📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আখিরাতের চিন্তা লালনকারীদের বৈশিষ্ট্যাবলি

📄 আখিরাতের চিন্তা লালনকারীদের বৈশিষ্ট্যাবলি


১. আত্মসংশোধন: এটাই দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ এক আল্লাহ্‌র ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা। তারা জানে- আল্লাহ্‌ দয়া করেন, ক্ষমা করেন, মার্জনা করেন; কিন্তু তারা তাঁর ওপর ভরসা করে বসে থাকে না। বরং ছোট থেকে ছোট গুনাহ, ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অবহেলা-আলস্যর জন্য অনুতপ্ত হয়। কারণ, তারা জানে- যে সত্তার নাফরমানি করা হচ্ছে; তিনি হচ্ছেন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌। আপনি তাদেরকে দেখবেন, তারা মুসলিমদের বিপদাপদ ও তাদের ওপর আপতিত জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে চিন্তিত হয়। কারণ, তাদের অন্তরসমূহ পরকালের চিন্তার ফলে মায়ামমতায় ভরে গেছে। যে চিন্তায় তাদের হৃদয়সমূহ ছেয়ে নিয়েছে।
২. সার্বক্ষণিক হিসাব-নিকাশ: পরকালীন চিন্তাসম্পন্ন ব্যক্তিকে দেখতে পাবেন, সর্বদা নিজের প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব নিকাশ করে।
হাসান বসরি রহ. আল্লাহর বাণী- أَنَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ “এবং শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের।” এর তাফসীরে বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! এটা হচ্ছে মুমিনের নফস। প্রতিটি মুমিনই নিজেকে ভর্ৎসনা করতে থাকে, আমার এ কথাটির উদ্দেশ্য কী? আমার এ ভাবনাটির উদ্দেশ্য কী? কিন্তু পাপাচারী নিজের হিসাব করে না।
কিন্তু এ চিন্তা ও মুরাকাবা (আত্মসমালোচনা) তাদেরকে এমন শিকলে বেঁধে ফেলে যা যে, মসজিদের কোনায় বা ঘরে বসে শুধু নিজের জন্য কাঁদতে থাকবে আর ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট লোকদের ব্যাপারে ভাবেবে না, তাদেরকে সংশোধন করবে না, নিজের আশপাশের লোকদের মন্দ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করবে না। বরং তাদের অন্তরে যে চিন্তা থাকবে, তা-ই তাদেরকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। ফলে নিজেদেরকে সংশোধন করবে, অন্যদেরকে সংশোধন করবে এবং বিপদাপদ ও কষ্ট-মুসীবত সহ্য করবে।
৩. মৃত লোকদের দৃশ্য ও তাদের অবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ: তারা তাদের জীবন্ত অবস্থার কারণে প্রতিটি দুনিয়াবী বিষয়কে আখিরাতের সাথে সম্পৃক্ত করবে। অন্যেরা মৃত্যুতে তাদেরকে নিজেদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। ফলে তা তাদের পরকালীন আমলের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলবে। তারা পরকালের জন্য আমল সঞ্চয় করতে থাকবে, যা তাদেরকে জান্নাতের উন্নত স্তরে নিয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00