📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ কারো প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করতেন না

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ কারো প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করতেন না


যেমন সাহল ইবনে সা'দ বলেন-
قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبُرْدَةٍ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهَ أَكْسُوكَ هَذِهِ، فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْتَاجًا إِلَيْهَا فَلَبِسَهَا، فَرَاهَا عَلَيْهِ رَجُلٌ مِنَ الصَّحَابَةِ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ، مَا أَحْسَنَ هَذِهِ، فَاكْسُنِيهَا، فَقَالَ نَعَمْ. فَلَمَّا قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَمَهُ أَصْحَابُهُ، قَالُوا: مَا أَحْسَنْتَ حِينَ رَأَيْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَهَا مُحْتَاجًا إِلَيْهَا، ثُمَّ سَأَلْتَهُ إِيَّاهَا، وَقَدْ عَرَفْتَ أَنَّهُ لَا يُسْأَلُ شَيْئًا فَيَمْنَعَهُ، فَقَالَ رَجَوْتُ بَرَكَتَهَا حِينَ لَبِسَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَعَلَّي أُكَفَّنُ فيها.

"জনৈকা মহিলা একটি চাদর নিয়ে নবী -এর নিকট আসল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই কাপড়টি আপনাকে দিচ্ছি। রাসূল তো গ্রহণ করলেন। আর রাসূলুল্লাহ -এর তা প্রয়োজনও ছিল। অতঃপর তিনি কাপড়টি পরিধান করলেন। তখন জনৈক সাহাবী তা দেখতে পেয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কত সুন্দর এটি! এটা আমাকে পরতে দিন!
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ উঠে গেলেন, তখন সাহাবীগণ তাকে ভর্ৎসনা করল। তারা বলল, তুমি এটা ভালো করনি, তুমি দেখলে, রাসূল ﷺ নিজ প্রয়োজনে এটা গ্রহণ করেছেন, তারপরও তুমি তার কাছে তা চাইলে। অথচ তুমি জানো, রাসূলুল্লাহর ﷺ নিকট কোন কিছু চাইলে, তিনি নিষেধ করেন না। উক্ত সাহাবী বললেন, আমি যখন দেখলাম রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা পড়েছেন, তখন আমি এর বরকত লাভের আশা করলাম, যাতে আমাকে এটার মধ্যে দাফন করা হয়।" [সহিহ বুখারি- ৬০৩৬]

আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْإِسْلَامِ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ، قَالَ: فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ، فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ، فَقَالَ: يَا قَوْمِ أَسْلِمُوا، فَإِنَّ مُحَمَّدًا يُعْطِي عَطَاءٌ لَا يَخْشَى الْفَاقَةَ.

"রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট ইসলামের ভিত্তিতে কোন কিছু চাওয়া হলে তিনি অবশ্যই তা দিতেন। তিনি বলেন, অতঃপর তার নিকট এক ব্যক্তি আসল। তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা ভর্তি বকরী দিলেন। লোকটি নিজ কওমে ফিরে গিয়ে বলল, হে আমার কওম! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, কারণ মুহাম্মাদ এত বেশি দান করে, যে দারিদ্র্যের ভয় করে না।” [সহিহ মুসলিম- ২৩১২]

রাসূলুল্লাহ ﷺ চাওয়ার পূর্বেই দান করতেন এবং তিনি এটাকে অনেক বড় সৌভাগ্য মনে করতেন। রাসূল ﷺ বলতেন-
مَا يَسُرُّنِي أَنَّ عِنْدِي مِثْلَ أُحُدٍ هَذَا ذَهَبًا ، تَمْضِي عَلَيَّ ثَالِثَةٌ وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارُ، إِلَّا شَيْئًا أَرْصُدُهُ لِدَيْنِ، إِلَّا أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عِبَادِ اللهِ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا عَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ شِمَالِهِ، وَمِنْ خَلْفِهِ.

"আমার নিকট এটা আনন্দের বিষয় নয় যে, আমার নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকবে, আর আমার উপর দিয়ে তিন দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও তার একটি দিনার আমার নিকট বাকি থাকবে। কিন্তু আমি তা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে বণ্টন করতে করতে বলবো না, অমুক এত.. অমুক এত.. অমুক এত..(এই বলে তিনি তার ডান দিকে, বাম দিকে এবং পিছনের দিকে ফিরলেন।) তবে এমন কিছু বাকি থাকলে থাকতে পারে, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দিব।" [সহিহ বুখারি- ৬৪৪৪]

ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
غَزَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْفَتْحِ، فَتْحِ مَكَّةَ، ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَاقْتَتَلُوا بِحُنَيْنٍ، فَنَصَرَ اللَّهُ دِينَهُ وَالْمُسْلِمِينَ وَأَعْطَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ مِائَةً مِنَ النَّعَمِ ثُمَّ مِائَةً ثُمَّ مِائَةً قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ صَفْوَانَ قَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ أَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَعْطَانِي، وَإِنَّهُ لَأَبْغَضُ النَّاسِ إِلَيَّ، فَمَا بَرَحَ يُعْطِينِي حَتَّى إِنَّهُ لَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ.

“রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ করলেন। অতঃপর সাথীদেরকে নিয়ে বের হলেন। হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হল। আল্লাহ তাঁর দ্বীন ও মুসলমানদেরকে বিজয় দান করলেন। সেদিন রাসূল সফওয়ান ইবনে উমাইয়াকে প্রথমে একশ'টি উট, তারপর একশ'টি এবং তারপর একশ'টি উট দান করলেন। ইবনে শিহাব বলেন, সায়ীদ ইবনুল মুসায়্যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেন- সফওয়ান ইবনে উমাইয়া বলেছেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ আমাকে এত এত দান করেছেন। অথচ তিনি ছিলেন আমার নিকট সর্বনিকৃষ্ট মানুষ। কিন্তু তিনি সর্বদাই আমাকে দিতে থাকেন, এমনকি একসময় তিনিই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় মানুষ হয়ে গেলেন।" [সহিহ মুসলিম- ২৩১৩]

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 তার উদারতার আরেকটি চিত্র

📄 তার উদারতার আরেকটি চিত্র


রুবাইয়ি বিনতে মুআওয়িয ইবনে আফরা বলেন-
اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بِقِنَاعٍ مِنْ رُطَبٌ، وَأَجْرٍ مِنْ قَنَّاءٍ زُغْبٍ، فاعطاني ملء كفه حليا. او قالت: ذهبًا. وَقَالَ تَحَلَّى بِهَذَا.

"আমি এক পাত্র খেজুর ও ছোট ছোট কয়েকটি তাজা শশা নিয়ে রাসূলুল্লাহ এর নিকট আসলাম। তিনি আমাকে তার মুষ্ঠি ভরে স্বর্ণালঙ্কার দিলেন। (অথবা স্বর্ণের কথা বলেছিলেন।) তারপর বললেন, তুমি এর দ্বারা অলঙ্কৃত হবে।" [বর্ণনা করেছেন ইমাম তাবরানী রহ. আলমু'জামুল কাবিরে।

أتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَالٍ مِنَ البَحْرَيْنِ، فَقَالَ انْتُرُوهُ فِي الْمَسْجِدِ.
"রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট বাহরাইনের সম্পদ আসল। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট আগত সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পদ। তিনি বললেন, এগুলো মসজিদে বন্টন করে দাও।" [সহিহ বুখারি- ৪২১]

তিনি তার সাথীদেরকে এবং তার পরবর্তী উম্মতকেও দানের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি ﷺ বলেছেন-
مَا مِنْ يَوْمِ يُصْبِحُ العِبَادُ فِيهِ، إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ، فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُولُ الْآخَرُ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا.

"প্রতিদিন যখন বান্দা সকাল বেলা উঠে, তখন দুই জন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়। একজন বলে, হে আল্লাহ দানকারীকে তার অনুরূপ সম্পদ দান কর। অপরজন বলে, হে আল্লাহ দানে কার্পণ্যকারীর মাল ধ্বংস করে দাও।" [সহিহ বুখারি- ১৪৪২]

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 আবু বকর সিদ্দিক ؓ

📄 আবু বকর সিদ্দিক ؓ


নবীদের পরে যে ব্যক্তি সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছিলেন, তিনি হলেন আবু বকর রাঃ।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রহ. বলেন- আবু বকর রাঃ নবীদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ওলী ও তাওয়াক্কুলকারী। তিনি তার সমুদয় সম্পদ খরচ করেছিলেন। নবী ﷺ তাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো? তিনি বলেছেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে রেখে এসেছি। এতদসত্ত্বেও তিনি কারো থেকে সদকা, গণিমতের অর্থ, মান্নতের অর্থ ইত্যাদি কোন কিছুই গ্রহণ করতেন না। তিনি নিজ উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু যে সমস্ত লোকেরা তাওয়াক্কুলের দাবি করে এবং আবু বকর সিদ্দীক রাঃ-এর অনুসরণের দাবি করতঃ নিজের সমস্ত সম্পদ ব্যয় করে দেয়, অথচ আবার কখনো চেয়ে, কখনো চাওয়া ছাড়া মানুষ থেকে অর্থ গ্রহণ করে, তাদের এ অবস্থা কখনো আবু বকর -এর অবস্থার মত নয়। আবু বকর -এর ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে আল্লাহ তা'আলার বাণী-

وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّى.
“এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে। যে আত্মশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে।" [সুরা লাইল- ১৭, ১৮]

ইবনুল জাওযী রহ. বলেন- আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতটি আবু বকর এর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন-
مَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ، مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: هَلْ أَنَا وَمَالِي إِلَّا لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟
"কোন সম্পদ আমাকে কখনো এতটা উপকার করেনি, যতটা আবু বকরের সম্পদ আমাকে উপকৃত করেছে। একথা শুনে আবু বকর কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ও আমার সম্পদ তো আপনার জন্যই!” [মুসনাদে আহমাদ- ৭৪৪৬]

📘 যেমন হবে উম্মাহর দাঈগণ > 📄 উসমান ইবনে আফফান ؓ

📄 উসমান ইবনে আফফান ؓ


যিনি তাবুকের সেনাবাহিনীর খরচ বহন করেছিলেন, রূমা কূপ ক্রয় করেছিলেন এবং নিজের খাঁটি মাল দিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণ করেছিলেন।

সুমামা ইবনে হাযান আল-কুশায়রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
شَهِدْتُ الدَّارَ يَوْمَ أُصِيبَ عُثْمَانُ، فَاطَّلَعَ عَلَيْهِمُ اطَّلَاعَةً، فَقَالَ ادْعُوا لِي صَاحِبَيْكُم اللَّذَيْنِ أَلْبَاكُمْ عَلَيَّ فَدُعِيَا لَهُ فَقَالَ: نَشَدْتُكُمَا اللَّهَ أَتَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ ضَاقَ الْمَسْجِدُ بِأَهْلِهِ فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِي هَذِهِ الْبُقْعَةَ مِنْ خَالِصِ مَالِهِ، فَيَكُونَ فِيهَا كَالْمُسْلِمِينَ وَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ خَالِصٍ مَالِي، فَجَعَلْتُهَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ: أَنْشُدُكُما اللَّهَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِثْرٌ يُسْتَعْذَبُ مِنْهُ إِلا رُومَةَ، فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ يَشْتَرِيهَا مِنْ خَالِصِ مَالِهِ، فَيَكُونَ دَلْوُهُ فِيهَا كَدُلِي الْمُسْلِمِينَ، وَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ خَالِصِ مَا لِي فَأَنْتُمْ تَمْنَعُونِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي صَاحِبُ جَيْشِ الْعُسْرَةِ، قَالُوا : اللَّهُمَّ نَعَمْ.

“যেদিন উসমান -কে শহীদ করা হয়েছিল, সেদিন আমি দারে (দরজায়) উপস্থিত হই, তিনি তাদের দিকে উঁকি দিয়ে বললেন, তোমাদের সেই দুই সাথীকে আমার নিকট ডাক, যারা তোমাদেরকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেছে। উক্ত দুইজনকে তার সামনে ডাকা হল। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান, রাসূল যখন মদীনায় আসলেন, তখন মসজিদে মুসল্লিদের সংকুলান হচ্ছিল না। তখন রাসূল বললেন- কে নিজের খাঁটি মাল দিয়ে এই ভূমিটি ক্রয় করবে, অতঃপর তা মসজিদের জন্য এমনভাবে দান করে দিবে যে, উক্ত ভূমিতে সেও অন্যান্য মুসলিমদের মতই হবে আর তার জন্য থাকবে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়, তখন আমি আমার খাটি মাল থেকে তা ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য দান করেছিলাম, আর এখন তোমরা আমাকে সেখানে দু'রাকাত নামায পড়তে দিচ্ছো না। অতঃপর বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমরা কি জান, রাসূল যখন মদীনায় আসলেন, তখন সেখানে রূমা কূপ ছাড়া মিঠা পানির কোন কূপ ছিল না, তখন রাসূল বললেন, কে তার খাঁটি সম্পদ থেকে তা ক্রয় করবে, অতঃপর উক্ত কূপে তার বালতিও অন্যান্য মুসলিমদের বালতির মত হয়ে যাবে, আর তার জন্য থাকবে জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়? তখন আমি আমার খাঁটি সম্পদ থেকে তা ক্রয় করি। আর এখন তোমরা আমাকে তার থেকে একটু পানি পান করতে বাঁধা দিচ্ছো। অতঃপর বললেন- তোমরা কি জান, আমি সংকটের (তাবুকের) যুদ্ধের বাহিনীর সদস্য ছিলাম? তারা বলল, হ্যাঁ (এগুলো জানি)।” [মুসনাদে আহমাদ- ৫৫৫]

আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
جَاءَ عُثْمَانُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَلْفِ دِينَارٍ قَالَ الحَسَنُ بْنُ وَاقِعٍ وَكَانَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْ كِتَابِي، فِي كُتِهِ حِينَ جَهَزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَنَتَرَهَا فِي حِجْرِهِ. قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَلِّبُهَا فِي حِجْرِهِ وَيَقُولُ مَا ضَرَّ عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ اليَوْمِ مَرَّتَيْنِ.

উসমান এক হাজার দিনার নিয়ে নবী এর নিকট আসলেন। হাসান ইবনে ওয়াকি বলেন- আমার কিতাবের অন্য জায়গায় ছিল, যখন তিনি তাবুকের সেনাবাহিনীর খরচ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার আস্তিনে করে এক হাজার দিনার নিয়ে রাসূল এর নিকট আসেন। অতঃপর তা রাসূল এর কোলে রাখেন। আব্দুর রহমান বলেন, আমি দেখলাম রাসূল আমাদেরকে তার কোলের দিকে ফেরাচ্ছেন আর বলছেন- আজকের পর উসমান যে আমলই করুক, তা তার কোন ক্ষতি করবে না। এটা তিনি দু'বার বলেন। [সুনানে তিরমিযী- ৩৭০১]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00