📄 ওয়ালায়াতের প্রকারভেদ
শায়খ ইবনে উসাইমীন রহ. বলেন, ওয়ালায়াাত দুই প্রকার:
১. আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বান্দার ওয়ালায়াাত।
২. বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ্র ওয়ালায়াাত।
প্রথমটির দলীল হলো, আল্লাহ্ তাআলা'র বাণী: اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا
“আল্লাহ্ই ঈমানদারদের বন্ধু (অভিভাবক)।”
আর দ্বিতীয়টির দলীল হলো, আল্লাহ্ তাআলা'র বাণী- وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
“আর যে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করে (সে আল্লাহ্র দলে অন্তর্ভুক্ত হবে)। আর আল্লাহ্র দলই বিজয়ী হবে।”
আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি ওয়ালায়াাত আবার দুই প্রকার: - ব্যাপক ওয়ালায়াাত। - বিশেষ ওয়ালায়াাত।
ব্যাপক ওয়ালায়াাত হলো, বান্দার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ওয়ালায়াাত (অভিভাবকত্ব)। এটা মুমিন-কাফেরসহ সমস্ত সৃষ্টজীবকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তাই আল্লাহই বান্দাদের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, শাসন ইত্যাদি করে অভিভাবকত্ব করে থাকেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন- ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ “তারপর সকলকে তাদের প্রকৃত মনিবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্মরণ রেখ, হুকুম কেবল তারই চলে। তিনি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।”
বিশেষ ওয়ায়ালাত: তা হচ্ছে, আল্লাহ তাঁর বিশেষ মনোযোগ, তাওফীক ও হিদায়াতের মাধ্যমে বান্দার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এটা শুধু মুমিনদের সাথেই বিশেষিত। আল্লাহ তাআলা বলেন- اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم mِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাঁদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর কাফেরদের অভিভাবক হলো শয়তান। সে তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়।”
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- إِنَّ أَوۡلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ “স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা সেই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।”
টিকাঃ
৮৯. সূরা বাকারা: ২৫৭
৯০. সূরা মায়েদা: ৫৬
৭৯১. সূরা আনআম: ৬২
৭৯২. সূরা বাকারা: ২৫৭
৭৯৩. সূরা ইউনুস: ৬২-৬৩
📄 আল্লাহর ওয়ালায়াত কীভাবে লাভ করা যায়?
একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমেই আল্লাহর ওয়ালায়াত লাভ করা যায়।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন: যে স্থায়ী সৌভাগ্য লাভ করতে চায়; সে যেন আল্লাহর দাসত্বে লেগে থাকে। আল্লাহর আনুগত্য ব্যতীত ওয়ালায়াত লাভ করা যায় না।
📄 আল্লাহর ওয়ালায়াতের দাবি
০১. আল্লাহকে শাসক রূপে গ্রহণ করা: আল্লাহ তাআলা বলেন- أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا “আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ফায়সালাকারী রূপে গ্রহণ করব?”
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে যে কোনো বিষয়ে বিচারক বা ফায়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
০২. শুধু আল্লাহর জন্যই ইবাদত করা: قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ “বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ, সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; যাঁর কোনো শরীক নেই।”
সুতরাং যে ইবাদতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, সে কিছুতেই আল্লাহর ওলী হতে পারে না। কারণ, তার ওলী হলে কীভাবে তাঁর সাথে শরীক করতে পারে?
০৩. সকল বিষয়ে ও সকল অবস্থায় আল্লাহর কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া: যদি আল্লাহর সাথে তোমার বন্ধুত্ব প্রকৃতই হয়ে থাকে; তাহলে আল্লাহর দীনকে আঁকড়ে ধর। আর মানব রচিত সকল নিয়ম-নীতি ও আইন-কানুন প্রত্যাখ্যান কর।
০৪. আল্লাহর প্রিয়জনদের ভালোবাসা: আল্লাহর প্রিয়জনদের ভালোবাসলে তাঁর ওলীদের ভালোবাসা হয়। তাই আল্লাহর প্রিয়জনকে ভালোবাসতে হবে, আল্লাহর ওলীদেরকে ভালোবাসতে হবে এবং ওই সকল লোকের সাথে শত্রুতা করতে হবে; যারা আল্লাহর সাথে শত্রুতা করে, বিদ্বেষ পোষণ করে।
০৫. আল্লাহর রাস্তায় দুঃখ-কষ্ট সহ্য করা: কারণ, এ ওয়ালায়াত তোমার ওপর অনেক গুরুদায়িত্ব আরোপ করে। তোমাকে তোমার জানের কষ্টে ফেলবে, সম্পদের কষ্টে ফেলবে, আবার কখনও নিজ ভুমি ও ত্যাগ করতে বলবে।
০৬. আল্লাহর শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করা: আল্লাহ তাআলা বলেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্য হতে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে।”
বর্তমানে অনেক মুসলিম আছে; যারা কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব, অন্তরঙ্গতা, পারস্পরিক সাহায্যের জন্য জোট গঠনের দিকে দৌড়ে যায়। তাহলে কীভাবে একজন বান্দার অন্তরে একই সাথে বিপরীতমুখী দুটি বিষয় একত্রিত হতে পারে?
পরিপূর্ণভাবে সতর্ক থাকা: জনৈক সালাফ বলেন, প্রকাশ্যে আল্লাহর ওলী আর গোপনে তাঁর শত্রু হয়ো না।
টিকাঃ
৯৪. সূরা আনআম: ১১৪
৯৫. সূরা আনআম: ১৬২
৯৬. সূরা মায়িদা: ৫১