📄 জবানের ব্যাপারে সালাফদের অবস্থা
হাসান বসরি রহ. বলেন, জিহ্বা হলো দেহের নিয়ন্ত্রক। যখন জিহ্বা কোনো অপরাধ করে, তখন অন্যান্য অপরাধে লিপ্ত হয়। জিহ্বা বিরত থাকলে অন্যান্য অঙ্গও বিরত থাকে।
হাসান ইবনে সালেহ রহ. বলেন, আমি তাকওয়ার অনুসন্ধান করলাম। জিহ্বার চেয়ে কম তাকওয়া অন্য কোনো অঙ্গে পাইনি।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বকর সিদ্দীক রাযি. এর নিকট গেলেন। তিনি দেখলেন, আবু বকর রাযি. তাঁর জিহ্বা টেনে ধরেছেন। উমর রাযি. বললেন, থামুন! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন! আবু বকর রাযি. বললেন, এ বস্তুই আমাকে मुसीबत ফেলেেছে।
কে বললেন এ কথা? তিনি হলেন নবী-রাসূলগণের পরে সর্বোত্তম ব্যক্তি– আবু বকর রাযি.। আউস ইবনে কায়সান রহ. দীর্ঘ নীরবতার ব্যাপারে ওযর পেশ করতেন। তিনি বলতেন, আমি আমার জিহবাকে পরীক্ষা করেছি, আমি দেখলাম সে অনেক তিরস্কৃত ও হীন প্রকৃতির।
📄 কীভাবে তুমি তোমার দোষ-ত্রুটি গোপন করবে?
ইমাম নববী রহ. বলেন, কাস ইবনে সায়িদা ও আকসাম ইবনে সাইফী রহ. এক জায়গায় একত্রিত হলেন। একজন আরেকজনকে বললেন, আদম সন্তানের মধ্যে কী পরিমাণ দোষ পেলে? অপরজন বলল, তা অগুনতি। আমি আট হাজার জনকে গুণেছি। তারপর একটি পদ্ধতি পেয়েছি, যেটি অবলম্বন করলে তুমি তোমার সব দোষ গোপন করতে পারবে। প্রথমজন বললেন, তা কী? অপরজন বললেন, তা হচ্ছে জবানের হেফাজত করা।
📄 জবানের হেফাযত মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য
জনৈক তাবেয়ী বলেন, আমি আতা ইবনে আবী রাবাহ রহ. এর সাথে ত্রিশ বছর মক্কা মোকাররমায় অবস্থান করেছি। এ সময় তিনি কখনও আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের আলোচনা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিক্ষেপ ও অতি প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া কোনো কথা বলেননি। আমরা তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তোমরা কেন বোঝো না! তোমরা কি ভুলে গেছ? তোমাদের ওপর ফেরেশতা নিযুক্ত আছে; যারা তোমাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংরক্ষণ করেন এবং প্রতিটি কথাবার্তা লিখে রাখেন। এর দ্বারা আল্লাহ সায়ামের তোমাদেরকে হিসাবের সম্মুখীন করবেন।
📄 যে সমস্ত বিষয় থেকে জিহ্বাকে হেফাযত করতে হবে
অভিশাপ দেওয়া, অশ্লীল ও লাগামহীন কথাবার্তা বলা, বেশি বেশি আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক হাসি-ঠাট্টা করা, আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক অনর্থক কথাবার্তা অধিক পরিমাণে বলা এবং গীবত, চোগলখুরি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা থেকে জিহ্বাকে হেফাজত করতে হবে। বিশেষত আল্লাহর আয়াত, কিতাবসমূহ, নবী-রাসূল, উলামা, তালিগণ এবং দায়ী ও মুজাহিদদেরকে নিয়ে ঠাট্টা- বিদ্রূপ করা থেকে জিহ্বাকে হেফাজত করতে হবে। কারণ, এগুলো নেফাকি ক্বিালামত।