📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 নিজেকে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনায় অভ্যস্ত কর

📄 নিজেকে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনায় অভ্যস্ত কর


যখন বান্দা নামাজের মধ্যে হৃদয় ও আত্মাকে বিনয়, স্থিরতা এবং মনোযোগ ও ভাবনার ওপর অভ্যস্ত করে তুলবে, তখন তার মনে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা গেঁথে যাবে। তাঁর দান ও নেয়ামত পাবার আশা দৃঢ় হবে এবং প্রত্যেক কাজে আল্লাহর ভয় তাকে সহায়তা করবে। তার কোনো অবস্থা ও কোনো কাজ তার সৃষ্টিকর্তার ভয়শূন্য হবে না।
ফলে শয়তান যখন তাকে কোনো বিষয়ে প্ররোচিত করবে, কোনো মন্দ বিষয়কে তার সামনে সুন্দর করে তুলবে, তখন সে এ কথা বলে তা থেকে মুক্ত থাকবে– “إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ আমি সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করি।”

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 যিকির দুই প্রকার

📄 যিকির দুই প্রকার


কাযী ইয়ায রহ. বলেন, আল্লাহর যিকির দুই প্রকার: অন্তরের যিকির এবং জবানের যিকির। অন্তরের যিকির আবার দুই প্রকার:
ক. আল্লাহ তাআলা'র বড়ত্ব, মহত্ত্ব, ক্ষমতা, রাজত্ব এবং জমিন ও আসমানে তাঁর নিদর্শনাবলির ব্যাপারে চিন্তা করা। এটা-ই হলো, সর্বোন্নত ও সবচেয়ে বড় যিকির।
খ. তাঁর আদেশ-নিষেধ পালনের সময় অন্তরে তাঁকে স্মরণ করা। আর স্মরণ করার মাধ্যমে তিনি যা আদেশ করেছেন, তা পালন করা আর তিনি যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা এবং সে সকল বিষয় সন্দেহপূর্ণ তার নিকট থেকে যাওয়া!
আর জবানের যিকির: এটা হলো যিকিরসমূহের মাঝে দুর্বল যিকির; কিন্তু তথাগি এর মধ্যেও মহাফযীলত রয়েছে, যা অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহর যিকিরের সুফল

📄 আল্লাহর যিকিরের সুফল


আল্লাহ তাআলা'র যিকির অন্তরে তাঁর বড়ত্বের উপলব্ধি সৃষ্টি করে এবং এ কথার অনুভূতি সৃষ্টি করে যে, তিনিই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত। তিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে টলে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন এবং এরও সকল সংস্থাপনে তিনি ক্লান্ত হন না। আর তখনই যিকিরকারী সফলতা ও প্রশান্তি অনুভব করবে, যে সফলতা ও প্রাপ্তির অনুভূতি তাঁর অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ঢেকে নেবে।
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ “যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হয়। শুনে রেখ, আল্লাহর যিকিরে অন্তর প্রশান্ত হয়।”

টিকাঃ
৬৬. সূরা রা'দ: ২৮

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহ মহামহিয়ান

📄 আল্লাহ মহামহিয়ান


ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে আশ্চৰ্যবোধ করি:
তুমি আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছ; কিন্তু তাঁকে ভালোবাসো না। তুমি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের আহ্বানে শুন; কিন্তু সাড়া দিতে বিলম্ব কর। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল করলে কী লাভ- তা তুমি জান; কিন্তু তুমি সে আমলটা আল্লাহর জন্য না করে অন্যের জন্য কর। আল্লাহর গযবের ভয়াবহতা সম্পর্কে তুমি জান; কিন্তু সেই গযবের কাজেই নিপতিত হও।
তুমি আল্লাহ তাআলা'র অবাধ্যতার মধ্যে বিষণ্ণতার যন্ত্রণা অনুভব কর; তথাপি তুমি তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ঘনিষ্ঠতা অন্বেষণ কর না। তুমি আল্লাহর কথা ব্যতীতও অন্য কিছুতে লিপ্ত হওয়া ও তাঁর আলোচনা করার মাধ্যমে অন্তরে তাঁর সকর্তীপূর্ণ আনুগত্য অনুভব কর; তথাপি তাঁর স্মরণ ও তাঁর সঙ্গে মুনাজাতের মাধ্যমে বক্ষ প্রশংসা প্রতি আগ্রহী হও না।
তুমি আল্লাহ ব্যতীতও অন্য কিছু সম্পর্কে সম্পর্কিত হলে অবশ্যই অনুভব কর; কিন্তু তবুও আল্লাহর দিকে মনোযোগ ও অনুরাগী হওয়ার মাধ্যমে তা থেকে পলায়ন কর না।
এর থেকে আরও আশ্চৰ্যজনক হলো, তুমি জান– তাঁকে ছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই এবং তুমিই তাঁর নিকট সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী; তথাপি তুমি তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে আছ। আর যা তাঁর থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করবে, তুমি সেদিকেই ধাবিত হচ্ছ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00