📄 যে বিষয়টি সকল ইবাদতের মাঝে পাওয়া যায়
আন্তরিক ও বাহ্যিক সকল আমলের ব্যাপারে কেউ চিন্তা করলে দেখবে, সবগুলোর মধ্যেই আল্লাহর প্রতি দীনতা প্রকাশ করার বিষয়টি রয়েছে। তাই এটি সকল ইবাদতের সমন্বয়ক। সুতরাং ইবাদতের মধ্যে বান্দার দীনতা প্রকাশের পরিমাণ অনুযায়ী তার প্রভাব পড়বে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য উপকারী হবে। আপনি শুধু সর্ববৃহৎ কার্যগত ইবাদত– নামাজের মধ্যেই চিন্তা করুন। নামাজে বান্দা তার রবের সামনে শান্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত, বিনয়ী ও অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকে, সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখে। আর তা শুরু করে তাকবীরের মাধ্যমে যা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করে। আর বান্দার দীনতার পরিচয় প্রমাণ করে।
আল্লাহর নিকট দীনতা প্রকাশ আল্লাহর প্রতি ঈমানকে শক্তিশালী করে।
আন্তরিক ও বাহ্যিক সকল আমলের ব্যাপারে কেউ চিন্তা করলে দেখবে, সবগুলোর মধ্যেই আল্লাহর প্রতি দীনতা প্রকাশ করার বিষয়টি রয়েছে। তাই এটি সকল ইবাদতের সমন্বয়ক। সুতরাং ইবাদতের মধ্যে বান্দার দীনতা প্রকাশের পরিমাণ অনুযায়ী তার প্রভাব পড়বে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য উপকারী হবে। আপনি শুধু সর্ববৃহৎ কার্যগত ইবাদত– নামাজের মধ্যেই চিন্তা করুন। নামাজে বান্দা তার রবের সামনে শান্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত, বিনয়ী ও অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকে, সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখে। আর তা শুরু করে তাকবীরের মাধ্যমে যা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করে। আর বান্দার দীনতার পরিচয় প্রমাণ করে।
আল্লাহর নিকট দীনতা প্রকাশ আল্লাহর প্রতি ঈমানকে শক্তিশালী করে।
📄 কীভাবে আল্লাহর সামনে দীনতা প্রকাশ করা যায়?
দীনতা প্রকাশ একটি উদ্দীপক। তা বান্দাকে সর্বদা তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত থাকতে প্রেরণা যোগায়। আর এ দীনতা প্রকাশ কতগুলো জিনিসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
০১. সৃষ্টিকর্তার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব উপলব্ধি করা: যখনই বান্দা আল্লাহর ব্যাপারে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে সর্বাধিক জানবে, তখন সে আল্লাহর সামনে সর্বাধিক দীনতা প্রকাশকারী ও বিনয়ী হবে।
০২. মাখলুকের দুর্বলতা ও অক্ষমতার উপলব্ধি: কেউ যখন নিজেকে পরিমাপ করতে পারবে এবং এবং বুঝতে পারবে যে– সে সম্মান, ক্ষমতা ও সম্পদে যে স্থানেই পৌঁছে যাক না কেন, প্রকৃতপক্ষে সে দুর্বল, অক্ষম, নিজের ভালো-মন্দ কিছুটি করার ক্ষমতা তার নেই। তখন সে নিজেকে ছোট মনে করবে, তার অহংকার শেষ হয়ে যাবে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়ু হয়ে পড়বে, তার মনিবের সমীপে দীনতা প্রকাশ এবং তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ও কাকুতি-মিনতি বৃদ্ধি পাবে।
দীনতা প্রকাশ একটি উদ্দীপক। তা বান্দাকে সর্বদা তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত থাকতে প্রেরণা যোগায়। আর এ দীনতা প্রকাশ কতগুলো জিনিসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
০১. সৃষ্টিকর্তার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব উপলব্ধি করা: যখনই বান্দা আল্লাহর ব্যাপারে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে সর্বাধিক জানবে, তখন সে আল্লাহর সামনে সর্বাধিক দীনতা প্রকাশকারী ও বিনয়ী হবে।
০২. মাখলুকের দুর্বলতা ও অক্ষমতার উপলব্ধি: কেউ যখন নিজেকে পরিমাপ করতে পারবে এবং এবং বুঝতে পারবে যে– সে সম্মান, ক্ষমতা ও সম্পদে যে স্থানেই পৌঁছে যাক না কেন, প্রকৃতপক্ষে সে দুর্বল, অক্ষম, নিজের ভালো-মন্দ কিছুটি করার ক্ষমতা তার নেই। তখন সে নিজেকে ছোট মনে করবে, তার অহংকার শেষ হয়ে যাবে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়ু হয়ে পড়বে, তার মনিবের সমীপে দীনতা প্রকাশ এবং তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ও কাকুতি-মিনতি বৃদ্ধি পাবে।
📄 আল্লাহ তাআলা’র কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার কিছু আলামত
১. পূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে আল্লাহর সামনে চূড়ান্ত পরিণত নত হওয়া।
২. আল্লাহ ও তাঁর প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্ক রাখা।
৩. সর্বদা ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির ও ইস্তিগফারে রত থাকা।
৪. নেক আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কায় থাকা।
৫. গোপনে-প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
৬. আল্লাহর আদেশ-নিষেধসমূহকে বড় মনে করা।
১. পূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে আল্লাহর সামনে চূড়ান্ত পরিণত নত হওয়া।
২. আল্লাহ ও তাঁর প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্ক রাখা।
৩. সর্বদা ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির ও ইস্তিগফারে রত থাকা।
৪. নেক আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কায় থাকা।
৫. গোপনে-প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
৬. আল্লাহর আদেশ-নিষেধসমূহকে বড় মনে করা।
📄 আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়ার স্বাদ অনুভব করা
যে বিষয়গুলো ঈমানকে সতেজ করে, তার মধ্যে রয়েছে– আল্লাহর সাথে নির্জনে কথা বলা ও অন্তর বিগলিত হওয়ার উপলব্ধি করা। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ “বান্দা আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় সিজদায় থাকা।” কারণ, সিজদায় দীনতা, দীনতা ও বিনয়াবনততা রয়েছে; তা অন্য কোনো অবস্থায় নেই। এ কারণেই বান্দা সিজদায়ই আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। যেহেতু সিজদায় কপাল জমিনে রাখে; আর কপালই তার সবচাইতে সম্মানিত অঙ্গ। আর তা’র জন্য এটি জমিনে রাখে? আল্লাহর জন্য। এজন্যই এটা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থা。
আল্লাহ্র সঙ্গে মুনাজাতে এই কথাগুলো কতই না মধুর!
ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, এ অবস্থায় অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র সামনে বিগলিত ও নত হওয়ার অবস্থায় এ কথাগুলো বলা কতই না মধুর:
أَسْأَلُكَ بِعِزِّكَ وَذُلِّي لَا رَحْمَتِي، أَسْأَلُكَ بِقُوَّتِكَ وَضَعْفِي، وَبِغِنَاكَ عَنِّي وَفَقْرِي إِلَيْكَ، هَذِهِ نَاصِيَتِي الْكَاذِبَةُ الْخَاطِئَةُ بَيْنَ يَدَيْكَ، عُبَيْدُكَ سِوَايَ كَثِيرٌ وَلَيْسَ لِي سَيِّدٌ سِوَاكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَى مِنكَ إِلَّا إِلَيْكَ، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ الْمِسْكِينِ، وَأَبْتَهِلُ إِلَيْكَ ابْتِهَالَ الْخَاضِعِ الذَّلِيلِ، وَأَدْعُوكَ دُعَاءَ الْخَائِفِ الضَّرِيعِ، سُؤَالُ مَنْ خَضَعَتْ لَكَ رَقَبَتُهُ، وَرَغَمَ لَكَ أَنفُهُ، وَفَاضَتْ لَكَ عَيْنَاهُ، وَذَلَّ لَكَ قَلْبُهُ.
“আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনার সম্মান ও আমার হীনতার উসীলা দিয়ে, আপনি অবশ্যই আমার প্রতি দয়া করুন। আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনার শক্তি ও আমার দুর্বলতার উসীলা দিয়ে, আমার থেকে আপনার অমুখাপেক্ষিতা ও আপনার প্রতি আমার মুখাপেক্ষিতার উসীলা দিয়ে। আপনার সকাশে লুটিয়ে দিচ্ছি এ মিথ্যাবাদী ও অপরাধীর ললাট। আমি ছাড়াও আপনার অনেক গোলাম রয়েছে; কিন্তু আপনি ছাড়া আমাদের কোনো মনিব নেই। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয় এবং কোনো ঠিকানা নেই। আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, এক হতদরিদ্রের ন্যায়। আপনার নিকট মিনতি করছি, এক অনুগত ও নত বান্দার ন্যায়! আপনাকে ডাকছি, এক ভীত-সন্ত্রস্ত ফরিয়াদকারীর ন্যায়; যার ঘাড় আপনার সামনে নুয়ে পড়েছে, যার নাক আপনার সামনে ধূলোয় মলিন হয়েছে; যার চক্ষুদ্বয় আপনার সন্তুষ্টির জন্য প্লাবিত হয়েছে এবং যার হৃদয় আপনার জন্য বিগলিত হয়েছে।”
টিকাঃ
৬৪. সুনানে আবু দাউদ: ৮৭৫
যে বিষয়গুলো ঈমানকে সতেজ করে, তার মধ্যে রয়েছে– আল্লাহর সাথে নির্জনে কথা বলা ও অন্তর বিগলিত হওয়ার উপলব্ধি করা। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ “বান্দা আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় সিজদায় থাকা।” কারণ, সিজদায় দীনতা, দীনতা ও বিনয়াবনততা রয়েছে; তা অন্য কোনো অবস্থায় নেই। এ কারণেই বান্দা সিজদায়ই আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। যেহেতু সিজদায় কপাল জমিনে রাখে; আর কপালই তার সবচাইতে সম্মানিত অঙ্গ। আর তা’র জন্য এটি জমিনে রাখে? আল্লাহর জন্য। এজন্যই এটা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থা。
আল্লাহ্র সঙ্গে মুনাজাতে এই কথাগুলো কতই না মধুর!
ইবনুল কাইয়্যম রহ. বলেন, এ অবস্থায় অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র সামনে বিগলিত ও নত হওয়ার অবস্থায় এ কথাগুলো বলা কতই না মধুর:
أَسْأَلُكَ بِعِزِّكَ وَذُلِّي لَا رَحْمَتِي، أَسْأَلُكَ بِقُوَّتِكَ وَضَعْفِي، وَبِغِنَاكَ عَنِّي وَفَقْرِي إِلَيْكَ، هَذِهِ نَاصِيَتِي الْكَاذِبَةُ الْخَاطِئَةُ بَيْنَ يَدَيْكَ، عُبَيْدُكَ سِوَايَ كَثِيرٌ وَلَيْسَ لِي سَيِّدٌ سِوَاكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَى مِنكَ إِلَّا إِلَيْكَ، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ الْمِسْكِينِ، وَأَبْتَهِلُ إِلَيْكَ ابْتِهَالَ الْخَاضِعِ الذَّلِيلِ، وَأَدْعُوكَ دُعَاءَ الْخَائِفِ الضَّرِيعِ، سُؤَالُ مَنْ خَضَعَتْ لَكَ رَقَبَتُهُ، وَرَغَمَ لَكَ أَنفُهُ، وَفَاضَتْ لَكَ عَيْنَاهُ، وَذَلَّ لَكَ قَلْبُهُ.
“আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনার সম্মান ও আমার হীনতার উসীলা দিয়ে, আপনি অবশ্যই আমার প্রতি দয়া করুন। আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনার শক্তি ও আমার দুর্বলতার উসীলা দিয়ে, আমার থেকে আপনার অমুখাপেক্ষিতা ও আপনার প্রতি আমার মুখাপেক্ষিতার উসীলা দিয়ে। আপনার সকাশে লুটিয়ে দিচ্ছি এ মিথ্যাবাদী ও অপরাধীর ললাট। আমি ছাড়াও আপনার অনেক গোলাম রয়েছে; কিন্তু আপনি ছাড়া আমাদের কোনো মনিব নেই। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয় এবং কোনো ঠিকানা নেই। আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, এক হতদরিদ্রের ন্যায়। আপনার নিকট মিনতি করছি, এক অনুগত ও নত বান্দার ন্যায়! আপনাকে ডাকছি, এক ভীত-সন্ত্রস্ত ফরিয়াদকারীর ন্যায়; যার ঘাড় আপনার সামনে নুয়ে পড়েছে, যার নাক আপনার সামনে ধূলোয় মলিন হয়েছে; যার চক্ষুদ্বয় আপনার সন্তুষ্টির জন্য প্লাবিত হয়েছে এবং যার হৃদয় আপনার জন্য বিগলিত হয়েছে।”
টিকাঃ
৬৪. সুনানে আবু দাউদ: ৮৭৫