📄 প্রকৃত মুমিন
যার অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব বিচরণ করে, তার দেহ-মন সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। যার অন্তর অনুগত হয় এবং মন বিনীত হয়, সে তার কুক্কুটে রবের সাথে নিজের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলে– হে আল্লাহ! তোমার জন্যই কুক্কুট করলাম, তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং তোমার নিকটই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কর্ণ, চক্ষু, মগজ, অস্থি, চর্বি সব তোমার সামনে নত হয়েছে।
এ কারণেই ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, তুমি যদি তোমার অন্তর পরিশুদ্ধ করে নিতে পার; তাহলে তুমি আর কাউকে ভয় করবে না।
এই যে ইবুন আবদুস সালাম, তিনি এক জালেম শাসকের সামনে এসে কঠোর ভাষায় কথা বললেন। তারপর যখন তিনি প্রত্যাগমন করলেন, তখন লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করল, হে ইমাম! আপনি তাকে ভয় করলেন না? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বড়ত্বের কথা চিন্তা করছিলাম, এ কারণে সে আমার নিকট বিড়ালের ন্যায় হয়ে গেল।
কিন্তু এখন দেখি- অনেক মানুষ অফিসার, আইন-প্রশাসন ইত্যাদি কাকে আল্লাহর থেকে অধিক ভয় করে! কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা তাদের অন্তরের সমস্যা। আর জ্ঞানী ব্যক্তি নিজেই স্বীয় কল্যাণ অনুধাবন করতে পারে।
📄 মুসলিমের জীবনে আল্লাহর বড়ত্ব অনুধাবনের গুরুত্ব
যে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের প্রতি দৃষ্টি দেবে, সে তাঁর সম্মানিত বিষয়সমূহকে সম্মান করবে এবং তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন করবে, তাঁর আদেশ-নিষেধকে বড় মনে করবে এবং তাঁর একটি ছোট অবাধ্যতাও তার কাছে অনেক ভারী মনে হবে। সে আল্লাহকে এমন ভয় করবে; যেন একটি আস্ত পাহাড় তার ওপর পতিত হবে।
আমরা যদি আল্লাহর বড়ত্ব অনুধাবন করি, তাঁর প্রতি যে দাসত্ব, আনুগত্য ও বিনয় প্রদর্শন করা আবশ্যক; তা উপলব্ধি করি এবং তাঁর যথাযথ হক বুঝতে সক্ষম হই; তাহলে আমরা নিজেদের মন থেকে বেশি হিসাব নিতে পারব। আমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতরাজি ও আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর অবাধ্যতার পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে পারব এবং আমাদের প্রতি তাঁর হক ও আমরা আমাদের আখিরাতের জন্য কি অগ্রে প্রেরণ করেছি; তাও মিলিয়ে দেখতে পারব।
📄 বড়ত্ব আল্লাহর একটি গুণ
ইমাম আসবাহানী রহ. বলেন, বড়ত্ব আল্লাহর একটি গুণ, কোনো সৃষ্টি এর উপযুক্ত নয়।
তবে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির মাঝেও এক প্রকার বড়ত্ব সৃষ্টি করেছেন, এর মাধ্যমে একজন অন্যজনকে মর্যাদা দান করেন।
যেমন মানুষের মধ্যে কেউ সম্পদকে বড় মনে করে।
কেউ সন্তানকে বড় মনে করে।
কেউ ইলমকে বড় মনে করে।
কেউ ক্ষমতাকে বড় মনে করে।
কেউ পদকে বড় মনে করে।
এভাবে প্রত্যেকেই একটিকে অপরটির তুলনায় বড় মনে করে এবং একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করে।
আর আল্লাহ তাআলা সর্বাবস্থায়ই বড় এবং সম্মানিত। সুতরাং যে আল্লাহর বড়ত্বকে হক বুঝতে পেরেছে, তার উচিত এমন কথা না বলা; যা আল্লাহ অপছন্দ করেন। আর কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে নিপতিত না হওয়া, কারণ তিনি বান্দার সকল কর্ম সম্পর্কে অবগত।
ফুযাইল ইবনে ইয়ায়াকে বলা হলো, সর্বাধিক আশ্চর্যজনক জিনিস কী? তিনি বললেন, তা হলো- তুমি আল্লাহকে চেন; কিন্তু তারপরেও তাঁর অবাধ্যতা কর।