📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সর্বাবস্থায় বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

📄 সর্বাবস্থায় বেশি বেশি ইস্তেগফার করা


হাসান বসরী রহ. বলেন, তোমরা তোমাদের ঘরে, পানির ঘাটে, রাস্তায়, বাজারে, মজলিসসমূহে ও তোমরা যেখানেই থাক- সর্বদা বেশি বেশি আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার কর। কারণ, তোমরা জান না, কখন আল্লাহর মাগফিরাত নাযিল হয়।
যে যিকিরটি বেশি বেশি করা তোমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে ইস্তিগফার। এর অনেক ফযীলত রয়েছে। এর বরকতও অনেক ব্যাপক। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ইস্তিগফার করার আদেশ করে বলেন- وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থাৎ 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' যারা স্বীয় মন্দ কর্মের কারণে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করে বলেন-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
‘এবং যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলল বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’

টিকাঃ
১৬৬. সূরা আলে ইমরান: ১৩৫

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 তুমি কীভাবে গুনাহর কবল থেকে মুক্তি লাভ করবে?

📄 তুমি কীভাবে গুনাহর কবল থেকে মুক্তি লাভ করবে?


গুনাহসমূহ গুনাহগারের হৃদয়ে শিকল হয়ে থাকে। তাওবা ও ইস্তিগফার ব্যতীত তা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো পথ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
‘এবং আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারওরত অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন।’
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, যে ইস্তিগফার আযাবকে প্রতিহত করে, তা হচ্ছে সংপ্রকারের গুনাহ থেকে ফিরে আসার মাধ্যমে ইস্তিগফার করা। পক্ষান্তরে যে গুনাহর মধ্যে লিপ্ত থেকেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার ইস্তিগফার তাকে আযাব থেকে রক্ষা করবে না। কারণ, মাগফিরাত বা ক্ষমার অর্থ হচ্ছে- গুনাহকে মিটিয়ে দেওয়া, তার চিহ্ন মুছে দেওয়া এবং তার অনিষ্ট দূর করা।

টিকাঃ
১৬৭. সূরা আনফাল: ৩৩

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 গীবত থেকে তাওবা

📄 গীবত থেকে তাওবা


গীবত থেকে তাওবা করলে সে ক্ষেত্রে যার গীবত করা হয়েছে তাকে কি অবগত করতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, না শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করার দ্বারাই নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে? ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, এ মাসআলাটির ব্যাপারে উলামায়ে কেরামদের দুই রকম মত রয়েছে। আর দুটিই ইমাম আহমাদ রহ. থেকে বর্ণিত দুই মত। তা হচ্ছে গীবত থেকে তাওবা করার জন্য যার গীবত করা হয়েছে, তার জন্য ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট, নাকি তাকে অবগত করানো ও তার থেকে মুক্ত হওয়াও আবশ্যক? তিনি বলেন, বিশুদ্ধ মত হলো, তাকে অবগত করানো আবশ্যক নয়। তার জন্য ইস্তিগফার করাই এবং যে সকল মজলিসে তার গীবত করেছে, সে সকল মজলিসে তার সুনাম করাই যথেষ্ট।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 দুআ অনেক সমস্যার সমাধান

📄 দুআ অনেক সমস্যার সমাধান


আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ
‘এবং কিতাব এর পথনির্দেশ দেয় যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন ভোগ করতে দেবেন এবং যে কেউ বেশি আমল করবে, তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দেবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও; তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।’
নূহ আ. এর জবানিতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا – يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا – وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
“আমি তাদেরকে বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।”
ইবনে বিশর রহ. বলেন, আমি ইবনে উয়ায়নাকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর ক্রোধ এমন ব্যাধির মতো, যার কোনো প্রতিরোধক নেই। তখন আমি বললাম, তার প্রতিরোধযোগ্য হলো, শেষ রাতে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়া এবং একনিষ্ঠ তাওবা।
শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কলবের এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছে; যা তাকে অস্থির করে ছেড়েছে। তার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো- শর্তভাবে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, সর্বদা দুআ ও মিনতি করা। হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দুআয় কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়গুলোতে যেমন, শেষ রাতে, আযান-ইকামতের সময়, সিজদার সময়, নামাজের পরে ইত্যাদি সময়গুলোতে মনোযোগসহকারে বেশি বেশি দুআ করবে এবং তার সাথে ইস্তিগফারও যুক্ত করবে।
জাফফর ইবনে মুহাম্মাদ রহ. বলেন, হে সুফইয়ান! যখন আল্লাহ তোমাকে কোনো নেয়ামত দান করেন, এরপর তুমি চাও- তা সর্বদা স্থায়ীভাবে তোমার জন্য থাকুক, তাহলে তুমি তার জন্য বেশি বেশি আল্লাহর প্রশংসা ও শোকর আদায় কর। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন- لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় কর; তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব।’
যখন তোমার রিজিককে সংকট দেখা দেবে, তখন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়বে। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا- يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
“নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।”

টিকাঃ
১৬৮. সূরা হুদ: ০৩
৬৩. সূরা নূহ: ১০-১২
১৬৯. সূরা নূহ: ১০-১২
১৭০. সূরা ইবরাহীম: ০৭
১৭১. সূরা নূহ: ১০-১২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00