📄 জূহ্দের সুফল
১. আল্লাহর সাক্ষাতের প্রতি আগ্রহ।
২. দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া এবং তার জন্য অনুতাপ না থাকা।
৩. নেতৃত্ব ও পদের লোভ থেকে মুসলিমদের সুরক্ষা।
৪. মানুষকে দেখানো ও খ্যাতি অর্জনের ফেতনা থেকে মুসলিমদের সুরক্ষা, যা আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে মন ফিরিয়ে রাখে।
৫. নারীদের ফেতনা থেকে সুরক্ষা।
৬. হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা এবং এমন সন্দেহ ও সংশয়পূর্ণ জিনিস থেকে দূরে থাকতে সহায়ক; যা হারামে পৌঁছে দেয়।
৭. ফুযাইল ইবনুল ইয়ায় রহ. বলেন, তোমাদের কলবে কিছুতেই ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা দুনিয়াবিরাগী হবে।
📄 কীভাবে আখিরাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে?
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আখিরাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে না। তাই দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয় ঈমানের ক্ষতির কারণে, অথবা আকাঙক্ষার ঘাটতির কারণে, অথবা উভয়টারই ঘাটতির কারণে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ দুনিয়াকে পচে নিক্ষেপ করেছেন। তারা তার থেকে তাদের অন্তর ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাকে এমনভাবে পরিত্যাগ করেছিলেন যে, তার প্রতি আর ঝুঁকবেননি। দুনিয়াকে কারাগার মনে করেননি; জান্নাতও নয়। তাই তারা দুনিয়ার ব্যাপারে প্রকৃত জুহুদ অবলম্বন করেছিলেন। তারা চাইলে দুনিয়ার সকল প্রিয় বস্তুই লাভ করতে পারতেন। প্রতিটি আগ্রহই পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু তারা বিশ্বাস করতেন– এটা হলো, কোনো রকমে অতিক্রম করার জায়গা; আনন্দের জায়গা নয়। এটা হলো, গ্রীষ্মের মৌসম; যা মুহূর্তে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এক উদ্ভট স্বপ্নের ন্যায়: যা এখনো দেখা হয়নি, অমনি বিদায়ের ঘণ্টা বাজায়।
📄 জূহ্দ অবলম্বনে সহায়ক বিষয়সমূহ
দুনিয়ার দ্রুত পতন, তার ক্ষণশীলতা, অসম্পূর্ণতা ও হীনতার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া এবং তাতে ভীতু জামানার মধ্যে যে দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগ রয়েছে তা চিন্তা করা।
আখিরাতের আগমন, তার স্থায়িত্ব ও তাতে যে সমস্ত নেয়ামত রয়েছে তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা চিন্তা করা।
মৃত্যু ও পরকালের কথা বেশি বেশি স্মরণ করা।
আখিরাতের জন্য মুক্ত হওয়া, আল্লাহর ইবাদতের দিকে মনোযোগী হওয়া এবং সময়গুলোকে যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের দ্বারা আবাদ করা।
দ্বীনি স্বার্থকে পার্থিব স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দেওয়া।
খরচ করা, দান করা এবং অধিক পরিমাণে সাদাকা করা।
দুনিয়াদারদের মজলিস ত্যাগ করা এবং আখিরাতপ্রেমীদের মজলিসের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
জুহুদের অধিকারী ব্যক্তিগণের ঘটনাবলি পাঠ করা, বিশেষত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামশের জীবনী অধ্যয়ন করা (এবং দুনিয়ার জীবনে তাঁদের পথে কদম রাখা)।
📄 দুনিয়াতে জূহ্দ অবলম্বন কোনো নফল বিষয় নয়
বরং এটা যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত কামনা করে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়। এর শ্রেষ্ঠের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তা অবলম্বন করেছিলেন। এটাই আল্লাহর ভালোবাসা এবং মানুষের ভালোবাসা লাভের একমাত্র পথ। হাদীসের মধ্যে এসেছে-
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ أَحَبَّنِي اللَّهُ وَأَحَبَّنِي النَّاسُ، فَقَالَ: ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ، وَازْهَدْ فِيمَا عِنْدَ النَّاسِ يُحِبَّكَ النَّاسُ “জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন; যা আমি করলে আল্লাহও আমাকে ভালোবাসেন এবং মানুষও আমাকে ভালোবাসবে। তখন তিনি বললেন- দুনিয়া বিমুখতা অবলম্বন কর; তাহলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের নিকট যা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে নির্মোহী হও; তাহলে মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।”
টিকাঃ
১০২