📄 ২। নেতার ভুল হলে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মত সাহসী হওয়া
আর এটা বলা বাহুল্য যে, উম্মাহ্র শক্তিকে কেন্দ্রীভূত রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। কারণ, শাসক যখন স্বীয় সহনশীলতার দ্বারা প্রতিটি মুসলিমকে উম্মাহ্র ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ দিবেন, তখন এটা প্রতিটি মুসলিমের মাঝে স্বীয় উম্মাহ্র প্রতি দায়িত্বশীলতা ও উম্মাহ্র সাথে নিজের সম্পৃক্ততার অনুভূতি বৃদ্ধি করবে।
কিন্তু এর বিপরীত হল, নেতা যদি এর বিপরীত গুণের অধিকারী হয়, তাহলে তা প্রজাদের অন্তরে ঘৃণা ও ভয়ের বীজ বপন করবে। যা বর্ণিত বিষয়গুলোতে তাদের ভূমিকাকে পদপিষ্ট করবে। ফলে এটা অনেক নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। এমনকি সবশেষে বিদ্রোহও সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা বিগত শতাব্দীতে উম্মাহর শাসকদের থেকে দেখেছি, তারা উম্মাহকে কতৃত্বাধীন রাখার নামে নিজ জনগণের প্রতি বিভিন্নমুখী আগ্রাসন ও কঠোরতা করেছে, যা কোন মুসলিমের নিকটই অস্পষ্ট নয়। কিন্তু ঐ সকল লোকগুলো জানেনি যে, এই আগ্রাসনই তাদের আশংকাকে তরান্বিত করবে।
📄 ৩। দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম
এ কারনেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা এমন কোন নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরী চড়াননি। যেহেতু বকরী শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চলে না; বরং মন যে দিকে নিয়ে যায় সে দিকেই যায়। একজন রাখাল এতে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়, তা তার সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। রাসূল বলেন-
إِنَّ شَرَّ الرِّعَاءِ الْحُطَمَةُ، فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ.
“সর্বনিকৃষ্ট রাখাল হল নির্যাতনকারী। তাই তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাক।” [সহিহ মুসলিম- ১৮৩০]
অনেক রাখাল আছে, যাদের মাঝে সহনশীলতা নেই। এ ধরণের রাখালকে দেখবেন, যখনই তার কোন একটি বকরী এদিক ওদিক যায় বা বিশৃঙ্খল হয়ে যায় বা দূরে চলে যায়, সে বকরীটিকে পেলে মাথায় তুলে সজোরে যমীনে আছাড় মারে। যদি সকল রাখালরাই তার মত করত, তাহলে নিশ্চয়ই অল্প সময়ের মধ্যেই সব বকরী শেষ হয়ে যেত। এ হল একটি বকরীর পালের রাখালের উদাহরণ।
তাহলে যে ব্যক্তি লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেখাশোনা করে, তার অবস্থা কেমন হবে বলে ধারণা করতে পারি?! আমরা দেখতে পাই, একেকজন শাসকের একেক রকম চিন্তা ভাবনা ও ইচ্ছা আকাঙ্খা, বিশেষত: আমাদের যুগে, যে যুগ বহু চিন্তা ও বহু মতবাদ অবলোকন করছে। সুতরাং এমতাবস্থায় অবশ্যই দায়িত্বশীলকে এমন সহনশীল ও প্রশস্তহৃদয় হতে হবে, যার ফলে সে সমাজকে এমন কাঠামোতে পরিচালনা করতে পারে, যা মানুষের জন্য সম্মানজনক জীবনে নিশ্চয়তা প্রদান করে; তাদের প্রতি কষ্ট আরোপ করে না। বিশেষতঃ এখন তো উম্মাহ এমন এক নেতৃত্বের প্রয়োজন বোধ করছে, যে তাদের হাল ধরবে।
আমরা আজ সবচেয়ে বেশি এমন একটি সহনশীল নেতৃত্বের মুখাপেক্ষী, যে নেতৃত্ব উম্মাহকে পরিচালনা করবে, তাদের শান্তির জন্য কাজ করবে এবং তাদের বিরুদ্ধবাদীদের উপর আমাদের শরীয়তের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে; নিজ প্রবৃত্তির নির্দেশে বাস্তবায়ন করবে না।
📄 ৪। শক্রতাকে ভালবাসায় রূপান্তরিত করে
আল্লাহ সুবহানাহু বলছেন-
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ. وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ.
"ভাল ও মন্দ সমান হয় না। তুমি মন্দকে প্রতিহত কর এমন পন্থায়, যা হবে উৎকৃষ্ট। ফলে যার ও তোমার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে সহসাই হয়ে যাবে তোমার বন্ধু। আর এ গুণ কেবল তাদেরকেই দান করা হয়, যারা সবর করে এবং এ গুণ কেবল তাদেরকেই দান করা হয়, যারা মহাভাগ্যবান।” [সুরা ফুসিলাত- ৩৪, ৩৫]
এমন আয়াত অনেক রয়েছে, যেগুলো মুসলমানদেরকে এই মহান গুণে গুণান্বিত হতে আহ্বান করে ও উৎসাহ দেয়, সমান আচরণ করতে বা মন্দের মোকাবিলা মন্দ দ্বারা করতে নিষেধ করে এবং উত্তম কথার দ্বারা জবাব দিতে, কষ্ট এড়িয়ে চলতে ও মন্দ ব্যবহার ক্ষমা করে দিতে উৎসাহ দেয়। তন্মধ্যে একটি হল আল্লাহর বাণী-
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ.
“ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষকে ক্ষমাকারী। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।" [সুরা আলে ইমরান: ১৩৪)
কোন লোক নিজের মাঝে এই তিনটি ভিত্তির সমন্বয় ঘটালেই কেবল সহনশীল হতে পারবে; অন্যথায় নয়।
আরেক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী ইবরাহীম এর সহনশীলতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন-
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَخَلِيمٌ أَوَّاهُ مُنِيبٌ.
“নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল আল্লাহমুখী ও সহনশীল।” [সুরা হুদ- ৭৫]
আমরা সবাই জানি, হযরত ইবরাহীম তাঁর কওমের থেকে কতটা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। তারা তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর পুত্র ইসমাঈলকেও এই গুণের সাথে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ.
"অতঃপর আমি তাকে একটি সহনশীল সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।” [সুরা ফুসসিলাত- ১০১]
অনুরূপ নবী হুদ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ.
“সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমার মাঝে নির্বুদ্ধিতা নেই। বরং আমি সকল জগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক।” [সুরা আরাফ- ৬৭]
তিনি সে সময় এ সবর করেছিলেন, যখন তার কওম তাকে গালি দিচ্ছিল, তার সাথে বিদ্রূপ করছিল। তিনি এসবের মোকাবিলা করেছেন তাওহীদের দাওয়াতের মাধ্যমে। তাদের নিকট তার মূখ্য বিষয়টি তথা তার রিসালাতটিই স্পষ্ট করেছেন এবং তাদের সুমতি হওয়ার আসায় উত্তমভাবে তাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন। সহনশীলতা ও গোস্বা না করার ব্যাপারে রাসুল থেকে অনেক বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হাদিসে রয়েছে-
তিনি আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দলের নেতার উদ্দেশ্য বলেন-
إِنَّ فِيكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ وَالْأَنَاةُ.
“নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দু'টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলোকে আল্লাহ ভালবাসেন- তা হল সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা।" [সহিহ মুসলিম- ১৮]
আরেক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট উপদেশ চাইতে আসল। রাসূল ﷺ তাকে বললেন- তুমি ক্রোধান্বিত হয়ো না। লোকটি একই আবেদন বার বার করল। রাসূল ﷺ ও প্রতিবার বললেন, তুমি ক্রোধান্বিত হয়ো না।
বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরায়রা রাঃ বলেন-
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন একথা বলেছেন, তখন আমি চিন্তা করে দেখলাম, ক্রোধ সকল অনিষ্টকে একত্রিত করে। ক্রোধের সময় বিবেক হ্রাস পায়। ফলে তা অন্যায় কথা বলা ও সত্য গোপন করার দিকে নিয়ে যায়। রাসুল ﷺ বলেন-
وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ.
“(হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট ক্রোধের সময় ও খোশ হালতে সঠিক কথা বলার তাওফীক প্রার্থনা করি।” [সুনানে নাসায়ী- ১৩০৫]
তিনি আরও বলেন, নবী ﷺ বলেন-
لَا يَقْضِيَنَّ حَكَمْ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ.
"কোন বিচারক যেন ক্রোধান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মাঝে ফায়সালা না করে।" [সহিহ মুসলিম- ৭১৫৮]
আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে-
أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَقَاضَاهُ، فَأَغْلَظَ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: دَعُوهُ ، فَإِنَّ لِصَاحِبِ الحَقِّ مَقَالًا، ثُمَّ قَالَ: أَعْطُوهُ سِنَّا مِثْلَ سِنِّهِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِلَّا أَمْثَلَ مِنْ سِنِّهِ، فَقَالَ: أَعْطُوهُ، فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنَكُمْ قَضَاءٌ.
"জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট তার ঋণ চাইতে আসল। লোকটি কঠোরভাবে কথা বলল। তখন তাঁর সাহাবাগণ তার উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হল। রাসূল ﷺ বললেন- তাকে ছাড়ো। কারণ পাওনাদারের বলার অধিকার আছে। তারপর বললেন, তাকে তার দাঁতের মত একটি দাঁত দাও। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তার দাঁতের চেয়ে উত্তম দাঁত ছাড়া অন্য কিছু পাচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তা-ই দাও। কারণ তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হল সর্বোত্তম বিচারকারী। (সহিহ বুখারি- ২৩০৬]
অন্য হাদীসে নবী ﷺ বলেন-
مَا تَجَرَّعَ عَبْدٌ جَرْعَةً أَفْضَلَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ جَرْعَةِ غَيْطٍ، يَكْظِمُهَا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ تَعَالَى
"বান্দা এমন কোন ঢোক গিলে না, যা আল্লাহর নিকট ক্রোধের ঢোক থেকে উত্তম, যা সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংবরণ করে”। [মুসনাদে আহমাদ- ৬১১৪]
রাসূল ﷺ আরও বলেন-
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الغَضَبِ.
“আছাড় দেওয়ার দ্বারা বীর হয় না। বীর হল, ঐ ব্যক্তি, যে ক্রোধের সময় আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" [সহিহ বুখারি- ৬১১৪; সহিহ মুসলিম- ২৬০৯]
সুতরাং সহনশীলতা হল শক্তি ও দৃঢ়তার আলামত। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ.
“নিশ্চয়ই যে সবর করে ও ক্ষমা করে দেয়, (তার) এটা দুঃসাহসিকতার কাজ।” [সুরা শুরা- ৪৩]
সহনশীলতার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সাহাবাদের থেকে অনেক উক্তি বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হল-
উমার রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, যেকোন কল্যাণকর কাজে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। তবে যেগুলো পরকালের বিষয় সেগুলো ব্যতীত।
হযরত আলী থেকে বর্ণিত আছে-
ليس الخير أن يكثر مالك وولدك، ولكن الخير أن يكثر علمك ويعظم حلمك، وأن لا تباهي الناس بعبادة الله، وإذا أحسنت: حمدت الله تعالى، وإذا أسأت: استغفرت الله تعالى.
“তোমার সম্পদ ও সন্তান বেড়ে যাওয়া কল্যাণের বিষয় নয়; বরং কল্যাণের বিষয় হল তোমার ইলম বৃদ্ধি পাওয়া এবং সহনশীলতা ব্যাপক হওয়া। আল্লাহর ইবাদত করে মানুষের সাথে বড়াই না করা। সৎকর্ম করলে আল্লাহর প্রশংসা করো আর গুনাহ করলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো।” [আবু নুআইম হিলয়াতুল আওলিয়ায় উল্লেখ করেন]
তিনি আরও বলেন, যার কথা নম্র হয়, তার ভালবাসা অবধারিত হয়ে যায়। নির্বোধের উপর তোমার সহনশীলতা তার উপর তোমার সহযোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান বলেন-
لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ مَبْلَغَ الرَّأْيِ حَتَّى يَغْلِبَ حِلْمُهُ جَهْلَهُ وَصَبْرُهُ شَهْوَتَهُ ، وَلَا يَبْلُغُ ذَلِكَ إِلَّا بِقُوَّةِ الْعِلْمِ.
“বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার স্তরে পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ না তার সহনশীলতা অজ্ঞতার উপর এবং স্থৈর্য প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য পায়। সে একমাত্র সহনশীলতার শক্তি দ্বারাই এ স্তরে পৌঁছতে পারে।” [বর্ণনা করেছেন আবুল কাসেম আততাবারী আররাযী রহ.]
মুআবিয়া আরাবা ইবনে আউসকে বলেন, হে আরাবা! তুমি কিসের দ্বারা তোমার কওমের সরদার হয়েছো? আরাবা বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি তাদের অজ্ঞদের প্রতি সহনশীল ছিলাম, তাদের আবেদনকারীকে দান করতাম এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করতাম।
রাসূলুল্লাহ এর পরে উম্মাহর এ সকল নেতৃবৃন্দের জীবনেও এ গুণটি কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা এসকল বর্ণনাগুলোই স্পষ্ট করে। এই গুণই তাদেরকে উম্মাহ্র নেতা বানিয়েছে। আর তারা উম্মাহকেও এ ব্যাপারে সবচেয়ে উপদেশ দিতেন। যেমনটা পূর্বে বর্ণনা করেছি।
আর এই মহান গুণে গুণান্বিত হওয়ার ফলাফল কি?! আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন এরূপ ব্যক্তিকে ডেকে স্বাধীনতা দিবেন, আনত নয়না হুরদের মধ্য হতে যত ইচ্ছা গ্রহণ করতে পার।
মুআয ইবনে আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন-
مَنْ كَظَمَ غَيْظًا، وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ، دَعَاهُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى رُءُوسِ الخَلَائِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ الْحُورِ شَاءَ
“যে ব্যক্তি ক্রোধ সংবরণ করে, অথচ সে তা বাস্তবায়ন করতে পারত, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির সামনে ডাকবেন, অতঃপর তাকে হুরদের থেকে যত ইচ্ছা নেওয়ার স্বাধীনতা দিবেন।” [মুসনাদে আহমাদ- ১৫৬৩৭]