📄 তুমি কীভাবে দুনিয়াবিমুখ হবে? তার কয়েকটি পন্থা
১. বান্দা নিজের কাছে যা আছে, তার তুলনায় আল্লাহর নিকট যা আছে তার ওপর অধিক নির্ভরশীল হওয়া। আর এমন অবস্থা তৈরি হবে আখিরাতের প্রতি সত্যিকার ও নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারা। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বান্দাদের রিজিকের দায়িত্ব ও যিম্মাদারী নিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন — وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا “জমিনে যত প্রাণী আছে, সকলের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ্ই ওপর।”
২. বান্দার অবস্থা এমন হওয়া যে, যখন তার কোনো বিপদ আসে যেমন, সম্পদ, সন্তান বা অন্য কিছু চলে যায়, তখন সে দুনিয়ায় যা কিছু চলে গেছে: তার থেকে আখিরাতে যে বিনিময় স্থায়ীভাবে লাভ করবে, তার প্রতি অধিক আগ্রহী হবে। আর এটাও পরিপূর্ণ ইয়াক্বীনের দ্বারাই সৃষ্টি হয়।
৩. বান্দার নিকট ছুপের ব্যাপারে তার প্রশংসাকারী আর নিন্দাকারী সমান হয়ে যাওয়া: এটা দুনিয়া বিমুখতা, তাকে তুচ্ছ মনে করা ও তার প্রতি কম আগ্রহ থাকার একটি প্রমাণ। কারণ, যার নিকট দুনিয়া বড় হবে, সে প্রশংসাকে ভালোবাসবে এবং নিন্দাকে অপছন্দ করবে। ফলে এটা তাকে নিন্দার ভয়ে অনেক হক বর্জন করতে এবং প্রশংসার আশায় অনেক অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
সুতরাং যার নিকট তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হয়ে যাবে, তার অন্তর থেকে মাখলুকের বড়ত্ব দূর হয়ে যাবে এবং তার অন্তর আল্লাহর ভালোবাসা ও যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আছে, তা দ্বারা পরিপূর্ণ হবে।
টিকাঃ
১০০. সূরা হুদ: ৬
📄 দুনিয়ার স্বাদ ও আখিরাতের স্বাদের মাঝে পার্থক্য
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, আখিরাতের স্বাদ বড় ও স্থায়ী আর দুনিয়ার স্বাদ ছোট ও সাময়িক। এমনিভাবে দুনিয়ার কষ্ট ও আখিরাতের কষ্ট এমনই। আর এর ভিত্তি হলো, ঈমান ও ইয়াক্বীনের ওপর। তাই যখন ঈমান শক্তিশালী হবে এবং অন্তরের গভীরে প্রবেশ করবে, তখন সে উন্নত স্বাদকে নিকৃষ্টটার ওপর প্রাধান্য দেবে এবং কঠিন যন্ত্রণার পরিবর্তে লঘু যন্ত্রণা সহ্য করে নেবে। قَالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا “তারা বলল, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেই সত্তার কসম! আমাদের নিকট যে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলি এসেছে, তার ওপর আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারব না। সুতরাং তুমি যা করতে চাও কর, তুমি যাই কর না কেন, তা এ পার্থিব জীবনেই হবে।”
টিকাঃ
১. সূরা ত্বহা: ৭২
📄 জূহ্দই স্বস্তি
জনৈক দুনিয়াবির্মুখ সালাফ বলতেন, দুনিয়া বিমুখতা মন ও দেহের শক্তি। আর দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ চিন্তা ও পেরেশানির উদ্বেগ ঘটায়।
📄 এ দুটি একত্রিত হয় না
বলা হয়ে থাকে– আল্লাহ তাআলা দাউদ আ. এর নিকট ওহী পাঠালেন: আমি অন্তরসমূহের ওপর হারাম করেছি যে, একই অন্তরে আমার ভালোবাসা আর দুনিয়ার ভালোবাসা একত্রিত হওয়াকে। হে দাউদ! তুমি যদি আমাকে ভালোবাস; তাহলে অন্তর থেকে দুনিয়ার ভালোবাসা দূর করে ফেল। কারণ, আমার ভালোবাসা আর দুনিয়ার ভালোবাসা এক অন্তরে থাকতে পারে না। হে দাউদ! যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা সেই সময় আমার সামনে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়ে, যখন অলস লোকেরা ঘুমিয়ে পড়ে এবং তারা নির্জনে আমাকে স্মরণ করে, যখন গাফেলরা বিতোর থাকে।