📄 কারা স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
أَفْضَلُ النَّاسِ كُلُّ مَخْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقُ اللِّسَانِ، قَالُوا: صَدُوقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ، فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ؟ قَالَ: التَّقِيُّ، النَّقِيُّ، لَا إِثْمَ فِيهِ، وَلَا بَغْيَ، وَلَا غِلَّ، وَلَا حَسَدَ
“সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলো, প্রত্যেক স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী ও সত্যভাষী লোক। সাহাবীগণ বললেন, সত্যভাষী তো আমরা বুঝি; কিন্তু স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী কারা উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, আল্লাহভীরু ও পূত-পবিত্র বান্দা: যার মাঝে অবাধ্যতা, জুলুম, হিংসা-বিদ্বেষ নেই।”
টিকাঃ
৪১. সুনানে ইবনে মাজাহ
📄 জান্নাতের সর্বোত্তম রাস্তা
কাসিম আল-জূয়ী রহ. বলেন, জান্নাতের সর্বোত্তম পথ হলো- হৃদয়ের স্বচ্ছতা।
📄 হৃদয়ের স্বচ্ছতার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ একটি দুআ ছিল: اللَّهُمَّ اسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِيَ “হে আল্লাহ! আমার অন্তরের ঘৃণা দূর করে দাও।” তিরমিযী রহ. এর বর্ণনায় এসেছে এভাবে: وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي এটি অতি উন্নত একটি বৈশিষ্ট্য, খুব কম লোকই এতে গুণান্বিত হতে পারে। কারণ, মনের জন্য এটা বড় ব্যাপার যে, সে নিজ স্বার্থ ছেড়ে দেবে, নিজের অধিকার ত্যাগ করবে। অপরদিকে বেশির ভাগ মানুষেই জুলুম ও সীমালঙ্ঘন দেখা যাচ্ছে। তাই যে ব্যক্তি মানুষের জুলুম, অজ্ঞতা ও সীমালঙ্ঘনকে উদারতার দ্বারা মোকাবেলা করে, তার মনের মোকাবেলা মন্দ প্রকাশ করে না, তার ওপর হিংসা করে না; সে উন্নত ও মহান চরিত্রের উচ্চ স্তর লাভ করে। এটা মানুষের মাঝে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য। কিন্তু যাদের জন্য আল্লাহ সাহায্য করেছেন, তাদের জন্য সহজ। এটা একমাত্র তারাই লাভ করে, যারা ধৈর্যশীল। এটা একমাত্র তারাই লাভ করে, যারা মহাসৌভাগ্যবান।
📄 জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য
সুতরাং একজন মুসলিমের ওপর আবশ্যক- সে উদারতা ও অন্তরের স্বচ্ছতা শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটা হচ্ছে জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ
“তাদের অন্তরে যে হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে, তা দূর করে দেব। তারা ভাই-ভাইরূপে সামনাসামনি আসনে বসবে।”
টিকাঃ
৪২. সূরা হিজর: ৪৭