📄 আমাদের তাওবা করার প্রয়োজনীয়তা
তাওবা হলো সারা জীবনের নিয়মিত আমল। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এটাই বন্দেগীর প্রথম স্তর, মধ্যস্তর ও উচ্চতর। আমাদের অবশ্যই তাওবার প্রয়োজন রয়েছে; বরং এর প্রয়োজন আমাদের জন্যই অনেক বেশি। কারণ, আমরা অনেক গুনাহ করি, আল্লাহর ব্যাপারে দিন-রাত অনেক সীমালঙ্ঘন করি। তাই আমাদের অন্তরকে গুনাহর জং-মরচে থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য তাওবা করা প্রয়োজন।
প্রতিটি আদম সন্তানই ভুলকারী, গুনাহকারী; তবে সর্বোত্তম ভুলকারী হলো- তাওবাকারী। জীবনের শেষ অংশ ভালো হলে শুরুর জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিও খর্ব হবে না; যদি এর থেকে তাওবা করা হয়।
📄 সর্বাবস্থায় বেশি বেশি ইস্তেগফার করা
হাসান বসরী রহ. বলেন, তোমরা তোমাদের ঘরে, পানির ঘাটে, রাস্তায়, বাজারে, মজলিসসমূহে ও তোমরা যেখানেই থাক- সর্বদা বেশি বেশি আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার কর। কারণ, তোমরা জান না, কখন আল্লাহর মাগফিরাত নাযিল হয়।
যে যিকিরটি বেশি বেশি করা তোমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে ইস্তিগফার। এর অনেক ফযীলত রয়েছে। এর বরকতও অনেক ব্যাপক। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ইস্তিগফার করার আদেশ করে বলেন- وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থাৎ 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' যারা স্বীয় মন্দ কর্মের কারণে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করে বলেন-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
‘এবং যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলল বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’
টিকাঃ
১৬৬. সূরা আলে ইমরান: ১৩৫
📄 তুমি কীভাবে গুনাহর কবল থেকে মুক্তি লাভ করবে?
গুনাহসমূহ গুনাহগারের হৃদয়ে শিকল হয়ে থাকে। তাওবা ও ইস্তিগফার ব্যতীত তা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো পথ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
‘এবং আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারওরত অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন।’
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, যে ইস্তিগফার আযাবকে প্রতিহত করে, তা হচ্ছে সংপ্রকারের গুনাহ থেকে ফিরে আসার মাধ্যমে ইস্তিগফার করা। পক্ষান্তরে যে গুনাহর মধ্যে লিপ্ত থেকেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার ইস্তিগফার তাকে আযাব থেকে রক্ষা করবে না। কারণ, মাগফিরাত বা ক্ষমার অর্থ হচ্ছে- গুনাহকে মিটিয়ে দেওয়া, তার চিহ্ন মুছে দেওয়া এবং তার অনিষ্ট দূর করা।
টিকাঃ
১৬৭. সূরা আনফাল: ৩৩
📄 গীবত থেকে তাওবা
গীবত থেকে তাওবা করলে সে ক্ষেত্রে যার গীবত করা হয়েছে তাকে কি অবগত করতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, না শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করার দ্বারাই নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে? ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, এ মাসআলাটির ব্যাপারে উলামায়ে কেরামদের দুই রকম মত রয়েছে। আর দুটিই ইমাম আহমাদ রহ. থেকে বর্ণিত দুই মত। তা হচ্ছে গীবত থেকে তাওবা করার জন্য যার গীবত করা হয়েছে, তার জন্য ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট, নাকি তাকে অবগত করানো ও তার থেকে মুক্ত হওয়াও আবশ্যক? তিনি বলেন, বিশুদ্ধ মত হলো, তাকে অবগত করানো আবশ্যক নয়। তার জন্য ইস্তিগফার করাই এবং যে সকল মজলিসে তার গীবত করেছে, সে সকল মজলিসে তার সুনাম করাই যথেষ্ট।