বীরত্বের একটি উজ্জল বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবো, যে বৈশিষ্ট্যর সবচেয়ে বড় ও পূর্ণ অংশটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাঝে বিদ্যমান ছিল। আর তা তো থাকবেই, কারণ তিনি হলেন আদম সন্তানের সরদার।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে জিহাদে যখন যুদ্ধের আগুন চরম উত্তপ্ত হত, তখন সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতেন। তিনি শত্রুর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকতেন। দৃঢ়পদ থাকতেন। নিজ সাথীদেরকে দৃঢ়পদ রাখতেন এবং তাদের সাহস ও উদ্যমতা বাড়িয়ে তুলতেন। শত্রুর বিশালতা ও সংখ্যাধিক্য তাকে প্রভাবিত করত না। আর তিনি তার সাহাবাদের মাঝেও এই গুণ সৃষ্টি করেন। রাসূল ﷺ এর সকল বীরত্বের ঘটনাগুলো উল্লেখ করতে চাইলে কয়েক খণ্ড কিতাবের প্রয়োজন হবে, তাই আমি শুধু উপদেশ গ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বীরত্বের ঘটনাবলী থেকে দু'টি ঘটনা বর্ণনা করবো-

হযরত আনাস বর্ণনা করেন-
وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَانْطَلَقَ نَاسٌ قِبَلَ الصَّوْتِ، فَتَلَقَّاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاجِعًا، وَقَدْ سَبَقَهُمْ إِلَى الصَّوْتِ، وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لِأَبِي طَلْحَةَ عُرْيَ، فِي عُنُقِهِ السَّيْفُ وَهُوَ يَقُولُ: «لَمْ تُرَاعُوا، لَمْ تُرَاعُوا.
“এক রাতে মদীনাবাসী ভীষণ ভয় পেল। সকল মানুষ একটি আওয়াযের দিকে ছুটলো। কিন্তু তারা দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ ﷺ সেখান থেকে ফিরছেন। তিনি সবার আগেই আওয়াযের দিকে চলে গিয়েছিলেন। তিনি আবু তালহা ইবনে আরির ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন আর তার গর্দানে ছিল তরবারী। তিনি বলছিলেন- কোন ভয় নেই, কোন ভয় নেই।” [সহিহ মুসলিম- ২৩০৭]

আবু ইসহাক রহ. বর্ণনা করেন, তিনি বলেন-
سَمِعْتُ البَرَاءَ، وَسَأَلَهُ رَجُلٌ أَكُنْتُمْ فَرَرْتُمْ يَا أَبَا عُمَارَةَ يَوْمَ حُنَيْنٍ؟ قَالَ: لَا وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنَّهُ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ، وَأَخِفَّاؤُهُمْ حُسْرًا لَيْسَ سلاح، فَأَتَوْا قَوْمًا رُمَاةٌ، جَمْعَ هَوَازِنَ، وَبَنِي نَصْرٍ، مَا يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهُمْ، فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ، فَأَقْبَلُوا هُنَالِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ البَيْضَاءِ، وَابْنُ عَمِيْهِ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ الحَارِثِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ يَقُودُ بِهِ، فَنَزَلَ وَاسْتَنْصَرَ، ثُمَّ قَالَ: أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ المُطَّلِبْ»، ثُمَّ صَفِّ أَصْحَابَهُ.
"আমি বারা'কে শুনেছি, জনৈক লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু ওমায়রা! তোমরা কি হুনায়নের যুদ্ধের দিন পলায়ন করেছিলে? তিনি বললেন- না, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ ﷺ পলায়ন করেননি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কিছু যুবক ও কম বয়সী সাহাবী খালি হাতে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় বের হল। তারা হাওয়াযিন ও বনু নাসর এর একটি তীরন্দায বাহিনীর কাছে এসে পড়ল, যাদের প্রায় একটি তীরও লক্ষ্যভ্রষ্ট হত না। ফলে তারা প্রায় অব্যর্থভাবে তাদেরকে নিশানা বানাতে লাগল। তখন রাসূল ﷺ সেখানে আসলেন, তিনি তার সাদা খচ্চরে আরোহী ছিলেন। তার চাচাত ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তা টেনে নিচ্ছিল। তারপর তিনি নীচে নেমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করলেন- "আমি নবী; মিথ্যাবাদী নই, আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান।” তারপর তার সাথীদেরকে কাতারবদ্ধ করলেন।" [সহিহ বুখারি- ২৯৩০]

এখানে সেই বীজের কথাও আলোচনা করা আবশ্যক, যে বীজ আমাদের প্রিয় রাসূল ﷺ তাঁর সাহাবা ও উম্মতের আলেমদের মাঝে রোপন করেছেন। প্রথমে শুরু করছি রিবয়ী ইবনে আমেরকে দিয়ে-

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 রিবয়ী ইবনে আমের ؓ

📄 রিবয়ী ইবনে আমের ؓ


রিবয়ী ইবনে আমের রা.। সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. রিবয়ী ইবনে আমেরকে কাদিসিয়ায় পারস্য সেনাবাহিনীর সেনাপতি ও আমির রুস্তমের নিকট দূত হিসাবে প্রেরণ করেন। তিনি রুস্তমের দরবারে প্রবেশ করলেন। পারসিরা তার মজলিসকে স্বর্ণখচিত গদি ও রেশমের গালিচা দিয়ে সুসজ্জিত করল।

দামি দামি মণি মুক্তা ও সাজ-সজ্জার প্রদর্শনী আয়োজন করল আর তার মাথায় শোভা পাচ্ছিল রাজ মুকুট। এছাড়াও আরো দামি দামি বস্ত্ররাজী ছিল। সে তার সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিল। রিবয়ী ইবনে আমের মোটা কাপড়, ডাল, তরবারী ও শীর্ণকায় অশ্ব নিয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি তাতে আরোহী অবস্থায়ই গালিচার উপর দিয়ে চলতে লাগলেন। অতঃপর সওয়ারী থেকে অবতরণ করে সিংহাসনের একটি খুটির সাথে তা বাঁধলেন। তিনি সামনে এগুতে লাগলেন। তার গায়ে যুদ্ধের পোষাক ও অস্ত্র। মাথায় শিরস্ত্রাণ। তারা বলল, অস্ত্র খুলুন। তিনি বললেন, আমি নিজে তোমাদের নিকট আসিনি; তোমাদের আহ্বানের কারণে এসেছি। তাই যদি এভাবে আসতে দাও, তাহলে আসতে পারি, অন্যথায় আমি ফিরে যাই। তখন রুস্তম বলল, তাকে আসতে দাও। তারপর তিনি বর্ষার উপর ভর দিয়ে কার্পেটের গায়ে খোচা দিতে দিতে অগ্রসর হলেন। এভাবে কার্পেটের অধিকাংশটাই ফোঁড়া করে দিলেন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল- তোমরা কিজন্য এসেছো? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাদেরকে প্রেরণ করেছেন, যেন আমরা আল্লাহ যাদের চান তাদেরকে বান্দাদের ইবাদত থেকে বের করে আল্লাহর ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে এবং বহুধর্মের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে নিয়ে আসি। তাই তিনি আমাদেরকে তার দ্বীন দিয়ে তার সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন, যেন আমরা তাদেরকে তার দিকে আহ্বানকরি। অতঃপর যে তা কবুল করে, আমরা তার থেকে তা গ্রহণ করে ফিরে যাই আর যে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে সর্বদা যুদ্ধ চালিয়ে যাই। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া লি ইবনে কাসীর]।

এটাই হল সেই বীরত্ব, যার ফলে তিনি ক্ষমতা, রাজত্ব ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে ভয় করেননি। এটা হচ্ছে সত্য বীরত্ব ও শক্তি, যা আল্লাহ প্রদত্ত ও তার সাহায্যপ্রাপ্ত।

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 আবু বকর ؓ

📄 আবু বকর ؓ


যদিও এই ঘটনাটি পূর্বে 'দৃঢ়তা' পর্বে উল্লেখ করেছি, তথাপি এখানেও পুনরাবৃত্তি করছি। ঘটনাটিতে অনেক উপদেশ ও শিক্ষা রয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে তার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। আবু বকর মুরতাদ ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধসমূহে আল্লাহর উপর ভরসা করে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের খুঁটিগুলো দৃঢ় করেন, তাকে সুরক্ষিত করেন এবং তাকে ফাটল ও বিভক্তি থেকে রক্ষা করেন। এমনকি কিছু মুসলিম তাকে বলেছিল- হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! সমগ্র আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি আপনার নেই। আপনি নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকুন আর মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত আপনার রবের ইবাদতে নিয়োজিত থাকুন। কিন্তু সদা ক্রন্দনকারী, নম্র, মহানুভব ও কোমল হৃদয়ের লোকটি এক মুহূর্তের মধ্যে তেজস্বী সিংহে পরিণত হয়ে গেলেন। উমর ইবনুল খাত্তাবের ব্যাপারে বজ্র কন্ঠে বললেন- জাহিলিয়াহের সময় দাপটশালী আর ইসলামের মধ্যে ভীরু হয়ে গেলে? নিশ্চয়ই ওহী পরিপূর্ণ ও শেষ হয়ে গিয়েছে... তাই কিভাবে আমি জীবিত থাকতে দ্বীনের ক্ষতি হতে পারে? আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ এর যামানায় যে উটের রশির যাকাত দিত, আজ যদি তা থেকেও বিরত থাকে, তাহলে আমি এর জন্যও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।

মুহাম্মাদ ইবনে আকিল ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
خَطَبَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ أَخْبِرُونِي بِأَشْجَعِ النَّاسِ؟ قَالُوا أَوْ قَالَ قُلْنَا أَنْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَ أَمَا إِنِّي مَا بَارَزْتُ أَحَدًا إِلَّا انْتَصَفْتُ مِنْهُ، وَلَكِنْ أَخْبِرُونِي بِأَشْجَعِ النَّاسِ قَالُوا لَا نَعْلَمُ، فَمَنْ؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّهُ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ جَعَلْنَا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَرِيشًا فَقُلْنَا مَنْ يَكُونُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلًا؟ يَهْوِي إِلَيْهِ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَوَ اللَّهِ، مَا دَنَا مِنْهُ إِلَّا أَبُو بَكْرٍ شَاهِرًا بِالسَّيْفِ عَلَى رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَهْوِي إِلَيْهِ أَحَدٌ إِلَّا أَهْوَى عَلَيْهِ فَهَذَا أَشْجَعُ النَّاسِ فَقَالَ عَلِيٌّ وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخَذَتْهُ قُرَيْشُ فَهَذَا يَجَؤُهُ وَهَذَا يُتَلْتِلُهُ وَهُمْ يَقُولُونَ أَنْتَ الَّذِي جَعَلْتَ الْآلِهَةَ إِلَهَا وَاحِدًا قَالَ فَوَاللَّهِ مَا دَنَا مِنْهُ أَحَدٌ إِلَّا أَبُو بَكْرٍ، يَضْرِبُ هَذَا وَيُجَاءُ هَذَا وَيُتَلْتِلُ هَذَا وَهُوَ يَقُولُ وَيْلَكُمْ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ، ثُمَّ رَفَعَ عَلِيٌّ بُرْدَةً كَانَتْ عَلَيْهِ، فَبَكَى حَتَّى اخْضَلَّتْ لِحْيَتُهُ ثُمَّ قَالَ أُنْشِدُكُمْ بِاللَّهِ أَمُؤْمِنُ آلِ فِرْعَوْنَ خَيْرٌ أَمْ أَبُو بَكْرٍ فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَقَالَ أَلَا تُجِيبُونِي فَوَاللَّهِ لَسَاعَةٌ مِنْ أَبِي بَكْرٍ خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الْأَرْضِ مِنْ مُؤْمِنٍ آلِ فِرْعَوْنَ ذَاكَ رَجُلٌ كَتَمَ إِيمَانَهُ وَهَذَا رَجُلٌ أَعْلَنَ إِيمَانَهُ.

“আলী ইবনে আবি তালিব আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আপনারা বলুন তো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বীর কে? তারা বলল, আমরা জানি না, কে? তিনি বললেন, আবু বকর সিদ্দীক। আমরা বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ এর জন্য একটি মাচা বানালাম। অতঃপর আমরা ঘোষণা দিলাম: কে আছে, রাসূলুল্লাহ এর সাথে থাকবে, যেন কোন মুশরিক তার কাছে ঘেষতে না পারে। আল্লাহর শপথ! তখন আমদের মধ্য থেকে কেউ তার নিকট এগিয়ে আসেনি; একমাত্র আবু বকর এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি কাউকে আঘাত করেন, কাউকে ঠেকিয়ে দেন এবং কাউকে পাল্টা আক্রমণ করেন। আর তিনি বলতে থাকেন, ধ্বংস তোমাদের জন্য! তোমরা একজন লোককে এই জন্য হত্যা করতে চাচ্ছো যে, সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তারপর আলী তার গায়ে থাকা চাদরটি উপরে উঠান। তারপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে তার দাড়ি ভিজিয়ে ফেলেন। তারপর আলী বলেন- আমি আপনাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- আপনারা বলুন তো, ফেরাউন বংশের সেই মুমিন ব্যক্তি উত্তম, না আবু বকর উত্তম? বর্ণনাকারী বলেন, সবাই চুপ থাকলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি আমাকে উত্তর দিবে না? আল্লাহর শপথ! আবু বকরের একটি মুহূর্ত ফেরাউন বংশের সেই মুমিনের মত দুনিয়া ভরা লোকের চেয়ে উত্তম। সেই ব্যক্তি তার ঈমান গোপন করত আর তিনি তার ঈমানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। "[মুসনাদুল বাযযার- ৭৬১]

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 উমার ফারুক ؓ

📄 উমার ফারুক ؓ


তিনি ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথেই তার বীরত্ব ও বাহাদুরি প্রকাশ করেন। তার প্রচণ্ড আগ্রহ হল মক্কায় ইসলামকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে এবং মুশরিকদের মুখোমুখী হতে। অথচ ইতিপূর্বে মুসলিমগণ মানুষের কাছে যেত গোপনে গোপনে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কেন আমাদের দ্বীনকে গোপন করব, অথচ আমরা হকের উপর আছি, আর তারা হল বাতিল? রাসূলুল্লাহ বললেন- আমরা সংখ্যায় স্বল্প আর আমরা কি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি তা তো তুমি দেখেছো। তখন উমার বললেন, সেই প্রভুর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যত মজলিসে আমি কুফরী নিয়ে বসেছিলাম, এখন আমি প্রতিটি মজলিসে ঈমান নিয়ে বসব। তারপর রাসূল মুসলমানদেরকে দু'টি কাতারবদ্ধ করে কা'বার দিকে রওয়ানা দিলেন। এক কাতারে হামযা, অন্য কাতারে উমার। [ঘটনাটি আবু নুআইম, ইবনে আসাকির ও ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন]

তিনি যখন হিজরত করার ইচ্ছা করলেন, তখন কুরাইশের একটি সভার মধ্যে ঘোষণা দিলেন, যে তার মাকে সন্তানহারা করতে চায়, নিজ সন্তানকে ইয়াতীম করতে চায়, সে যেন এই উপত্যকার অপর পাশে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তখন কেউ তার পিছনে যেতে সাহস করেনি। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, যখন থেকে উমার ইসলাম গ্রহণ করল, তখন আমরা সর্বদাই দাপটশালী থেকেছি। [ঘটনাটি ইবনে আসাকির ও ইবনুল আছির উল্লেখ করেছেন]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00