📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহর ওলীদের বৈশিষ্ট্যাবলি

📄 আল্লাহর ওলীদের বৈশিষ্ট্যাবলি


শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, যার ভালোবাসা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, ঘৃণা ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য; যে শুধু আল্লাহ্র জন্যই ভালোবাসে, আল্লাহ্র জন্যই ঘৃণা করে, আল্লাহ্র জন্যই কাউকে দান করে আবার আল্লাহ্র জন্যই কাউকে নিষেধ করে, এমন ব্যক্তির অবস্থাই আল্লাহ্র পূর্ববর্তী ওলীদের অবস্থা।
ওলী ততক্ষণ পর্যন্ত ওলী হতে পারে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহ্র শত্রুদের ঘৃণা করে, তাদের প্রতি শত্রুতা লালন করে এবং তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে। তাই আল্লাহ্র শত্রুদের সঙ্গে শত্রুতা রাখা ও তাদের বিরুদ্ধাচরণ করা হলো বাকি ওলিত্বের পূর্ণাঙ্গতা ও বিশুদ্ধতার মাপকাঠি।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহর ওলীদের বিভিন্ন স্তর

📄 আল্লাহর ওলীদের বিভিন্ন স্তর


শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, আল্লাহ্র ওলীদের দুটি স্তর রয়েছে। একটি হলো মাক্বুনুন সাবিকুন অগ্রগামী ও নেকটাশীলদের স্তর। আর আরেকটি হলো ডানপন্থী নেককারদের স্তর। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের কথা আলোচনা করেছেন। যেমন, সূরা ওয়াক্বিয়ার শুরু দিকে এবং শেষের দিকে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন- وَكُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً . فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ . وَأَصْحَابُ الْمَشْئَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْئَمَةِ . وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ . أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ . ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ . وَقَلِيلٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
“এবং তোমরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা! আর যারা বাম দিকে, কত হতভাগা তারা! অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নেকটাশীল, নেয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহে। বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।”

টিকাঃ
৮৮. সূরা ওয়াক্বিয়াহ: ৭-১৪

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 ওয়ালায়াতের প্রকারভেদ

📄 ওয়ালায়াতের প্রকারভেদ


শায়খ ইবনে উসাইমীন রহ. বলেন, ওয়ালায়াাত দুই প্রকার:
১. আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বান্দার ওয়ালায়াাত।
২. বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ্র ওয়ালায়াাত।
প্রথমটির দলীল হলো, আল্লাহ্ তাআলা'র বাণী: اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا
“আল্লাহ্ই ঈমানদারদের বন্ধু (অভিভাবক)।”
আর দ্বিতীয়টির দলীল হলো, আল্লাহ্ তাআলা'র বাণী- وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
“আর যে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করে (সে আল্লাহ্র দলে অন্তর্ভুক্ত হবে)। আর আল্লাহ্র দলই বিজয়ী হবে।”
আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি ওয়ালায়াাত আবার দুই প্রকার: - ব্যাপক ওয়ালায়াাত। - বিশেষ ওয়ালায়াাত।
ব্যাপক ওয়ালায়াাত হলো, বান্দার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ওয়ালায়াাত (অভিভাবকত্ব)। এটা মুমিন-কাফেরসহ সমস্ত সৃষ্টজীবকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তাই আল্লাহই বান্দাদের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, শাসন ইত্যাদি করে অভিভাবকত্ব করে থাকেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন- ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ “তারপর সকলকে তাদের প্রকৃত মনিবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্মরণ রেখ, হুকুম কেবল তারই চলে। তিনি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।”
বিশেষ ওয়ায়ালাত: তা হচ্ছে, আল্লাহ তাঁর বিশেষ মনোযোগ, তাওফীক ও হিদায়াতের মাধ্যমে বান্দার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এটা শুধু মুমিনদের সাথেই বিশেষিত। আল্লাহ তাআলা বলেন- اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم mِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাঁদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর কাফেরদের অভিভাবক হলো শয়তান। সে তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়।”
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- إِنَّ أَوۡلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ “স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা সেই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।”

টিকাঃ
৮৯. সূরা বাকারা: ২৫৭
৯০. সূরা মায়েদা: ৫৬
৭৯১. সূরা আনআম: ৬২
৭৯২. সূরা বাকারা: ২৫৭
৭৯৩. সূরা ইউনুস: ৬২-৬৩

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 আল্লাহর ওয়ালায়াত কীভাবে লাভ করা যায়?

📄 আল্লাহর ওয়ালায়াত কীভাবে লাভ করা যায়?


একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমেই আল্লাহর ওয়ালায়াত লাভ করা যায়।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন: যে স্থায়ী সৌভাগ্য লাভ করতে চায়; সে যেন আল্লাহর দাসত্বে লেগে থাকে। আল্লাহর আনুগত্য ব্যতীত ওয়ালায়াত লাভ করা যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00