📄 আবু বকর সিদ্দিক ؓ
নবীদের পরে যে ব্যক্তি সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছিলেন, তিনি হলেন আবু বকর রাঃ।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রহ. বলেন- আবু বকর রাঃ নবীদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ওলী ও তাওয়াক্কুলকারী। তিনি তার সমুদয় সম্পদ খরচ করেছিলেন। নবী ﷺ তাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো? তিনি বলেছেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে রেখে এসেছি। এতদসত্ত্বেও তিনি কারো থেকে সদকা, গণিমতের অর্থ, মান্নতের অর্থ ইত্যাদি কোন কিছুই গ্রহণ করতেন না। তিনি নিজ উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু যে সমস্ত লোকেরা তাওয়াক্কুলের দাবি করে এবং আবু বকর সিদ্দীক রাঃ-এর অনুসরণের দাবি করতঃ নিজের সমস্ত সম্পদ ব্যয় করে দেয়, অথচ আবার কখনো চেয়ে, কখনো চাওয়া ছাড়া মানুষ থেকে অর্থ গ্রহণ করে, তাদের এ অবস্থা কখনো আবু বকর -এর অবস্থার মত নয়। আবু বকর -এর ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে আল্লাহ তা'আলার বাণী-
وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّى.
“এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে। যে আত্মশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে।" [সুরা লাইল- ১৭, ১৮]
ইবনুল জাওযী রহ. বলেন- আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতটি আবু বকর এর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন-
مَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ، مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: هَلْ أَنَا وَمَالِي إِلَّا لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟
"কোন সম্পদ আমাকে কখনো এতটা উপকার করেনি, যতটা আবু বকরের সম্পদ আমাকে উপকৃত করেছে। একথা শুনে আবু বকর কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ও আমার সম্পদ তো আপনার জন্যই!” [মুসনাদে আহমাদ- ৭৪৪৬]
📄 উসমান ইবনে আফফান ؓ
যিনি তাবুকের সেনাবাহিনীর খরচ বহন করেছিলেন, রূমা কূপ ক্রয় করেছিলেন এবং নিজের খাঁটি মাল দিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণ করেছিলেন।
সুমামা ইবনে হাযান আল-কুশায়রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
شَهِدْتُ الدَّارَ يَوْمَ أُصِيبَ عُثْمَانُ، فَاطَّلَعَ عَلَيْهِمُ اطَّلَاعَةً، فَقَالَ ادْعُوا لِي صَاحِبَيْكُم اللَّذَيْنِ أَلْبَاكُمْ عَلَيَّ فَدُعِيَا لَهُ فَقَالَ: نَشَدْتُكُمَا اللَّهَ أَتَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ ضَاقَ الْمَسْجِدُ بِأَهْلِهِ فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِي هَذِهِ الْبُقْعَةَ مِنْ خَالِصِ مَالِهِ، فَيَكُونَ فِيهَا كَالْمُسْلِمِينَ وَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ خَالِصٍ مَالِي، فَجَعَلْتُهَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُكُما اللَّهَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِثْرٌ يُسْتَعْذَبُ مِنْهُ إِلا رُومَةَ، فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ يَشْتَرِيهَا مِنْ خَالِصِ مَالِهِ، فَيَكُونَ دَلْوُهُ فِيهَا كَدُلِي الْمُسْلِمِينَ، وَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ خَالِصِ مَا لِي فَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي صَاحِبُ جَيْشِ الْعُسْرَةِ، قَالُوا : اللَّهُمَّ نَعَمْ.
“যেদিন উসমান -কে শহীদ করা হয়েছিল, সেদিন আমি দারে (দরজায়) উপস্থিত হই, তিনি তাদের দিকে উঁকি দিয়ে বললেন, তোমাদের সেই দুই সাথীকে আমার নিকট ডাক, যারা তোমাদেরকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেছে। উক্ত দুইজনকে তার সামনে ডাকা হল। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান, রাসূল যখন মদীনায় আসলেন, তখন মসজিদে মুসল্লিদের সংকুলান হচ্ছিল না। তখন রাসূল বললেন- কে নিজের খাঁটি মাল দিয়ে এই ভূমিটি ক্রয় করবে, অতঃপর তা মসজিদের জন্য এমনভাবে দান করে দিবে যে, উক্ত ভূমিতে সেও অন্যান্য মুসলিমদের মতই হবে আর তার জন্য থাকবে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়, তখন আমি আমার খাটি মাল থেকে তা ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য দান করেছিলাম, আর এখন তোমরা আমাকে সেখানে দু'রাকাত নামায পড়তে দিচ্ছো না। অতঃপর বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান, রাসূল যখন মদীনায় আসলেন, তখন সেখানে রূমা কূপ ছাড়া মিঠা পানির কোন কূপ ছিল না, তখন রাসূল বললেন, কে তার খাঁটি সম্পদ থেকে তা ক্রয় করবে, অতঃপর উক্ত কূপে তার বালতিও অন্যান্য মুসলিমদের বালতির মত হয়ে যাবে, আর তার জন্য থাকবে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়? তখন আমি আমার খাঁটি সম্পদ থেকে তা ক্রয় করি। আর এখন তোমরা আমাকে তার থেকে একটু পানি পান করতে বাঁধা দিচ্ছো। অতঃপর বললেন- তোমরা কি জান, আমি সংকটের (তাবুকের) যুদ্ধের বাহিনীর সদস্য ছিলাম? তারা বলল, হ্যাঁ (এগুলো জানি)।” [মুসনাদে আহমাদ- ৫৫৫]
আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
جَاءَ عُثْمَانُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَلْفِ دِينَارٍ قَالَ الحَسَنُ بْنُ وَاقِعٍ وَكَانَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْ كِتَابِي، فِي كُتِهِ حِينَ جَهَزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَنَتَرَهَا فِي حِجْرِهِ. قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَلِّبُهَا فِي حِجْرِهِ وَيَقُولُ مَا ضَرَّ عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ اليَوْمِ مَرَّتَيْنِ.
উসমান এক হাজার দিনার নিয়ে নবী এর নিকট আসলেন। হাসান ইবনে ওয়াকি বলেন- আমার কিতাবের অন্য জায়গায় ছিল, যখন তিনি তাবুকের সেনাবাহিনীর খরচ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার আস্তিনে করে এক হাজার দিনার নিয়ে রাসূল এর নিকট আসেন। অতঃপর তা রাসূল এর কোলে রাখেন। আব্দুর রহমান বলেন, আমি দেখলাম রাসূল আমাদেরকে তার কোলের দিকে ফেরাচ্ছেন আর বলছেন- আজকের পর উসমান যে আমলই করুক, তা তার কোন ক্ষতি করবে না। এটা তিনি দু'বার বলেন। [সুনানে তিরমিযী- ৩৭০১]
📄 আবু তালহা ؓ
আবু তালহা যিনি তার সবচেয়ে প্রিয় মাল দান করেছিলেন। আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ الأَنْصَارِ بِالْمَدِينَةِ مَالًا مِنْ نَخْلِ، وَكَانَ أَحَبُّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ المَسْجِدِ، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ، قَالَ أَنَسٌ: فَلَمَّا أُنزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ، أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ، فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللهُ، قَالَ : فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « بَخْ، ذَلِكَ مَالٌ رَائِحٌ، ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ، وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلُهَا فِي الْأَقْرَبِينَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِ بِهِ وَبَنِي عَيْهِ، تَابَعَهُ رَوْحٌ، وَقَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَإِسْمَاعِيلُ: عَنْ مَالِكٍ.
আবু তালহা ছিলেন মদীনার আনসারদের সর্বাপেক্ষা বেশি খেজুর সম্পদের অধিকারী। তার নিকট তার সবচেয়ে প্রিয় মাল ছিল তার 'বাইরুহা' নামক খেজুর বাগানটি। এটা ছিল মসজিদের সামনের দিকে। রাসূল তাতে প্রবেশ করতেন, তার স্বচ্ছ পানি পান করতেন। আনাস বলেন, অতঃপর যখন এই আয়াতটি নাযিল হল- لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ -"তোমরা কিছুতেই পুণ্যের নাগাল পাবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে (আল্লাহর জন্য) ব্যয় কর।" [সুরা আল ইমরান- ৯২] তখন আবু তালহা রাসূল এর নিকট গিয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট আমার সবচেয়ে প্রিয় মাল বাইরুহা। আমি সেটা আল্লাহর জন্য সদকা করে দিলাম। আমি আল্লাহর নিকট এর সঞ্চয় ও সওয়াব কামনা করি। তাই হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যেখানে খরচ করতে বলেন, আপনি তা সেখানেই ব্যয় করুন। বর্ণনাকারী বলেন- রাসূলুল্লাহ বললেন- বাহ! এ তো লাভজনক সম্পদ! এ তো লাভজনক সম্পদ! তুমি যা বলেছো আমি শুনেছি। আমার রায় হল, তুমি তা তোমার নিকটীয়দের মাঝে ব্যয় করবে। আবু তালহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। অত:পর আবু তালহা তা তার নিকটীয় ও চাচাতো ভাইদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। [সহিহ বুখারি- ১৪৬১]
সাহাবায়ে কেরামের জীবনীর মধ্যে এরূপ দানশীলতার ঘটনা অনেক রয়েছে। কেউ আরও দেখতে চাইলে সিয়ারের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। বর্তমানে মুসলিমগণ তাদের শাসকদের দুর্নীতির বলি হয়েছে। তারাই নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে, বরং তাদের পশ্চিমা প্রভুদের স্বার্থে মুসলমানদের বিস্তৃত সম্পদসমূহ লুণ্ঠন করছে। অতঃপর ঐ সমস্ত লুণ্ঠিত অর্থের মাধ্যমেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আল্লাহর শপথ! এরা মুসলমানদের মাঝে কি যে দারিদ্র্য-দুর্দশা ও অভাব সৃষ্টি করেছে, তার বর্ণনা দিতে ভাষা অক্ষম। তাদেরকে জীবিকা নির্বাহের সামান্য এক লোকমা খাবার জোগাড়ের জন্য দিনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম ও কষ্ট-ক্লেশে ব্যয় করতে কাটাতে বাধ্য করেছে। এভাবে তাদেরকে তাদের জাতি গঠনের ভূমিকার কথাই ভুলিয়ে দিয়েছে। তাদের অন্তরে তাদের দেশের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। কারণ এখানে থেকেই তো তাদের কষ্টের পর কষ্ট করতে হয়। এভাবে যে জনগণের পক্ষ থেকে তাদের উপর আক্রমণ আসার কথা ছিল, তারা তাদেরকে আত্ম-চিন্তায় ব্যস্ত করে দিয়েছে। কিন্তু এসব কিছু কার স্বার্থে করা হচ্ছে? এসবের অন্তরালে কে আছে? আপনারাই ফলাফল বের করুন! এজন্য শাসকের দানশীলতা ও তার কর্তৃক প্রজাদের স্বার্থের জন্য নিজ স্বার্থকে কুরবানী দেওয়ার কি অর্থ তা কি আপনারা বুঝেছেন? নিশ্চয়ই এটা সহজ নয়। একমাত্র যে আল্লাহকে ভয় করে তার পক্ষেই সম্ভব।
রাসূল ﷺ বলেন- اللَّهُمَّ، مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَشَقَّ عَلَيْهِمْ، فَاشْقُقْ عَلَيْهِ، وَمَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَرَفَقَ بِهِمْ، فَارْفُقْ بِهِ
“হে আল্লাহ! যে আমার উম্মতের কোন কিছুর দায়িত্বশীল হয়, অতঃপর সে তাদের উপর কষ্ট আরোপ করে, তুমিও তার উপর কষ্ট আরোপ কর। আর যে আমার উম্মতের কোন কিছুর দায়িত্বশীল হয়, অতঃপর সে তাদের প্রতি দয়াশীল হয়, তুমিও তার প্রতি দয়াশীল হও।” [সহিহ মুসলিম- ১৮২৮]
আবু মারইয়াম আলইযদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- مَنْ وَلَّاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ، وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمْ احْتَجَبَ اللهُ عَنْهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ، وَفَقْرِهِ» قَالَ: فَجَعَلَ رَجُلًا عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ.
“আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি- যাকে আল্লাহ মুসলমানদের কোন কিছুর দায়িত্বশীল বানান, অতঃপর সে তাদের প্রয়োজন, অভাব ও দারিদ্র্য দূর করে না, আল্লাহ তা'আলাও কিয়ামতের দিন তার প্রয়োজন, অভাব ও দারিদ্র্য দূর করবেন না। একারণে মুআবিয়া মানুষের প্রয়োজনাদী শোনার জন্য একজন লোককে নিয়োজিত করেছিলেন।” [সুনানে আবু দাউদ- ২৯৪৮]
আজ আমাদের কত প্রয়োজন আলী এর মত একজন মহান ব্যক্তির। যিনি তার গভর্ণরদেরকে কোন এলাকায় পাঠানোর সময় বলতেন-
كُونُوا فِي النَّاسِ كَالنَّحْلَةِ فِي الطَّيْرِ: إِنَّهُ لَيْسَ مِنَ الطَّيْرِ شَيْءٌ إِلَّا وَهُوَ يَسْتَضْعِفُهَا، وَلَوْ يَعْلَمُ الطَّيْرُ مَا فِي أَجْوَافِهَا مِنَ الْبَرَكَةِ، لَمْ يَفْعَلُوا ذَلِكَ بِهَا، خَالِطُوا النَّاسَ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَأَجْسَادِكُمْ، وَزَايِلُوهُمْ بِأَعْمَالِكُمْ وَقُلُوبِكُمْ، فَإِنَّ لِلْمَرْءِ مَا اكْتَسَبَ، وَهُوَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ مَنْ أَحَبَّ.
"পাখীদের মাঝে মৌমাছি যেমন, তোমরাও মানুষের মাঝে তেমন হয়ে যাও। প্রতিটি পাখিই মৌমাছিকে দুর্বল পায়। কিন্তু পাখীরা যদি জানত, মৌমাছির পেটের মাঝে কি বরকত রয়েছে, তাহলে তারা কিছুতেই এরূপ করত না। তোমরা যবান ও শরীরের দিক দিয়ে মানুষের সাথে মিশবে আর তোমাদের আমল ও অন্তরের দিক দিয়ে তাদের থেকে দূরে থাকবে। কারণ প্রত্যেক মানুষ যা অর্জন করে, তা ই পায় এবং কিয়ামতের দিন সে যাকে ভালবেসেছিল তার সাথেই থাকবে।" [সুনানে দারেমী- ৩২০]
উমর ইবনে আব্দুল আযীযের মত লোকের কত প্রয়োজন আমাদের, যিনি বলতেন, তোমরা পাহাড়ের চূড়ায় গম ছড়িয়ে দাও, যেন কারো একথা বলার সুযোগ না থাকে যে, মুসলমানদের দেশে একটি পাখিও ক্ষুধার্ত থেকেছে!
পরিশেষে হে মুসলিমগণ! আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি- আমরা আজ আপনাদের দানশীলতার মুখাপেক্ষী। আপনাদের ধনীদের অর্থের মুখাপেক্ষী, যেন তা আপনাদেরই জাতির জন্য ব্যয় করা যায়। অন্যথায় আপনারা আল্লাহর শপথ দিয়ে বলুন, যদি আপনারা তাদের দায়িত্ব বহন না করেন, তাহলে কে বহন করবে?
আপনারা কি শাসকদের বা পশ্চিমাদের অপেক্ষায় বসে আছেন, যে তারা উম্মাহর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন করবে। আমি শুধু মুসলিম জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেওয়া সেই দারীদ্র্যের কথা বলছি না, যা তাদেরকে তাদের সেই দায়িত্বের কথাও ভুলিয়ে দিয়েছে, যার জন্য আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন; বরং আমি সব জিনিসের মূল ও গোড়ার কথা বলছি। সেই সেনাবাহিনী, যারা উম্মাহকে সম্মানের পথে চালাতে ও বর্তমান অধঃপতন থেকে উত্তোরণ করতে সর্বদা উদগ্রীব, কিন্তু দারীদ্র্য তাদেরকে থমকে দিচ্ছে। এরা তো আপনাদের বীজ, তাই আপনারা সকলে এদের মাঝে পানি সিঞ্চন করার কাজে ব্যস্ত হোন। যেন এমন বৃক্ষ দেখে আপনাদের চক্ষু শীতল হয়, যার শিকড় মাটিতে স্থির, আর শাখা-প্রশাখা আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। যা স্বীয় প্রভুর ইশারায় সর্বদা ফল দিতে থাকে এবং যা আপনাদের সকল দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটাবে।
আমার এই কথাগুলো যাদের অন্তরে সামান্য রেখাপাত করবে, তাদের নিকট আমার আবেদন- সেই সেনাবাহিনীর ব্যাপারে গভীর চিন্তা করুন, যারা শুধুমাত্র আপনাদের নবী ﷺ, তার সাহাবা ও তার পরিবারবর্গের পদচিহ্ন ধরেই চলছেন!! তারা আপনাদের কাছে আমানত।