📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 দুনিয়ার ব্যাপারে সালাফের অবস্থা

📄 দুনিয়ার ব্যাপারে সালাফের অবস্থা


সালাফে সালেহীন দুনিয়ার অনেক কিছুর মালিক হতেন, ক্রয়-বিক্রয়ও করতেন; কিন্তু দুনিয়া শুধু তাঁদের সামনেই থাকত। তাঁদের অন্তরে থাকত আখিরাত। কিন্তু এটা বর্তমানের আমাদের অনেকের অবস্থার বিপরীত। আমাদের অন্তর পার্থিব ভোগসম্ভার, বিপদাপদ, কামনা-বাসনা ও লোভ-লালসায় ভরপুর থাকে। ফলে আমাদের অন্তরে আখিরাতের চিন্তা দুর্বল হয়ে পড়েছে, চলাফেরায় ইবাদতের প্রভাব ম্লান হয়ে পড়েছে এবং অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা ক্ষীণ হয়ে গেছে। সময়, মনোযোগ ও সম্পদের মূল অংশ নয়; বরং উক্ততাৎপর্যগুলো আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হচ্ছে।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 কখন তোমার অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর হবে?

📄 কখন তোমার অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর হবে?


ইমাম মালেক রহ. বলেন, তুমি যতটুকু পরিমাণ দুনিয়ার জন্য চিন্তিত হবে, তোমার অন্তর থেকে ততটুকু আখিরাতের চিন্তা বের হয়ে যাবে। আর তুমি যতটুকু পরিমাণ আখিরাতের চিন্তা করবে, তোমার অন্তর থেকে ততটুকু পরিমাণ দুনিয়ার চিন্তা বের হয়ে যাবে।
কারণ, অন্তর যখন দুনিয়া ও তার চিন্তায় ভরপুর হয়ে যায়, তার মধ্যে আখিরাত ও আখিরাতের প্রস্তুতি চিন্তা দুর্বল হয়ে যায়; তখন তার মধ্যে মহান আল্লাহর কালাম চিন্তা করার মতো স্থান থাকে না। সুতরাং আখিরাতের সাথে সম্পর্ক গড়া এবং দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত হয়ে যাওয়াই সব কল্যাণ মূল।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, জেনে রেখ! কলব যখন দুনিয়া ও সম্পদের মোহ, নেতৃত্ব ও সুনামএর কামনা থেকে মুক্ত হয়, তখন তা পরকালের সফলতার প্রস্তুতি ও চিন্তায় বিভোর হয়।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহর নিকট যাওয়ার প্রস্তুতি

📄 আল্লাহর নিকট যাওয়ার প্রস্তুতি


আর এটাই সকল প্রকার সফলতার চাবিকাঠি, আলোর উৎস। তখনই তার অন্তর আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়গুলো জানার জন্য জেগে উঠবে এবং তা সম্পাদন করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য অর্জন করবে। আর আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টির বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে। আর এটাই তার সদিচ্ছার আলামত।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সালাফের আখিরাত চিন্তার কিছু নমুনা

📄 সালাফের আখিরাত চিন্তার কিছু নমুনা


সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন, আমি সুফিয়ানকে অনেক রাতে দেখেছি, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জাগ্রত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠত- আগুন! আগুন! জাহান্নামের চিন্তা আমাকে ঘুম ও ভোগ-বিলাস থেকে বিরত রেখেছে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. একবার কামারের হাপরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন সেখানে আগুন দেখে তাঁর মনে ভয় জাগল। তিনি প্রায়ই কামারদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন। আর জ্বলন্ত লোহা দেখে পরকালের চিন্তায় ক্রন্দন করতেন। এমনই ছিল সাহাবায়ে কেরাম ও আমাদের পূর্বসূরিদের আখিরাতভাবনা।
তাঁরা জীবনের প্রতিটি সময়ে গণীমত মনে করতেন:
দুনিয়া বিরাগিণীগণ বলেন, আমি এমন কারও কথা ভাবতে পারি না, যে জান্নাত-জাহান্নামের কথা শোনার পর তাঁর একটি মুহূর্ত আল্লাহর আনুগত্য তথা যিকির, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত বা ইহসান ব্যতীত কাটাবে। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমি সবচেয়ে বেশি কাঁদি। তিনি বললেন, তুমি নিজ গুনাহের কথা স্বীকার করে হাসোও, তবুও তা মানুষকে নিজের আমল বলে বেড়ানোর পর কাঁদার থেকে ঢের উত্তম। আমল-প্রচারকারী ব্যক্তির আমল তার মাথার উপরেই ওঠে না।
তখন উক্ত লোকটি বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি দুনিয়াকে দুনিয়াদারদের জন্য ছেড়ে দাও; যেমন তারা আখিরাতকে আখিরাতকামীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। দুনিয়াতে তুমি মৌমাছি হয়ে বাস করো, যে কিছু খেলে হালাল খায়, অন্যকে কিছু আহার করালে হালাল আহার করায়; কোনো কিছুর উপর পড়লে তা ভেঙে ফেলে না এবং তার ওপর দাগাও কাটে না।
আল্লাহর নিকট সাক্ষাতের চিন্তা:
তোমার সব চিন্তাকে এক চিন্তায় রূপান্তরিত কর: আর তা হলো, আখিরাতের চিন্তা, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের চিন্তা এবং তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার চিন্তা।
বান্দা স্মরণ করবে যে, সে আল্লাহর নিকট ফিরে যাবে। আরও স্মরণ করবে যে, প্রত্যেক শুক্রবারে শেষ আছে, মৃত্যুর পর তার তওবার কোনো সুযোগ নেই এবং মৃত্যুর পর জান্নাত-জাহান্নাম ছাড়া কোনো বাসস্থান নেই। সুতরাং মানুষ যখন চিন্তা করবে- জীবন শেষ হয়ে যাবে, ভোগসামগ্রী ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এগুলো হলো ধোঁকা ও চোখের পর্দা, তখন আল্লাহ্‌র শপথ! এ স্মরণই তাকে দুনিয়াকে তুচ্ছজ্ঞান করতে এবং সত্য ও আত্মপ্রকাশিত দুনিয়ার রবের দিকে মনোযোগ সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করবে। তখন তার হৃদয় বিগলিত হবে। যখন সে কবরগুলোর দিকে দৃষ্টি দেবে এবং কবরবাসীদের অবস্থা চিন্তা করবে, তখন তার অন্তর ভেঙে যাবে। আর তার অন্তর হবে কঠোরতা ও প্রবঞ্চনা থেকে সব থেকে বেশি মুক্ত। আল্লাহ্‌র নিকটই একমাত্র আশ্রয়!
তোমার অন্তর আখিরাতের চিন্তায় ব্যস্ত নয়, নাকি তুমি আখিরাত ভুলে গেছ? ফলে ঐ সকল লোকের মতো হয়ে গেছ; যারা নামাজ পড়েও পড়ে না। কেবল মাথা দিয়ে টোকার মারে; কিন্তু জানে না, সে কী নামাজ পড়ছে? ইমাম কী কেরাআত পাঠ করেছে? সে একটি দিনও এমন স্মরণ করতে পারে না, যাতে কুরআন পাঠই হৃদয়ে প্রকল্পিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00