📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 এ মহাসৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করা

📄 এ মহাসৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করা


এ বিশাল সৃষ্টি- আসমান, জমিন, পাহাড়, বৃক্ষ, পানি, মাটি ইত্যাদি সমস্ত সৃষ্টিকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর আঙুলে রাখবেন এবং উভয় মুঠিতে জমা করবেন, যেমনটা বিশুদ্ধ দলিলাদি দ্বারা প্রমাণিত।
তাই এটাই আল্লাহ্ তাআলা বড়ত্বের প্রমাণ দেয়: এ বিশাল সৃষ্টি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র নিকট ক্ষুদ্র হওয়ায় তাঁর বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও পরাক্রমতার প্রমাণ বহন করে। এ কারণেই মহিমান্বয় আল্লাহ্ বলেছেন- وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ অর্থাৎ তারা আল্লাহ্র যথাযথ বড়ত্ব প্রকাশ করেনি।
মহান আল্লাহ্র বড়ত্ব, শক্তি, ক্ষমতা ও মহাপরাক্রমশীলতা বুঝা আমাদের কতই না প্রয়োজন!
আমাদের জন্য জরুরি আল্লাহ্ তাআলা'র মহত্ত্ব বুঝা এবং তাঁকে সর্বপ্রকার ত্রুটি থেকে পবিত্র জানা। আমরা যখন এটা বুঝব, তখন আমাদের অন্তরে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর আদেশ-নিষেধের ভালোবাসা, মহত্ত্ব ও সম্মান সৃষ্টি হবে।
আল্লাহ্ তাআলা বলেন- مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وِقَارًا অর্থাৎ তোমাদের কি হলো! তোমরা যে আল্লাহ্র বড়ত্ব বজায় রাখছ না? তাঁর সাথে সম্মানের ব্যবহার করছ না?
হাসান বসরী রহ. বলেন, অর্থাৎ তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহ্ তাআলা'র হক্ব বোঝ না এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় কর না?
মুজাহিদ রহ. বলেন, অর্থাৎ তোমাদের রবের বড়ত্বের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না?
ইবনুল আব্বাস রাযি. বলেন, তাঁর যথাযথ সম্মান করব না?
ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, এ সকল উক্তির অর্থ একটিই। তা হচ্ছে, তারা যদি আল্লাহ্ তাআলা'র বড়ত্ব প্রকাশ করত এবং তাঁর যথাযথ সম্মান করত; তাহলে অবশ্যই তাঁকে এক ও স্বীকার করত। তাঁর আনুগত্য করত এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করত। আর আল্লাহ্ তাআলা'র আনুগত্য হচ্ছে- তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর সম্মান অনুযায়ী তাঁর লজ্জা করা।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সবচেয়ে বড় মূর্খতা

📄 সবচেয়ে বড় মূর্খতা


ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, সবচেয়ে বড় জুলুম ও মূর্খতা হলো- তুমি মানুষের নিকট হতে শ্রদ্ধা ও সম্মান কামনা করবে; অথচ তোমার অন্তর আল্লাহ্ তাআলা'র বড়ত্ব ও মর্যাদা থেকে খালি থাকবে। কারণ, যে মুহূর্তে মানুষ তোমাকে দেখেছে বলে তুমি তাকে সম্মান কর, ঠিক সে মুহূর্তেও যে আল্লাহ্ তাআলা তোমাকে দেখেছেন; তা তোমার জানা সত্ত্বেও তাঁকে সম্মান করছ না।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আন্তরিকভাবে আল্লাহকে সম্মান করার বিভিন্ন রূপ

📄 আন্তরিকভাবে আল্লাহকে সম্মান করার বিভিন্ন রূপ


১. আল্লাহ্ তাআলা-কে সম্মান করার একটি আলামত হলো, তাঁর কোনো সৃষ্টিকে তাঁর সমকক্ষ মনে না করা, কথার মাধ্যমেও না। যেমন, এরূপ বলা- আল্লাহ্ ও তোমার শপথ, আল্লাহ্ ও তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, আল্লাহ্ এবং তুমি যা চাও ইত্যাদি।
২. ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদাদানের ক্ষেত্রেও না (অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে কাউকে সমকক্ষ বানাবে না)।
৩. এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রেও না। যেমন, তুমি মাখলুকের আদেশ-নিষেধের এমনভাবে আনুগত্য করলে; যেমনভাবে আল্লাহ্ তাআলা'র আনুগত্য করা, বরং এর চেয়ে বেশি করলে, যেমনটা অধিকাংশ জালেম ও পাপাচারী করে থাকে।
৪. ভয় ও আশার মধ্যে সমকক্ষ স্থির করবে না। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা'র বিষয়গুলোকে সহজভাবে দেখবে না, তাঁর হককে ছোট করে দেখবে না। সেগুলোর ব্যাপারে এ কথা বলবে না যে, এগুলো সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং এগুলোকে অতিরিক্ত বিষয় বানাবে না বা এগুলোর ওপর মাখলুকের হককে প্রাধান্য দেবে না।
৫. এমন যেন না হয় যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল একদিকে আর মানুষজন অন্যদিকে। তখন তুমি মানুষের দিকে থাকলে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে থাকলে না।
৬. মাখলুকের সাথে কথা বলার সময় তাদের স্বীয় মন ও বিবেক সঁপে দেওয়া আর আল্লাহ্র (দীনের) খেমত করার সময় শুধু শরীর ও জিহ্বা দেওয়া- এমন অবস্থা থেকে বিরত থাকবে।
৭. নিজের উদ্দেশ্যকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যের ওপর প্রাধান্য দেবে না।
৮. আল্লাহ্র সম্মানের আরেকটি রূপ হলো, স্বীয় মনের ভেতরের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ্র অবগত হওয়াকে লজ্জা করবে। তিনি তোমার মাঝে দেখেন এমন জিনিসকে, যা তিনি অপছন্দ করেন।
৯. তাঁর সম্মানের আরেকটি রূপ হলো, নবী-রাসূল মানুষকে যতটা লজ্জা করবে, নির্জনে আল্লাহ্ তাআলা-কে তাঁর চেয়ে বেশি লজ্জা করবে।
এসব হলো, অন্তরে আল্লাহ্র সম্মান থাকার বিভিন্ন রূপ। যে ব্যক্তি আল্লাহকে যথাযথভাবে সম্মান করবে না, আল্লাহ্ তাআলা মানুষের অন্তরে তাঁর ভয় সৃষ্টি করবেন না। বরং মানুষের অন্তর থেকে তাঁর ভয় ও সম্মান উঠে যাবে। যদিও তার অনিষ্টের ভয়ে তাকে (বাহ্যিক) সম্মান দেখায়; কিন্তু এটা হচ্ছে ঘৃণার সম্মান। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্মান নয়।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহ তাআলা’র নাম ও গুণাবলিতে তাঁর বড়ত্বের কথা চিন্তা কর

📄 আল্লাহ তাআলা’র নাম ও গুণাবলিতে তাঁর বড়ত্বের কথা চিন্তা কর


আল্লাহ্ তাআলা'র বড়ত্বের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্ মাঝে অনেক বর্ণনা রয়েছে। একজন মুসলিম যখন তা ভাববে, তখন তাঁর অন্তর কেঁপে উঠবে, হৃদয় স্পন্দিত হবে, মন বিনয়াবনত হবে, তাঁর চেহারা মহামহিম আল্লাহ্র সামনে ঝুঁকে যাবে, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সর্বতোভা ও সর্বাঙ্গ আল্লাহ্র জন্য নুয়ে পড়বে। পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ভয় বেড়ে যাবে এবং দাসত্বের মেহরাবে তাঁর গর্দান সিজদায় লুটিয়ে পড়বে।
তার যে সমস্ত সুন্দর নাম ও উন্নত গুণাবলি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তার মধ্যে রয়েছে-
الْعَظِيمُ الْمُهَيْمِنُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْقَوِىُ الْمُتَعَالِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى
“তিনি মহান, প্রতাপশালী, পরাক্রমশালী, বড়ত্বের অধিকারী, শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী, বড়, সুউচ্চ, পবিত্র, উন্নত।”
وَهُوَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ
“তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আর জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করে।”
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ
“তিনি নিজ বান্দাদের ওপর ক্ষমতাশালী। বজ্র ও ফেরেশতাগণ তাঁর ভয়ে তাঁর প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে।”
عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ ، قَيُّومٌ لَا يَنَامُ، وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ، يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
“তিনি পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। চিরপ্রতিষ্ঠিত, কখনও ঘুমান না। তিনি সব জিনিসকে ইলমের মাধ্যমে পরিব্যাপ্ত করে আছেন। তিনি চোখের গোপন খেয়ানত এবং অন্তরে যা আছে, তাও জানেন।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00