📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তার কিছু দৃষ্টান্ত

📄 দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তার কিছু দৃষ্টান্ত


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- مَنْ كَانَتْ هَمُّ الْآخِرَةِ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَهُ “যার চিন্তা আখিরাত, আল্লাহ তাঁর সকল বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে একীভূত করে দেন, তার অন্তরে ধনাঢ্যতা দান করেন এবং দুনিয়া তার নিকট তুচ্ছ হয়ে আসে। আর যার চিন্তা দুনিয়া, আল্লাহ তার চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে দেন, তার চোখের সামনে দারিদ্র্যতা ঢেলে দেন আর দুনিয়া তার জন্য যতটুকু লেখা ছিল, ততটুকুই তার লাভ হয়।”

টিকাঃ
৯৮. সূরা আনকাবুত: ৬৪

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আখিরাতের চিন্তার ফলাফলসমূহ

📄 আখিরাতের চিন্তার ফলাফলসমূহ


পরকালের চিন্তা থেকে দাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদানের চেতনা সৃষ্টি হয়। মানুষকে সংশোধনের মনোভাব তৈরি হয়। কারণ, জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় তাকে ব্যস্ত রাখে। তাই তার থেকে কল্যাণের ভালোবাসাই প্রকাশ পায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طَالِبُهَا “আমি জাহান্নামের মতো এমন কিছু দেখিনি, যা থেকে পলায়নকারী নিদ্রায় বিভোর থাকে আর জান্নাতের মতো এমন কিছু দেখিনি, যার অন্বেষণকারী ঘুমিয়ে থাকে।”

টিকাঃ
৯৯. সুনানে তিরমিযী

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 দুনিয়ার ব্যাপারে সালাফের অবস্থা

📄 দুনিয়ার ব্যাপারে সালাফের অবস্থা


সালাফে সালেহীন দুনিয়ার অনেক কিছুর মালিক হতেন, ক্রয়-বিক্রয়ও করতেন; কিন্তু দুনিয়া শুধু তাঁদের সামনেই থাকত। তাঁদের অন্তরে থাকত আখিরাত। কিন্তু এটা বর্তমানের আমাদের অনেকের অবস্থার বিপরীত। আমাদের অন্তর পার্থিব ভোগসম্ভার, বিপদাপদ, কামনা-বাসনা ও লোভ-লালসায় ভরপুর থাকে। ফলে আমাদের অন্তরে আখিরাতের চিন্তা দুর্বল হয়ে পড়েছে, চলাফেরায় ইবাদতের প্রভাব ম্লান হয়ে পড়েছে এবং অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা ক্ষীণ হয়ে গেছে। সময়, মনোযোগ ও সম্পদের মূল অংশ নয়; বরং উক্ততাৎপর্যগুলো আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হচ্ছে।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 কখন তোমার অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর হবে?

📄 কখন তোমার অন্তর থেকে পরকালের চিন্তা দূর হবে?


ইমাম মালেক রহ. বলেন, তুমি যতটুকু পরিমাণ দুনিয়ার জন্য চিন্তিত হবে, তোমার অন্তর থেকে ততটুকু আখিরাতের চিন্তা বের হয়ে যাবে। আর তুমি যতটুকু পরিমাণ আখিরাতের চিন্তা করবে, তোমার অন্তর থেকে ততটুকু পরিমাণ দুনিয়ার চিন্তা বের হয়ে যাবে।
কারণ, অন্তর যখন দুনিয়া ও তার চিন্তায় ভরপুর হয়ে যায়, তার মধ্যে আখিরাত ও আখিরাতের প্রস্তুতি চিন্তা দুর্বল হয়ে যায়; তখন তার মধ্যে মহান আল্লাহর কালাম চিন্তা করার মতো স্থান থাকে না। সুতরাং আখিরাতের সাথে সম্পর্ক গড়া এবং দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত হয়ে যাওয়াই সব কল্যাণ মূল।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, জেনে রেখ! কলব যখন দুনিয়া ও সম্পদের মোহ, নেতৃত্ব ও সুনামএর কামনা থেকে মুক্ত হয়, তখন তা পরকালের সফলতার প্রস্তুতি ও চিন্তায় বিভোর হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00