📄 আল্লাহর ওয়ালায়াতের দাবি
০১. আল্লাহকে শাসক রূপে গ্রহণ করা: আল্লাহ তাআলা বলেন- أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا “আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ফায়সালাকারী রূপে গ্রহণ করব?”
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে যে কোনো বিষয়ে বিচারক বা ফায়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
০২. শুধু আল্লাহর জন্যই ইবাদত করা: قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ “বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ, সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; যাঁর কোনো শরীক নেই।”
সুতরাং যে ইবাদতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, সে কিছুতেই আল্লাহর ওলী হতে পারে না। কারণ, তার ওলী হলে কীভাবে তাঁর সাথে শরীক করতে পারে?
০৩. সকল বিষয়ে ও সকল অবস্থায় আল্লাহর কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া: যদি আল্লাহর সাথে তোমার বন্ধুত্ব প্রকৃতই হয়ে থাকে; তাহলে আল্লাহর দীনকে আঁকড়ে ধর। আর মানব রচিত সকল নিয়ম-নীতি ও আইন-কানুন প্রত্যাখ্যান কর।
০৪. আল্লাহর প্রিয়জনদের ভালোবাসা: আল্লাহর প্রিয়জনদের ভালোবাসলে তাঁর ওলীদের ভালোবাসা হয়। তাই আল্লাহর প্রিয়জনকে ভালোবাসতে হবে, আল্লাহর ওলীদেরকে ভালোবাসতে হবে এবং ওই সকল লোকের সাথে শত্রুতা করতে হবে; যারা আল্লাহর সাথে শত্রুতা করে, বিদ্বেষ পোষণ করে।
০৫. আল্লাহর রাস্তায় দুঃখ-কষ্ট সহ্য করা: কারণ, এ ওয়ালায়াত তোমার ওপর অনেক গুরুদায়িত্ব আরোপ করে। তোমাকে তোমার জানের কষ্টে ফেলবে, সম্পদের কষ্টে ফেলবে, আবার কখনও নিজ ভুমি ও ত্যাগ করতে বলবে।
০৬. আল্লাহর শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করা: আল্লাহ তাআলা বলেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্য হতে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে।”
বর্তমানে অনেক মুসলিম আছে; যারা কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব, অন্তরঙ্গতা, পারস্পরিক সাহায্যের জন্য জোট গঠনের দিকে দৌড়ে যায়। তাহলে কীভাবে একজন বান্দার অন্তরে একই সাথে বিপরীতমুখী দুটি বিষয় একত্রিত হতে পারে?
পরিপূর্ণভাবে সতর্ক থাকা: জনৈক সালাফ বলেন, প্রকাশ্যে আল্লাহর ওলী আর গোপনে তাঁর শত্রু হয়ো না।
টিকাঃ
৯৪. সূরা আনআম: ১১৪
৯৫. সূরা আনআম: ১৬২
৯৬. সূরা মায়িদা: ৫১