📄 আল্লাহ তাআলা’র নাম ও গুণাবলিতে তাঁর বড়ত্বের কথা চিন্তা কর
আল্লাহ্ তাআলা'র বড়ত্বের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্ মাঝে অনেক বর্ণনা রয়েছে। একজন মুসলিম যখন তা ভাববে, তখন তাঁর অন্তর কেঁপে উঠবে, হৃদয় স্পন্দিত হবে, মন বিনয়াবনত হবে, তাঁর চেহারা মহামহিম আল্লাহ্র সামনে ঝুঁকে যাবে, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সর্বতোভা ও সর্বাঙ্গ আল্লাহ্র জন্য নুয়ে পড়বে। পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ভয় বেড়ে যাবে এবং দাসত্বের মেহরাবে তাঁর গর্দান সিজদায় লুটিয়ে পড়বে।
তার যে সমস্ত সুন্দর নাম ও উন্নত গুণাবলি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তার মধ্যে রয়েছে-
الْعَظِيمُ الْمُهَيْمِنُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْقَوِىُ الْمُتَعَالِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى
“তিনি মহান, প্রতাপশালী, পরাক্রমশালী, বড়ত্বের অধিকারী, শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী, বড়, সুউচ্চ, পবিত্র, উন্নত।”
وَهُوَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ
“তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আর জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করে।”
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ
“তিনি নিজ বান্দাদের ওপর ক্ষমতাশালী। বজ্র ও ফেরেশতাগণ তাঁর ভয়ে তাঁর প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে।”
عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ ، قَيُّومٌ لَا يَنَامُ، وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ، يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
“তিনি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। চিরপ্রতিষ্ঠিত, কখনও ঘুমান না। তিনি সব জিনিসকে ইলমের মাধ্যমে পরিব্যাপ্ত করে আছেন। তিনি চোখের গোপন খেয়ানত এবং অন্তরে যা আছে, তাও জানেন।”
📄 গুনাহের কিছু কুফল
ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, গুনাহের একটি কুফল হলো, তা অন্তরে মহান আল্লাহর বড়ত্ব কমিয়ে দেয়।
বিশর আল-হাফি রহ. বলেন, মানুষ যদি আল্লাহর বড়ত্বের ব্যাপারে চিন্তা করত, তাহলে কখনো তাঁর অবাধ্যতা করত না।
যার অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব হালকা হয়ে যায়, যার অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব দুর্বল হয়ে যায়, তার গুনাহ ও অবাধ্যতা করা সহজ হয়ে যায়। সে যেন জেনে রাখে যে, সে নিজেই ক্ষতি করছে। আল্লাহ তাআলা'র অসংখ্য বান্দা রয়েছে: যারা আল্লাহ তাআলা'র আদেশের অবাধ্যতা করে না এবং তাদেরকে যে আদেশ করা হয়, তারা তা-ই পালন করে। যারা সংখ্যায় আমাদের চেয়েও অধিক এবং আমাদের চেয়েও বেশি ভয় ও ইবাদত করে। তারা দিবারাত্রি আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে, কখনো বিরতি দেয় না।
📄 নিজেকে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনায় অভ্যস্ত কর
যখন বান্দা নামাজের মধ্যে হৃদয় ও আত্মাকে বিনয়, স্থিরতা এবং মনোযোগ ও ভাবনার ওপর অভ্যস্ত করে তুলবে, তখন তার মনে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা গেঁথে যাবে। তাঁর দান ও নেয়ামত পাবার আশা দৃঢ় হবে এবং প্রত্যেক কাজে আল্লাহর ভয় তাকে সহায়তা করবে। তার কোনো অবস্থা ও কোনো কাজ তার সৃষ্টিকর্তার ভয়শূন্য হবে না।
ফলে শয়তান যখন তাকে কোনো বিষয়ে প্ররোচিত করবে, কোনো মন্দ বিষয়কে তার সামনে সুন্দর করে তুলবে, তখন সে এ কথা বলে তা থেকে মুক্ত থাকবে– “إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ আমি সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করি।”
📄 যিকির দুই প্রকার
কাযী ইয়ায রহ. বলেন, আল্লাহর যিকির দুই প্রকার: অন্তরের যিকির এবং জবানের যিকির। অন্তরের যিকির আবার দুই প্রকার:
ক. আল্লাহ তাআলা'র বড়ত্ব, মহত্ত্ব, ক্ষমতা, রাজত্ব এবং জমিন ও আসমানে তাঁর নিদর্শনাবলির ব্যাপারে চিন্তা করা। এটা-ই হলো, সর্বোন্নত ও সবচেয়ে বড় যিকির।
খ. তাঁর আদেশ-নিষেধ পালনের সময় অন্তরে তাঁকে স্মরণ করা। আর স্মরণ করার মাধ্যমে তিনি যা আদেশ করেছেন, তা পালন করা আর তিনি যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা এবং সে সকল বিষয় সন্দেহপূর্ণ তার নিকট থেকে যাওয়া!
আর জবানের যিকির: এটা হলো যিকিরসমূহের মাঝে দুর্বল যিকির; কিন্তু তথাগি এর মধ্যেও মহাফযীলত রয়েছে, যা অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।