📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 জূহ্দ এর সংজ্ঞা

📄 জূহ্দ এর সংজ্ঞা


যুহ্দ হলো, দুনিয়ার ধ্বংসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া; ফলে তা তুচ্ছ মনে হবে এবং তা থেকে বিমুখ থাকা সহজ হবে।
ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, যুহ্দ হলো স্বপ্ন আশা করা।
তাঁর থেকে একরূপ আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে, যুহ্দ হলো- দুনিয়া আসার কারণে আনন্দিত না হওয়া এবং চলে যাওয়ার কারণেও দুঃখিত না হওয়া। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার দিনার আছে, সে কি জাহেদ (দুনিয়া বিমুখ)? তিনি বললেন- হ্যাঁ, হতে পারে; শর্ত হলো, তা বৃদ্ধি পেলেও সে আনন্দিত হতে পারবে না এবং কমে গেলেও দুঃখিত হবে না।
আল্লাহ তাআলা যুহ্দ অবলম্বন করার প্রতি কিভাবে উৎসাহিত করেছেন। তা মানুষের জন্য পছন্দ করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন এবং তার বিপরীত অবস্থায় মন্দ বলেছেন। দুনিয়ার প্রতি আসক্তি আর আখিরাত থেকে বিমুখ হওয়াকে নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন — بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى “আসলে তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও; অথচ আখিরাতই শ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন — لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ “দুনিয়া যদি আল্লাহর নিকট মাছির পাখা সমপরিমাণও হতো; তাহলে আল্লাহ তাআলা কোনো কাফেরকে দুনিয়ার এক ফোঁটা পানিও পান করাতেন না।”
গভীর প্রজ্ঞাবাণী: ইমাম আহমাদ রহ. এর নিকট দুনিয়ার আলোচনা করা হলে তখন তিনি বললেন, দুনিয়ার অঙ্গ-ভঙ্গ মধ্যেই ই আর আধিক্য তৃষ্ণা বাড়ায়।

টিকাঃ
১. সূরা আ’লা: ১৬-১৭
১১. সহীহ মুসলিম

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 জূহ্দের হাকীকত

📄 জূহ্দের হাকীকত


জুহুদ বা দুনিয়া বিমুখতা দারিদ্র্যের নাম নয় এবং দুনিয়া তোমার থেকে বিমুখ, তাই তুমিও দুনিয়া থেকে বিমুখ– বিষয়টি এমনও নয়। বরং জুহুদ হলো– সম্পদের লোভ তোমার মধ্যে না থাকা; যদিও তা তোমার হাতে থাকে।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 তুমি কীভাবে দুনিয়াবিমুখ হবে? তার কয়েকটি পন্থা

📄 তুমি কীভাবে দুনিয়াবিমুখ হবে? তার কয়েকটি পন্থা


১. বান্দা নিজের কাছে যা আছে, তার তুলনায় আল্লাহর নিকট যা আছে তার ওপর অধিক নির্ভরশীল হওয়া। আর এমন অবস্থা তৈরি হবে আখিরাতের প্রতি সত্যিকার ও নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারা। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বান্দাদের রিজিকের দায়িত্ব ও যিম্মাদারী নিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন — وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا “জমিনে যত প্রাণী আছে, সকলের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ্ই ওপর।”
২. বান্দার অবস্থা এমন হওয়া যে, যখন তার কোনো বিপদ আসে যেমন, সম্পদ, সন্তান বা অন্য কিছু চলে যায়, তখন সে দুনিয়ায় যা কিছু চলে গেছে: তার থেকে আখিরাতে যে বিনিময় স্থায়ীভাবে লাভ করবে, তার প্রতি অধিক আগ্রহী হবে। আর এটাও পরিপূর্ণ ইয়াক্বীনের দ্বারাই সৃষ্টি হয়।
৩. বান্দার নিকট ছুপের ব্যাপারে তার প্রশংসাকারী আর নিন্দাকারী সমান হয়ে যাওয়া: এটা দুনিয়া বিমুখতা, তাকে তুচ্ছ মনে করা ও তার প্রতি কম আগ্রহ থাকার একটি প্রমাণ। কারণ, যার নিকট দুনিয়া বড় হবে, সে প্রশংসাকে ভালোবাসবে এবং নিন্দাকে অপছন্দ করবে। ফলে এটা তাকে নিন্দার ভয়ে অনেক হক বর্জন করতে এবং প্রশংসার আশায় অনেক অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
সুতরাং যার নিকট তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হয়ে যাবে, তার অন্তর থেকে মাখলুকের বড়ত্ব দূর হয়ে যাবে এবং তার অন্তর আল্লাহর ভালোবাসা ও যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আছে, তা দ্বারা পরিপূর্ণ হবে।

টিকাঃ
১০০. সূরা হুদ: ৬

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 দুনিয়ার স্বাদ ও আখিরাতের স্বাদের মাঝে পার্থক্য

📄 দুনিয়ার স্বাদ ও আখিরাতের স্বাদের মাঝে পার্থক্য


ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, আখিরাতের স্বাদ বড় ও স্থায়ী আর দুনিয়ার স্বাদ ছোট ও সাময়িক। এমনিভাবে দুনিয়ার কষ্ট ও আখিরাতের কষ্ট এমনই। আর এর ভিত্তি হলো, ঈমান ও ইয়াক্বীনের ওপর। তাই যখন ঈমান শক্তিশালী হবে এবং অন্তরের গভীরে প্রবেশ করবে, তখন সে উন্নত স্বাদকে নিকৃষ্টটার ওপর প্রাধান্য দেবে এবং কঠিন যন্ত্রণার পরিবর্তে লঘু যন্ত্রণা সহ্য করে নেবে। قَالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا “তারা বলল, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেই সত্তার কসম! আমাদের নিকট যে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলি এসেছে, তার ওপর আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারব না। সুতরাং তুমি যা করতে চাও কর, তুমি যাই কর না কেন, তা এ পার্থিব জীবনেই হবে।”

টিকাঃ
১. সূরা ত্বহা: ৭২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00