📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 যে সুন্নাহর ওপর আমল করে, তার পুরস্কার

📄 যে সুন্নাহর ওপর আমল করে, তার পুরস্কার


০১. মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত হওয়া। যেমন, হাদীসে কুদসীতে এসেছে, ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেছেন-
وَ مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ “বান্দা নাওয়াফেল (নফল ইবাদাতসমূহ) মাধ্যমে অব্যাহতভাবে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসে ফেলি। আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তাঁর কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শুনে…।”
০২. সর্বদা নফল ইবাদাতের ব্যাপারে যত্নবান হলে, তা ফরযের ঘাটতিসমূহের ক্ষতিপূরণ করে।
০৩. সুন্নাহর প্রতি আমলকারীকে দেখে কেউ আমল করলে, উক্ত ব্যক্তি তার অনুকরণকারীর সাওয়াবও লাভ করে। যা উক্ত ব্যক্তির সাওয়াবও কোনোরূপ ঘাটতি করে না। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদীসে এর উল্লেখ রয়েছে। তাতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا، وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম সুন্নাহ (আদর্শ) প্রচলন ঘটায়, সে তার নিজের প্রতিদানও লাভ করবে এবং তার পরে যত লোক ওই সুন্নাহর ওপর আমল করবে, সবার আমলের প্রতিদানও লাভ করবে। তবে তাদের প্রতিদান থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।”

টিকাঃ
৩০. সহীহ বুখারী: ৬৫০২
৩১. সহীহ মুসলিম: ১০১৭

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সুন্নাহ বাস্তবায়নে উঁচু হিম্মত

📄 সুন্নাহ বাস্তবায়নে উঁচু হিম্মত


ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে হাদীসটিই লিপিবদ্ধ করতাম, তার ওপর নিজে আমল করতাম।
ইমাম আহমাদ রহ. ফেতনার সময় তিন দিন ইবরাহীম ইবনে হানীর ঘরে আত্মগোপন করেন। তারপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আরেফ স্থানে গিয়ে আত্মগোপন করার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হওয়ায় তিন দিন আত্মগোপন করেন, তারপর সেখান থেকে প্রস্থান করেন। তাই আমার জন্য শোচনীয় নয় যে, আমি স্বাচ্ছন্দ্যের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করব আর সঙ্কটের সময় তাঁর অনুসরণ ছেড়ে দেব।

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সুন্নাহর প্রতি যত্নশীলতার একটি উদাহরণ

📄 সুন্নাহর প্রতি যত্নশীলতার একটি উদাহরণ


আব্দুর রহমান ইবনে আবী লায়লা আলী ইবনে আবী তালিব রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, আলী রাযি. বলেন-
أَنَّ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْأَلُهُ خَادِمًا، فَقَالَ: أَلَا أُخْبِرُكِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكِ مِنْهُ؟ تُسَبِّحِينَ اللَّهَ عِنْدَ مَنَامِكِ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتَحْمَدِينَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتُكَبِّرِينَ اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، فَمَا تَرَكْتُهَا أَرَى إِلَّا حِينَ سَمِعْتُهَا إِحْدَاهُنَّ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ بَعْدُ، قِيلَ: وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ؟ قَالَ: وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ “ফাতিমা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে একজন খাদেমের আবেদন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- আমি কি তোমাকে এর থেকে উত্তম বিষয় বলে দেব? তুমি ঘুমের সময় তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদু লিল্লাহ ও চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। (এরপর বর্ণনাকারী সুফইয়ান রহ. বলেন, একটি হলো চৌত্রিশ বার) (আলী রাযি. বলেন) এরপর কখনো আমি তা ছাড়িনি। বলা হলো, সিফফীনের যুদ্ধের রাতেও না? তিনি বললেন, সিফফীনের যুদ্ধের রাতেও না।”

টিকাঃ
৩২. সহীহ বুখারী: ৫৩৬২

📘 যেমন ছিলেন তাঁরা > 📄 সুন্নাহ অনুসরণের ফল

📄 সুন্নাহ অনুসরণের ফল


০১. সুন্নাহর অনুসরণ ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত।
সুফইয়ান রহ. বলেন, আমল ব্যতীত কথা গ্রহণযোগ্য নয়। আর নিয়ত ব্যতীত কথা এবং আমল কোনোটিই যথাযথ নয়। আর কথা, আমল ও নিয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহর অনুসরণ ব্যতীত সঠিক নয়।
০২. সুন্নাহর অনুসরণ ইসলামের প্রধান দুটি মূলনীতির একটি। মূলনীতি দুটি হচ্ছে:
ইখলাস ও ইবাদাত শুধু আল্লাহর জন্য করাই হচ্ছে বান্দার ঈমান ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের মূল কথা।
সুন্নাহর অনুসরণ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের অনুসরণ করা হচ্ছে, বান্দার ঈমান ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেওয়ার মূল কথা।
০৩. সুন্নাহর অনুসরণ জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম: এর প্রমাণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই হাদীস-
كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى “আমার উম্মতের সকলে জান্নাতে প্রবেশ করবে; তবে যে অস্বীকার করে (সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না)। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অস্বীকারকারী কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আমার অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আমার অবাধ্যতা করবে, সে অস্বীকার করল।”
০৪. সুন্নাহর অনুসরণ আল্লাহকে ভালোবাসার দলিল: এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ “(হে রাসূল) বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস; তবে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল।”
০৫. সুন্নাহর অনুসরণ তাকওয়ার নিদর্শন:
আল্লাহ তাআলা বলেন-
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ “এটাও আল্লাহর বিধান। আর যে আল্লাহর প্রতীকসমূহকে সম্মান করে, এটা (তার) অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।”
‘শায়াইরুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রতীকসমূহ হলো, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও তাঁর দ্বীনের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ। আর এর সর্বোচ্চ ও সর্বপ্রধান হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ ও তাঁর আনীত শরীয়তের অনুসরণ করা。

টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী: ৭২৮০
৩৪. সূরা আলে ইমরান: ৩১
৩৫. সূরা হজ্জ: ৩২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00