📄 নির্মল অন্তর
ইবনুল আরাবী রহ. বলেন, হৃদয় নির্মল হতে পারে না, যখন তাতে হিংসা, বিদ্বেষ, আত্মবিমুখতা ও অহংকার বিরাজ করে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের জন্য শর্ত করেছেন যে, মুমিন তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে; যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।
ইবনে সিরীন রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো, নির্মল অন্তর কী? তিনি বললেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে কল্যাণ কামনা করা।”
শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, স্বচ্ছ ও প্রশংসিত হৃদয় হলো- যা শুধু ভালো চায়, মন্দ চায় না। আর তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গতা হলো- ভালো-মন্দ বুঝা। যে মন্দটা বুঝে না, তার মাঝে ত্রুটি আছে। সে প্রশংসিত নয়।
৪২. গীবত-অপবাদ না শোনা এবং তাতে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করা: যাতে করে সকল মানুষ দু’টি মতো মনোয় যায়।
📄 হৃদয়ের স্বচ্ছতার কয়েকটি চিত্তাকর্ষক নমুনা
ফযল ইবনে আয়াশ রহ. বলেন, আমি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি অমুকের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, সে আপনাকে গালি দিচ্ছে। তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, শয়তান কি তোমাকে ছাড়া কোনো খবরদাতা পেল না? তারপর আমি সেখান থেকে না উঠতেই উক্ত লোকটি (যে গালি দিয়েছিল) সেখানে আসল। সে ওয়াহাব রহ. কে সালাম দিল। তিনি উত্তর দিয়ে হাত বাড়িয়ে মুসাফাহা করলেন এবং তাঁকে তাঁর পাশে বসালেন।
সুফইয়ান ইবনে দিনার রহ. বলেন, আমি আলী রাযি. এর একজন শিয়া আবু বশিরকে বললাম, আমাকে আমাদের পূর্বসূরীদের আমল সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বললেন, তাঁরা কম আমল করতেন; কিন্তু অধিক বিনিময় লাভ করতেন। আমি বললাম, এটা কীভাবে? তিনি বললেন, তাঁদের হৃদয়ের স্বচ্ছতার কারণে।
যায়িদ ইবনে আসলাম রহ. বলেন, আবু দুজানা রাযি. এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর নিকট যাওয়া হলো। তখন তাঁর চেহারা ঝলমল করছিল। তাঁকে বলা হলো, আপনার চেহারা দেখি- উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে? তিনি বললেন, আমি যত আমল করেছি, তার মধ্যে আমার দু’টি আমল অপেক্ষাকৃত নির্ভরযোগ্য আমি কিছু পাইনি।
তার একটি হলো, আমি অনর্থক কথাবার্তা বলতাম না। আরেকটি হলো, আমার অন্তর মুসলমানদের জন্য নির্ভেজাল ও স্বচ্ছ ছিল।