📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আন্তরিকভাবে আল্লাহকে সম্মান করার বিভিন্ন রূপ

📄 আন্তরিকভাবে আল্লাহকে সম্মান করার বিভিন্ন রূপ


১. আল্লাহ্ তাআলা-কে সম্মান করার একটি আলামত হলো, তাঁর কোনো সৃষ্টিকে তাঁর সমকক্ষ মনে না করা, কথার মাধ্যমেও না। যেমন, এরূপ বলা- আল্লাহ্ ও তোমার শপথ, আল্লাহ্ ও তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, আল্লাহ্ এবং তুমি যা চাও ইত্যাদি।
২. ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদাদানের ক্ষেত্রেও না (অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে কাউকে সমকক্ষ বানাবে না)।
৩. এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রেও না। যেমন, তুমি মাখলুকের আদেশ-নিষেধের এমনভাবে আনুগত্য করলে; যেমনভাবে আল্লাহ্ তাআলা'র আনুগত্য করা, বরং এর চেয়ে বেশি করলে, যেমনটা অধিকাংশ জালেম ও পাপাচারী করে থাকে।
৪. ভয় ও আশার মধ্যে সমকক্ষ স্থির করবে না। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা'র বিষয়গুলোকে সহজভাবে দেখবে না, তাঁর হককে ছোট করে দেখবে না। সেগুলোর ব্যাপারে এ কথা বলবে না যে, এগুলো সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং এগুলোকে অতিরিক্ত বিষয় বানাবে না বা এগুলোর ওপর মাখলুকের হককে প্রাধান্য দেবে না।
৫. এমন যেন না হয় যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল একদিকে আর মানুষজন অন্যদিকে। তখন তুমি মানুষের দিকে থাকলে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে থাকলে না।
৬. মাখলুকের সাথে কথা বলার সময় তাদের স্বীয় মন ও বিবেক সঁপে দেওয়া আর আল্লাহ্র (দীনের) খেমত করার সময় শুধু শরীর ও জিহ্বা দেওয়া- এমন অবস্থা থেকে বিরত থাকবে।
৭. নিজের উদ্দেশ্যকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যের ওপর প্রাধান্য দেবে না।
৮. আল্লাহ্র সম্মানের আরেকটি রূপ হলো, স্বীয় মনের ভেতরের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ্র অবগত হওয়াকে লজ্জা করবে। তিনি তোমার মাঝে দেখেন এমন জিনিসকে, যা তিনি অপছন্দ করেন।
৯. তাঁর সম্মানের আরেকটি রূপ হলো, নবী-রাসূল মানুষকে যতটা লজ্জা করবে, নির্জনে আল্লাহ্ তাআলা-কে তাঁর চেয়ে বেশি লজ্জা করবে।
এসব হলো, অন্তরে আল্লাহ্র সম্মান থাকার বিভিন্ন রূপ। যে ব্যক্তি আল্লাহকে যথাযথভাবে সম্মান করবে না, আল্লাহ্ তাআলা মানুষের অন্তরে তাঁর ভয় সৃষ্টি করবেন না। বরং মানুষের অন্তর থেকে তাঁর ভয় ও সম্মান উঠে যাবে। যদিও তার অনিষ্টের ভয়ে তাকে (বাহ্যিক) সম্মান দেখায়; কিন্তু এটা হচ্ছে ঘৃণার সম্মান। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্মান নয়।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহ তাআলা’র নাম ও গুণাবলিতে তাঁর বড়ত্বের কথা চিন্তা কর

📄 আল্লাহ তাআলা’র নাম ও গুণাবলিতে তাঁর বড়ত্বের কথা চিন্তা কর


আল্লাহ্ তাআলা'র বড়ত্বের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্ মাঝে অনেক বর্ণনা রয়েছে। একজন মুসলিম যখন তা ভাববে, তখন তাঁর অন্তর কেঁপে উঠবে, হৃদয় স্পন্দিত হবে, মন বিনয়াবনত হবে, তাঁর চেহারা মহামহিম আল্লাহ্র সামনে ঝুঁকে যাবে, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সর্বতোভা ও সর্বাঙ্গ আল্লাহ্র জন্য নুয়ে পড়বে। পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ভয় বেড়ে যাবে এবং দাসত্বের মেহরাবে তাঁর গর্দান সিজদায় লুটিয়ে পড়বে।
তার যে সমস্ত সুন্দর নাম ও উন্নত গুণাবলি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তার মধ্যে রয়েছে-
الْعَظِيمُ الْمُهَيْمِنُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْقَوِىُ الْمُتَعَالِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى
“তিনি মহান, প্রতাপশালী, পরাক্রমশালী, বড়ত্বের অধিকারী, শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী, বড়, সুউচ্চ, পবিত্র, উন্নত।”
وَهُوَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ
“তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আর জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করে।”
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ
“তিনি নিজ বান্দাদের ওপর ক্ষমতাশালী। বজ্র ও ফেরেশতাগণ তাঁর ভয়ে তাঁর প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে।”
عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ ، قَيُّومٌ لَا يَنَامُ، وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ، يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
“তিনি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। চিরপ্রতিষ্ঠিত, কখনও ঘুমান না। তিনি সব জিনিসকে ইলমের মাধ্যমে পরিব্যাপ্ত করে আছেন। তিনি চোখের গোপন খেয়ানত এবং অন্তরে যা আছে, তাও জানেন।”

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 গুনাহের কিছু কুফল

📄 গুনাহের কিছু কুফল


ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, গুনাহের একটি কুফল হলো, তা অন্তরে মহান আল্লাহর বড়ত্ব কমিয়ে দেয়।
বিশর আল-হাফি রহ. বলেন, মানুষ যদি আল্লাহর বড়ত্বের ব্যাপারে চিন্তা করত, তাহলে কখনো তাঁর অবাধ্যতা করত না।
যার অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব হালকা হয়ে যায়, যার অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব দুর্বল হয়ে যায়, তার গুনাহ ও অবাধ্যতা করা সহজ হয়ে যায়। সে যেন জেনে রাখে যে, সে নিজেই ক্ষতি করছে। আল্লাহ তাআলা'র অসংখ্য বান্দা রয়েছে: যারা আল্লাহ তাআলা'র আদেশের অবাধ্যতা করে না এবং তাদেরকে যে আদেশ করা হয়, তারা তা-ই পালন করে। যারা সংখ্যায় আমাদের চেয়েও অধিক এবং আমাদের চেয়েও বেশি ভয় ও ইবাদত করে। তারা দিবারাত্রি আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে, কখনো বিরতি দেয় না।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 নিজেকে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনায় অভ্যস্ত কর

📄 নিজেকে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনায় অভ্যস্ত কর


যখন বান্দা নামাজের মধ্যে হৃদয় ও আত্মাকে বিনয়, স্থিরতা এবং মনোযোগ ও ভাবনার ওপর অভ্যস্ত করে তুলবে, তখন তার মনে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা গেঁথে যাবে। তাঁর দান ও নেয়ামত পাবার আশা দৃঢ় হবে এবং প্রত্যেক কাজে আল্লাহর ভয় তাকে সহায়তা করবে। তার কোনো অবস্থা ও কোনো কাজ তার সৃষ্টিকর্তার ভয়শূন্য হবে না।
ফলে শয়তান যখন তাকে কোনো বিষয়ে প্ররোচিত করবে, কোনো মন্দ বিষয়কে তার সামনে সুন্দর করে তুলবে, তখন সে এ কথা বলে তা থেকে মুক্ত থাকবে– “إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ আমি সকল জগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করি।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00