📄 আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি কীভাবে হবে?
১. আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতকে ভালোবাসা। কারণ, এমনটা তো কল্পনা করা যায় না যে, অন্তর কোনো প্রিয়জনকে ভালোবাসবে, আর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ও তাঁর দর্শনকে ভালোবাসবে না।
২. বিভিন্ন প্রকার কঠোর ও ওপর ধৈর্যধারণ করা। ধৈর্য হলো, ভালোবাসার পথের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ভালোবাসার দাবিদারদের জন্য এটা জরুরি যে, তারা বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করবে।
৩. আল্লাহর সঙ্গে নির্জনতা ও মুনাজাত এবং তাঁর কিতাবের তিলাওয়াত হবে তার প্রিয় জিনিস। তাই সে সর্বদা সে তারাজ্জুদ পড়বে। রাতের নীরবতা ও সকল প্রকার বাধামুক্ত অবসর সময়গুলোকে গণীমত মনে করবে। কারণ, আনন্দ লাভের সর্বনিম্ন স্তরটাই হলো- প্রিয়জনের সঙ্গে নির্জনে আলাপ করা। তাই যার নিকট ঘুম ও কথাবার্তা লিঙ্গ থাকা রাতের মুনাজাতের চেয়ে অধিক মজাদার হবে, তার ভালোবাসা কীভাবে বিশুদ্ধ হতে পারে? কারণ, প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের খেদমত ও আনুগত্য থাকার মাঝেই অধিক স্বাদ অনুভব করে। আর যখন ভালোবাসা শক্তিশালী হবে, তখন তার আনুগত্য ও খেদমতও শক্তিশালী হবে।
৪. তাঁর ওপর অন্য কোনো প্রিয় জিনিসকে প্রাধান্য না দেওয়া। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই তার নিকট অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া। নিম্নক্ত হাদীসে বর্ণিত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম বলেন-
كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَأَنْتَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا مِنْ نَفْسِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ فَإِنَّهُ الْآنَ وَاللَّهِ لَأَنْتَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْآنَ يَا عُمَرُ “আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি উমর রাযি. এর হাত ধরাবস্থায় ছিলেন। উমর রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আপনি আমার নিকট আমার প্রাণ ব্যতীত আর সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- না (চলবে না), আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার নিকট তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় না হব। এবার উমর রাযি. বললেন, এখন আপনি আমার নিকট আমার প্রাণের চেয়ে অধিক প্রিয়। এরপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এবার ঠিক আছে উমর!”
টিকাঃ
১০৪. সহীহ বুখারী
১০৫. সহীহ বুখারী: ২৭১৭
📄 আল্লাহকে ভালোবাসার একটি আলামত
১. বান্দা কর্তৃক আল্লাহর ওপর কোনো জিনিসকে প্রাধান্য না দেওয়া। না নিজের সন্তান বা পিতামাতাকে, না অন্য কোনো মানুষকে এবং না নিজ প্রবৃত্তিকে। যে আল্লাহর ওপর তার অন্য কোনো প্রিয় জিনিসকে প্রাধান্য দিল, তার অন্তর রোগাক্রান্ত।
২. সর্বদা আল্লাহর যিকির লেগে থাকা। জিহ্বা থেকে বিরতি না দেওয়া এবং অন্তর কখনও তা থেকে শূন্য না হওয়া। কারণ, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসে, অনিবার্যভাবেই সে তার ও তাঁর সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহের আলোচনা বেশি বেশি করবে। ফলে তাঁর ইবাদত, তাঁর কালাম, তাঁর স্মরণ, তাঁর আনুগত্য ও তাঁর ওলীদরেকে সে ভালোবাসবে।
৩. আল্লাহর কালামকে ভালোবাসা। তাই যখন তুমি তোমার নিজের মাঝে বা অন্য কারো মাঝে আল্লাহর ভালোবাসা আছে কি না তা পরীক্ষা করতে চাইবে, তখন দেখবে- তার অন্তরে কুরআনের ভালোবাসা আছে কি না। কারণ, এটা সকলের জানা কথা- যে কোনো প্রিয়জনকে ভালোবাসে, তার নিকট তার কথাই সর্বাধিক প্রিয় হয়।
৪. আল্লাহর সঙ্গে ইবাদত ও যিকির করার সুযোগ হয়নি বা ছুটে গেছে, তার জন্য আফসোস করা। তাই দেখবে, তার নিকট সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হবে কোনো একটি সময় নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই যখন তার থেকে কোনো একটি সময় চলে যায়, তখন সে তার জন্য এত ব্যথিত হয়, যা সম্পদের লোভী ব্যক্তির স্বীয় সম্পদ হাতছাড়া হওয়া, চুরি হওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা থেকে অধিক। সে দ্রুত এর কাযা করে নেয়, সুযোগ হওয়ার সাথে সাথেই।