📄 আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু নমুনা
ইয়armুকের যুদ্ধের বছর যখন আবু উবায়দা রাযি. কাফেরদের সঙ্গে লড়ার জন্য অতিরিক্ত সাহায্য চেয়ে উমর রাযি. বরাবর পত্র পাঠালেন এবং তাঁকে অবগত করালেন যে, তাঁদের বিরুদ্ধে এত সংখ্যক শত্রু জমা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে লড়ার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। যখন তাঁর এ পত্র পৌঁছল, সব মানুষ কাঁদতে লাগল। সবচেয়ে বেশি কাঁদছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.। তিনি বরং উমর রাযি. কে লোকদের নিয়ে যুদ্ধ বের হওয়ার পরামর্শ দিলেন। উমর রাযি. মনে করলেন, এটা সম্ভব নয়। তাই তিনি আবু উবায়দা রাযি. কে লিখলেন, মুসলিমদের ওপর যত বিপদাই আসুক না কেন, সে যদি আল্লাহর নিকট থেকে তা সমাধান করাতে চায়; তাহলে আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন এবং সমাধান করে দেন। তাই আমার পত্র যখন তোমার নিকট পৌঁছবে, তখন তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে যুদ্ধ শুরু করে দেবে।
অনেক মানুষের হিসাবের পাল্লায় উমর রাযি. এর এ অবস্থানটিকে আত্মঘাতী ও নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া মনে হবে। কিন্তু উমর রাযি. বিশ্বাস করতেন যে, বিজয় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আর যেহেতু তাঁর অন্তর আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ছিল, এজন্য তিনি সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়েছেন, একমাত্র তাঁর সাথেই সম্পর্ক করেছেন, সাথে সাথে মুখতো উপকারণও অবলম্বন করতেন। আর পত্র আসার সেই কঠিন মুহূর্তটিতেও তিনি সেই বাস্তবতাতে ভুলেননি, যার দীক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি স্মরণ করলেন, আল্লাহই সকল বিষয়ের উর্ধ্বে, তিনিই সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। তাই তিনি পরিপূর্ণ আস্থা ও গভীর ঈমানের সাথে এ কথা বলেছিলেন।
📄 উন্নত মনোবল
এটাই বান্দাকে এমন উন্নত মানুষে পরিণত করে; যার ফলে তার পা থাকে মাটিতে আর আত্মা ও অন্তর যুক্ত থাকে আল্লাহর সঙ্গে।
এটাই বান্দাকে এমন উন্নত মানুষে পরিণত করে। যার ফলে, প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই তার অন্তর আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত থাকে। সে আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না, আল্লাহ ব্যতীত কারও নিকট আশা করে না, আল্লাহ ব্যতীত কারও কাছে নত হয় না, আল্লাহ ব্যতীত কারও নিকট কিছু চায় না, আল্লাহ ব্যতীত কারও সাহায্য প্রার্থনা করে না। তার সকল বিষয় আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত থাকে। কোনো মানুষ ও দুনিয়ার কোনো শক্তির প্রতি সে ভ্রুক্ষেপ করে না। দুনিয়ার বস্তুত্রাজি তার সংকল্প, দৃঢ়তা, ঈমান ও ইয়াকীনকে একটুও টলাতে পারে না। হাদীসের মধ্যে রয়েছে-
وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَإِنِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ وَجَفَّتِ الصُّحُفُ
“জেনে রেখ, যদি সকল মানুষও একত্রিত হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়; তথাপি আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার চেয়ে বেশি কোনো উপকার করতে পারবে না। অনুরূপ যদি সকল মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করতে একত্রিত হয়; তাহলেও আল্লাহ যা লিপিবদ্ধ রেখেছেন, তার থেকে অধিক কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কলম গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে, খাতা শুকিয়ে গেছে।”
📄 বদর যুদ্ধ ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক
উপকরণের অবস্থান যত উর্ধ্বে পৌঁছইে পৌঁছক না কেন, তা উপকরণ হওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং এর সঙ্গে অন্তর যুক্ত করা উচিত নয়। বরং সেই আল্লাহর সঙ্গে অন্তর যুক্ত করা উচিত; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যাঁর মালিকানাধীন। আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে মুসলিমদেরকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করার কথা আলোচনা করতে গিয়ে এ বাস্তবতার প্রতিও গুরুত্ব দিয়ে বলেন-
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ ۚ وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ ۚ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“স্মরণ কর, যখন তোমরা নিজ প্রতিপালকের কাছে ফরিয়াদ করেছিলে, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদে সাড়া দিলেন। (বললেন:) আমি তোমাদের সাহায্যের্থে এক হাজার ফেরেশতার একটি বাহিনী পাঠাচ্ছি; যারা একের পর এক আসবে। এ প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কেবল এজন্যই দিয়েছেন; যাতে এটা তোমাদের জন্য সুসংবাদ হয় এবং এতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। আর সাহায্য তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহামহিমতাবান, প্রজ্ঞাময়।
সুতরাং ফেরেশতাগণ হলেন মাধ্যম মাত্র। অন্তর তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত নয়; বরং অন্তর যুক্ত হবে প্রকৃত সাহায্যকারী আল্লাহ তাআলার সঙ্গে।
টিকাঃ
১১৯. সুরা আনফাল: ৯
📄 বাস্তব প্রশিক্ষণ
কেনই বা তুমি তোমার সন্তানকে অঙ্কুরেই আল্লাহ তাআলা’র সাথে সম্পর্কের ওপর গড়ে তুলছ না?
সে যখন কোনো উপকারী জিনিস চাইবে; কিন্তু তুমি তা দিতে পারবে না, তখন তুমি তাকে বলবে- বাবা! চল, আমরা দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট চাই। কারণ, আল্লাহই রিজিকদাতা। তিনিই আমাদের সকল কিছুর ব্যবস্থাপক। আর তিনি যদি তোমাকে এটা এনে দেওয়ার মতো অর্থ আমাকে না দেন; তাহলে বুঝতে হবে এটা এখন আমাদের জন্য উপকারী নয়। কারণ, আল্লাহই এটা আমাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন।