📄 দুআ অনেক সমস্যার সমাধান
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ
‘এবং কিতাব এর পথনির্দেশ দেয় যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন ভোগ করতে দেবেন এবং যে কেউ বেশি আমল করবে, তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দেবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও; তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।’
নূহ আ. এর জবানিতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا – يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا – وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
“আমি তাদেরকে বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।”
ইবনে বিশর রহ. বলেন, আমি ইবনে উয়ায়নাকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর ক্রোধ এমন ব্যাধির মতো, যার কোনো প্রতিরোধক নেই। তখন আমি বললাম, তার প্রতিরোধযোগ্য হলো, শেষ রাতে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়া এবং একনিষ্ঠ তাওবা।
শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কলবের এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছে; যা তাকে অস্থির করে ছেড়েছে। তার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো- শর্তভাবে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, সর্বদা দুআ ও মিনতি করা। হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দুআয় কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়গুলোতে যেমন, শেষ রাতে, আযান-ইকামতের সময়, সিজদার সময়, নামাজের পরে ইত্যাদি সময়গুলোতে মনোযোগসহকারে বেশি বেশি দুআ করবে এবং তার সাথে ইস্তিগফারও যুক্ত করবে।
জাফফর ইবনে মুহাম্মাদ রহ. বলেন, হে সুফইয়ান! যখন আল্লাহ তোমাকে কোনো নেয়ামত দান করেন, এরপর তুমি চাও- তা সর্বদা স্থায়ীভাবে তোমার জন্য থাকুক, তাহলে তুমি তার জন্য বেশি বেশি আল্লাহর প্রশংসা ও শোকর আদায় কর। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন- لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় কর; তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব।’
যখন তোমার রিজিককে সংকট দেখা দেবে, তখন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়বে। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا- يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
“নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।”
টিকাঃ
১৬৮. সূরা হুদ: ০৩
৬৩. সূরা নূহ: ১০-১২
১৬৯. সূরা নূহ: ১০-১২
১৭০. সূরা ইবরাহীম: ০৭
১৭১. সূরা নূহ: ১০-১২
📄 তাওবার শর্তাবলি
তাওবা হলো একটি মহান কালেমা। এর রয়েছে গভীর তাৎপর্য। অনেকে এমনটা মনে করে, শুধু মুখ দিয়ে কিছু শব্দ উচ্চারণ করে কার্যত উক্ত গুনাহই চালিয়ে যেতে থাকা- এমনটা নয়। কারণ, মূল্যবান জিনিসের জন্য অনেক শর্ত থাকে। তাই উলামায়ে কেরাম তাওবার জন্য অনেকগুলো শর্ত উল্লেখ করেছেন, যেগুলো কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে তার কিছু আলোচনা করা হলো:
১. তৎক্ষণাৎ উক্ত গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
২. পূর্বে যা হয়ে গেছে, তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
৩. সামনে আর গুনাহ না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা।
৪. যাদের প্রতি জুলুম করেছে, তাদের হক ফিরিয়ে দেওয়া বা তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।
কেউ আরেকটি বৃদ্ধি করেছেন: এসবের মধ্যে ইখলাস রাখা।
📄 ইস্তেগফারও একটি দুআ
ইবনে রজব রহ. বলেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي (হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন) এতটুকু বলাটাও ক্ষমা প্রার্থনা এবং এর দুআ। এর হুকুম হবে অন্য সকল দুআর মতোই। এক্ষেত্রে আল্লাহ চাইলে তার দুআ কবুল করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেবেন। বিশেষভাবে যদি স্বীয় গুনাহের জন্য তাওবা ভগ্ন হৃদয়ের সাথে করা হয় এবং দুআ কবুলের সময়গুলোতে করা হয়। যেমন, সাহরীর সময়, নামাজের পরে।
লুকমান হাকীম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তাঁর সন্তানকে বলেন, হে বৎস! তোমার জিহ্বাকে সর্বদা غَفَرَ لِى اللَّهُمْ কথাটি বলতে অভ্যস্ত কর। কারণ, কিছু সময় রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহ্ কারণও দুআ ফিরিয়ে দেন না।
📄 তাওবায় সহায়ক বিষয়সমূহ
১. ইখলাস রাখা ও আল্লাহ্র প্রতি মনোনিবেশ করা: যখন মানুষ আল্লাহ্র জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং সত্যিকার অর্থে তাওয়া করে, তখন আল্লাহ্ তাআলা তাকে তাতে সাহায্য করেন এবং তার জন্য তা সহজ করে দেন।
২. স্বল্প আশা ও পরকালকে স্মরণ করা: যখন মানুষ দুনিয়ার সীমাবদ্ধতা ও দ্রুত ধ্বংস হওয়ার কথা চিন্তা করবে, অনুধাবন করবে- এটা হচ্ছে আখিরাতের পশ্চাৎক্ষেত্র এবং নেক আমল অর্জন করার সুবর্ণ সুযোগ। আর জান্নাতের স্থায়ী নেয়ামত ও জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে স্মরণ করবে, তখন সে দীর্ঘ দিনের প্রবৃত্তির পথ থেকে ফিরে আসতে পারবে, একটি তাওয়ায় অনুপ্রাণিত হবে এবং সামনে নেক আমলের মাধ্যমে অতীত কর্মের ক্ষতিপূরণ করতে চাইবে।
৩. গুনাহ্র উদ্দীপক ও স্মারক বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকা: যে সকল জিনিস গুনাহের প্ররোচনা দেয় ও মন্দ কাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে তা থেকে দূরে থাকবে। যে সকল জিনিস প্রবৃত্তিকে নাড়া দেয় এবং গোপন রিপু জাগিয়ে তোলে; যেমন, নগ্ন ফিল্ম দেখা, মাতাল গান-বাদ্য শ্রবণ করা, অশ্লীল বই-পুস্তক ও ম্যাগাজিন পাঠ করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকবে।
৪. ভালো লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা, দুষ্ট লোকদের থেকে দূরে থাকা: সৎ সঙ্গী তোমাকে উপদেশ দেবে, তোমার দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেবে। আর অসৎ সঙ্গীর কাজ হলো, সে মানুষের দ্বীন নষ্ট করে দেয়, সাথীর দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেয় না, দুষ্টু লোকদের সাথে সম্পর্ক করে দেয়, ভালো লোকদের থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে এবং মানুষকে লাঞ্ছনা, অপমান ও লজ্জার পথে পরিচালিত করে।