📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 তাওবার শর্তাবলি

📄 তাওবার শর্তাবলি


তাওবা হলো একটি মহান কালেমা। এর রয়েছে গভীর তাৎপর্য। অনেকে এমনটা মনে করে, শুধু মুখ দিয়ে কিছু শব্দ উচ্চারণ করে কার্যত উক্ত গুনাহই চালিয়ে যেতে থাকা- এমনটা নয়। কারণ, মূল্যবান জিনিসের জন্য অনেক শর্ত থাকে। তাই উলামায়ে কেরাম তাওবার জন্য অনেকগুলো শর্ত উল্লেখ করেছেন, যেগুলো কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে তার কিছু আলোচনা করা হলো:
১. তৎক্ষণাৎ উক্ত গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
২. পূর্বে যা হয়ে গেছে, তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
৩. সামনে আর গুনাহ না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা।
৪. যাদের প্রতি জুলুম করেছে, তাদের হক ফিরিয়ে দেওয়া বা তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।
কেউ আরেকটি বৃদ্ধি করেছেন: এসবের মধ্যে ইখলাস রাখা।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 ইস্তেগফারও একটি দুআ

📄 ইস্তেগফারও একটি দুআ


ইবনে রজব রহ. বলেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي (হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন) এতটুকু বলাটাও ক্ষমা প্রার্থনা এবং এর দুআ। এর হুকুম হবে অন্য সকল দুআর মতোই। এক্ষেত্রে আল্লাহ চাইলে তার দুআ কবুল করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেবেন। বিশেষভাবে যদি স্বীয় গুনাহের জন্য তাওবা ভগ্ন হৃদয়ের সাথে করা হয় এবং দুআ কবুলের সময়গুলোতে করা হয়। যেমন, সাহরীর সময়, নামাজের পরে।
লুকমান হাকীম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তাঁর সন্তানকে বলেন, হে বৎস! তোমার জিহ্বাকে সর্বদা غَفَرَ لِى اللَّهُمْ কথাটি বলতে অভ্যস্ত কর। কারণ, কিছু সময় রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহ্ কারণও দুআ ফিরিয়ে দেন না।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 তাওবায় সহায়ক বিষয়সমূহ

📄 তাওবায় সহায়ক বিষয়সমূহ


১. ইখলাস রাখা ও আল্লাহ্র প্রতি মনোনিবেশ করা: যখন মানুষ আল্লাহ্র জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং সত্যিকার অর্থে তাওয়া করে, তখন আল্লাহ্ তাআলা তাকে তাতে সাহায্য করেন এবং তার জন্য তা সহজ করে দেন।
২. স্বল্প আশা ও পরকালকে স্মরণ করা: যখন মানুষ দুনিয়ার সীমাবদ্ধতা ও দ্রুত ধ্বংস হওয়ার কথা চিন্তা করবে, অনুধাবন করবে- এটা হচ্ছে আখিরাতের পশ্চাৎক্ষেত্র এবং নেক আমল অর্জন করার সুবর্ণ সুযোগ। আর জান্নাতের স্থায়ী নেয়ামত ও জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে স্মরণ করবে, তখন সে দীর্ঘ দিনের প্রবৃত্তির পথ থেকে ফিরে আসতে পারবে, একটি তাওয়ায় অনুপ্রাণিত হবে এবং সামনে নেক আমলের মাধ্যমে অতীত কর্মের ক্ষতিপূরণ করতে চাইবে।
৩. গুনাহ্র উদ্দীপক ও স্মারক বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকা: যে সকল জিনিস গুনাহের প্ররোচনা দেয় ও মন্দ কাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে তা থেকে দূরে থাকবে। যে সকল জিনিস প্রবৃত্তিকে নাড়া দেয় এবং গোপন রিপু জাগিয়ে তোলে; যেমন, নগ্ন ফিল্ম দেখা, মাতাল গান-বাদ্য শ্রবণ করা, অশ্লীল বই-পুস্তক ও ম্যাগাজিন পাঠ করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকবে।
৪. ভালো লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা, দুষ্ট লোকদের থেকে দূরে থাকা: সৎ সঙ্গী তোমাকে উপদেশ দেবে, তোমার দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেবে। আর অসৎ সঙ্গীর কাজ হলো, সে মানুষের দ্বীন নষ্ট করে দেয়, সাথীর দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেয় না, দুষ্টু লোকদের সাথে সম্পর্ক করে দেয়, ভালো লোকদের থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে এবং মানুষকে লাঞ্ছনা, অপমান ও লজ্জার পথে পরিচালিত করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00