📄 আল্লাহর সর্বোত্তম যিকির হলো, যাতে অন্তর ও জিহ্বা এক হয়
এমন যিকিরের দ্বারাই আল্লাহর পরিচয়, ভালোবাসা ও অধিক সাওয়াব লাভ হয়। যিকিরই কৃতজ্ঞতার মূল। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে এটার প্রতি আদেশ করেছেন আর তারপর সাধারণভাবেও শুকরিয়া করার আদেশ করেছেন- وَاشْكُرُوا لِي - “এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।”
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলা-কে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করো।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
ঈসা আ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- তোমরা আল্লাহর যিকির ছাড়া বেশি কথা বলো না। কারণ, তাতে অন্তর শক্ত হয়ে যায়।
📄 তোমার ঘরকে আল্লাহর যিকিরের স্থান বানাও
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ
“যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয়, আর যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয় না, উভয় ঘরের দৃষ্টান্ত হলো- জীবিত ও মৃতের ন্যায়।”
তাই ঘরকে বিভিন্ন ধরনের যিকির দিয়ে উজ্জীবিত করা আবশ্যক। চাই অন্তরের যিকির হোক বা জবানের হোক, অথবা নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, ইলমে শরীয়ীর আলোচনা, ধর্মীয় কিতাব পাঠ বা উপকারী ক্যাসেট শ্রবণ হোক।
আল্লাহর যিকির না থাকার কারণে আজ কত মুসলিমের ঘর মৃত; বরং সেগুলোর অবস্থা হলো- সর্বদা শয়তানের বাঁশি, গান-বাজনা, গীবত, চোগলখুরি, অপবাদ ইত্যাদিই চলতে থাকে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিনিই একমাত্র ভরসা।
সেই ঘরের অবস্থাটিই বা কেমন, যা আল্লাহর নাফরমানিতে ভরা? যেমন অবৈধ মেলামেশা, গাইরে মাহরাম নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা ঘরে ঢুকে যায় তাদের সামনে যাওয়া ইত্যাদি।
যে ঘরের এ অবস্থা, তাতে ফেরেশতা প্রবেশ করবে কীভাবে! তাই আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন! আপনারা নিজেদের ঘরগুলোকে আল্লাহ তাআলার বিভিন্ন ধরনের যিকির দ্বারা আबाद করুন।
টিকাঃ
৮৫. সূরা আহজাব: ৪১-৪২
৮৬. সহীহ মুসলিম: ৭৭৯
📄 সালামের মধ্যে আল্লাহর যিকির রয়েছে
বিশিষ্ট তাবেয়ী মুজাহিদ রহ. বলেন, ইবনে উমর রাযি. আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে বাজারে যেতেন। তিনি বলতেন, আমি বাজারে যাই; কিন্তু আমার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু এজন্য যাই; যাতে আমি অনেক লোককে সালাম দিতে পারি এবং আমাকেও অনেকে সালাম দেয়। এতে আমি একবার সালাম দিয়ে দশটি নেকি লাভ করি।
হে মুজাহিদ! সালাম আল্লাহর একটি নাম। তাই যে বেশি বেশি সালাম দিল, সে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করল। তুমি কি অনুভব করেছ, যখন তুমি তোমার মুসলমান ভাইদের সালাম দাও, তখন তুমি আল্লাহর যিকির করছ?
📄 মহাউপকারী একটি জ্ঞাতব্য বিষয়
জনৈক আলেম বলেন, কথা ও কাজের শুরুতে আল্লাহর যিকির করা হচ্ছে, ঘৃণা থেকে ভালোবাসা ও পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত লাভের মাধ্যম।