📘 যেমন ছিলেন তাঁরা 📄 সালাফে সালেহীন নিফাকির আশঙ্কা করতেন

📄 সালাফে সালেহীন নিফাকির আশঙ্কা করতেন


হাফেজ ইবনে রজব রহ. বলেন, সাহাবাগণ ও তাঁদের পরবর্তী সালাফে সালেহীন নিজেদের ব্যাপারে মুনাফেকীর আশঙ্কা করতেন। এ কারণে তাঁরা প্রচণ্ড চিন্তা ও পেরেশানি অনুভব করতেন। এজন্য একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের ওপর ছোট নিফাকির আশঙ্কা করবে এবং এ আশঙ্কা করবে যে, পাছে তা পরিণামে তার ওপর প্রবল হয়ে বড় নিফাকির রূপ ধারণ করে কি না? যেমনটা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সব মন্দ মন্দের ছিটেফোঁটাই পরিণতিতে মন্দ পরিসমাপ্তির কারণ হয়।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. হুযায়ফা রাযি. কে বলেন, হে হুযায়ফা! আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি- বলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমার নিকট তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে আমার নামও উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, না; তবে এরপর আর কাউকে আমি এমনটা বলব না।
হাসান বসরী রহ. বলেন, আমি যদি জানতে পারি যে, আমি নিফাক থেকে মুক্ত, তাহলে এটাই আমার নিকট পুরো পৃথিবী থেকে উত্তম হবে।
ইবনে আবী মুলাইকা রহ. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে মুনাফিকীর আশঙ্কা করতেন।
হাসান বসরী রহ. বলেন, নিফাক হলো- ভেতর-বাহির বা কথা-কাজে মিল না থাকা।
নিফাক থেকে সবচেয়ে দূরে যে: উফফারার আযাদকৃত গোলাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে নিফাক থেকে সর্বাধিক দূরে সেই ব্যক্তি, যে নিজের ব্যাপারে সর্বাধিক নিফাকীর ভয় করে। যে মনে করে, তাকে এ থেকে মুনাফিককারী কিছু নেই। আর তার (নিফাকের) সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো, যাকে তার মধ্যে অবিদ্যমান গুণের প্রশংসা করা হলো, তার মন খুশি হয় এবং সে তা গ্রহণ করে নেয়।
নিফাকি কান্না: চোখ দিয়ে অশ্রু বের হবে; কিন্তু অন্তর থাকবে শক্ত। সে বিনয় প্রকাশ করবে; কিন্তু সে-ই হবে সর্বাধিক কঠিন অন্তরের অধিকারী।
যদি মুনাফিকরা ধ্বংস হয়ে যেত: হুযায়ফা রাযি. এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, হে আল্লাহ! মুনাফিকদেরকে ধ্বংস করুন! তিনি বললেন, হে ভাতিজা! মুনাফিকরা সব যদি ধ্বংস হয়ে যেত; তাহলে তুমি রাস্তায় পথচারী স্বল্পতায় একাকীত্ববোধ করতে।
সত্যবাদী ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে নিফাকির আশঙ্কা করে।
মুনাফিকই কেবল নিফাক থেকে নিশ্চিত হয়ে যায়। আর মুমিনই কেবল নিফাকির আশঙ্কা করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px