📄 সর্বদা স্মরণ রেখ
যার আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নেই, তথা যে স্বীয় রব থেকে বিচ্ছিন্ন; আল্লাহ তাকে অভিভাবক, সাহায্যকারী বা কর্মবিধায়ক হবেন না।
আর যে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখে, নিজ প্রয়োজন তাঁর থেকে চেয়ে নেয়, তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, নিজের বিষয়াদি নিজ রবের দিকে ন্যস্ত করে; আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন, দিকনির্দেশনা দেন, যে কোনো দূরের বিষয়কে তার জন্য নিকটবর্তী করে দেন এবং তার জন্য যে কোনো কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেন।
📄 মুমিনের অবস্থা
মুমিন যখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করে, তখন সকাল-সন্ধ্যা তার অন্তর আল্লাহর সাথে জুড়ে থাকে। সে আল্লাহর জন্যই দাঁড়ায়, আল্লাহর জন্যই বসে, আল্লাহর জন্যই কথা বলে। তাঁর নড়াচড়া, স্থিরতা, শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রতিটি কথায় আল্লাহর কথাই চিন্তা করে। সে প্রত্যেক এমন জিনিসের পিছু ছুটে; যাতে আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে। সবশেষে যখন সে এ মহান ও উন্নত স্তরে পৌঁছে এবং আল্লাহর ভালোবাসা و সন্তুষ্টি লাভ করে, তখন সে দ্বিতীয় যে ফলটি লাভ করে, তা হলো আল্লাহর ভালোবাসার প্রতিফল।
জনৈק আলেম বলেন, মুমিন বান্দা যখন আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন সে তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজের মধ্যেই আল্লাহকে সম্পৃক্ত করে।
যে নিজ প্রয়োজনাদি পূরণে, আল্লাহর নিকট যে বিনিময় রয়েছে তা লাভের জন্য এবং আশঙ্কাজনক ও কষ্টদায়ক জিনিস থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।”
টিকাঃ
১১৬. সূরা তালাক: ০৩
📄 আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সঙ্গে তোমার অন্তরকে যুক্ত করো না
কিছু মানুষের অন্তর আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত নয়; বরং অমুক কর্মকর্তা, অমুক বন্ধু বা কিছু পুরাতন কাগজপত্র সাথে বা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের সাথে বা শেষবারের ফলাফলের প্রতীক্ষা- এ জাতীয় বিষয়ের সাথে জড়িত। কিন্তু তাদের মন আল্লাহর থেকে কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকে না। আর কিছু মানুষ উপকরণকে অনর্থক মনে করে; ফলে কোনো উপকরণই অবলম্বন করে না। বস্তুত সবচাইতে বড় উপকরণ হলো- আল্লাহর সাথে সম্পর্ক।
📄 আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু নমুনা
ইয়armুকের যুদ্ধের বছর যখন আবু উবায়দা রাযি. কাফেরদের সঙ্গে লড়ার জন্য অতিরিক্ত সাহায্য চেয়ে উমর রাযি. বরাবর পত্র পাঠালেন এবং তাঁকে অবগত করালেন যে, তাঁদের বিরুদ্ধে এত সংখ্যক শত্রু জমা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে লড়ার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। যখন তাঁর এ পত্র পৌঁছল, সব মানুষ কাঁদতে লাগল। সবচেয়ে বেশি কাঁদছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.। তিনি বরং উমর রাযি. কে লোকদের নিয়ে যুদ্ধ বের হওয়ার পরামর্শ দিলেন। উমর রাযি. মনে করলেন, এটা সম্ভব নয়। তাই তিনি আবু উবায়দা রাযি. কে লিখলেন, মুসলিমদের ওপর যত বিপদাই আসুক না কেন, সে যদি আল্লাহর নিকট থেকে তা সমাধান করাতে চায়; তাহলে আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন এবং সমাধান করে দেন। তাই আমার পত্র যখন তোমার নিকট পৌঁছবে, তখন তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে যুদ্ধ শুরু করে দেবে।
অনেক মানুষের হিসাবের পাল্লায় উমর রাযি. এর এ অবস্থানটিকে আত্মঘাতী ও নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া মনে হবে। কিন্তু উমর রাযি. বিশ্বাস করতেন যে, বিজয় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আর যেহেতু তাঁর অন্তর আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ছিল, এজন্য তিনি সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়েছেন, একমাত্র তাঁর সাথেই সম্পর্ক করেছেন, সাথে সাথে মুখতো উপকারণও অবলম্বন করতেন। আর পত্র আসার সেই কঠিন মুহূর্তটিতেও তিনি সেই বাস্তবতাতে ভুলেননি, যার দীক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি স্মরণ করলেন, আল্লাহই সকল বিষয়ের উর্ধ্বে, তিনিই সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। তাই তিনি পরিপূর্ণ আস্থা ও গভীর ঈমানের সাথে এ কথা বলেছিলেন।