📄 আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার সুফল
শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, যখন আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয়, তাঁর থেকে পথনির্দেশ কামনা করা হয়, তাঁর নিকট দুআ করা হয়, তাঁর নিকট মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা হয় এবং তিনি যে পথে চলার আদেশ করেছেন, সে পথে চলা হয়; তখন আল্লাহ তাআ'লা ঈমানদারদেরকে স্বীয় হুকুমে সেই হকের ব্যাপারে পথনির্দেশনা দান করেন, যার ব্যাপারে তারা দোদুল্যমানতার শিকার ছিল। আর আল্লাহ যাকে চান, সরল পথের দিশা দেন।
যখন একজন মুসলিম জানবে, যে অমুখাপেক্ষী ক্ষমতাধরের হাতে সকল কল্যাণ রয়েছে, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা, তখন সে সৃষ্টিজীব থেকে ভ্রুক্ষেপহীনতা ও অমুখাপেক্ষিতা শিক্ষা লাভ করবে। সে জানতে পারবে যে, তা পাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়া, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করা। সাথে সাথে চেষ্টা ও আমলের উপাদানগুলোও গ্রহণ করবে। এভাবে একজন মুসলিম তার চেহারা লাজুকনা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে এবং যে কোনো মানুষের নিকট হাত পাতা, নত হওয়া থেকে হেফাজত করতে পারবে; ফলে তার সম্মান রক্ষা পাবে এবং তার মর্যাদা ও অবস্থান সুসংরক্ষিত থাকবে।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর সন্তুষ্টির কার্যাবলি সম্পাদন করা ব্যতীত শয়তানের ফাঁদ ও চক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো পথ নেই। কোনো ইবাদত পালনের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। যেমন, আয়াতের মাধ্যমে (حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ ) (নামাজের দিকে এস, সফলতার দিকে আস) বলার সময় (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ ) (অর্থাৎ ‘আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার) কোনো উপায় এবং (নেক কাজ করার) করার কোনো শক্তি কারও নেই’) বলা। কারণ, এটি নামাজ আদায়ের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা'র নিকট সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা প্রকারে মুক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের জন্য বড় মাধ্যম হবে। কারণ, দয়াময় আল্লাহর দানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। যেমন কবি বলেন—
‘যখন যুবকের পক্ষ থেকে আল্লাহর সাহায্য থাকে না, তখন তার নিজের প্রচেষ্টাই সর্বপ্রথম তার ক্ষতি করবে।’
জনৈক সালাফ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, যখন শয়তান তোমার নিকট গুনাহকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দেখাবে, তখন তুমি কী করবে? সে বলল, আমি তার বিরুদ্ধে মুজাহাদা করব। তিনি বললেন, এটা তো অনেক দীর্ঘ হবে। আচ্ছা বল তো, তুমি যদি একটি বকরির পালের নিকট দিয়ে গমন কর আর তখন তার (রাখালের) কুকুরটি তোমাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে, পথ অতিক্রম করতে বাধা দেয়, তখন তুমি কী করবে? সে বলল, আমি তার সাথে লড়াই করব এবং সর্বসাধ্য দিয়ে তাকে ফিরাব। তিনি বললেন, এটা দীর্ঘ হবে। কিন্তু তুমি যদি বকরির রাখালের কাছে (কুকুরটিকে তাড়ানোর জন্য) সাহায্য চাও; তাহলে সে-ই তোমার কাছ থেকে কুকুরটিকে তাড়িয়ে দেবে। এমনিভাবে যখন তুমি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইবে, তখন তার সৃষ্টিকর্তার নিকট সাহায্য চাইবে; তাহলে তিনিই তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং তোমাকে সাহায্য করবেন।
যে সকল বিষয় কষ্ট দূর করে: আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ করা।
সর্বদা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার গুরুত্ব: শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন, বান্দা আল্লাহর ইবাদতের জন্য ও অন্তর স্থির রাখার জন্য সর্বদাটই আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার প্রতি মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারও পক্ষে কোনো নেক আমল করার এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোনো ক্ষমতা নেই।
বান্দার আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা, তাওয়াক্কুল করা ও আশ্রয় প্রার্থনা করা আবশ্যক হওয়ার কারণ হলো, আল্লাহই বান্দাকে তাঁর ইবাদতে নিয়োজিত করেন এবং তাঁর অবাধ্যাতার বিষয়াবলি থেকে দূরে রাখেন। আর আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্য ব্যতীত নিজ শক্তিতে কোনো বান্দার পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। যে বিপদাপদের ভুক্ততা আসাদন করেছে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া ব্যতীত তা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে নিজের অক্ষমতা বুঝতেও পেরেছে, তার অন্তরই অন্যদের তুলনায় এ কথার অধিক সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ইবাদত করতে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকতে তাঁর সাহায্যের প্রতিই মুখাপেক্ষী হতে হয়।
তিনটি বিষয়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা আবশ্যক: ১. ইবাদতসমূহ সম্পাদনের ব্যাপারে। ২. নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের ব্যাপারে। ৩. তাকদীরে লিপিবদ্ধ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে সবর করার ব্যাপারে।
বান্দা অক্ষম:
বান্দা নিজে নিজে এ বিষয়গুলো অর্জন করতে অক্ষম। নিজ প্রতিপালকের নিকট সাহায্য চাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বান্দার জান দ্বীন-দুনিয়ার কোনো কাজেই আল্লাহর ব্যতীত আর কেউ সাহায্যকারী নেই।
গভীর প্রজ্ঞাবাণী:
যাকে আল্লাহ সাহায্য করেন, সে-ই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আর যে আল্লাহর হকের ব্যাপারে অবহেলা করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন না। সে হয় বঞ্চিত।
📄 একটি মারাত্মক ভুল
অনেক মানুষ নেক আমল ও নেক নিয়তের ভরসায় আল্লাহ থেকে সাহায্য প্রার্থনা ও তাঁর নিকট মুখাপেক্ষিতা ও দীনতা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। এটা একটি মারাত্মক ভুল। আল্লাহ নেক বান্দাগণ এ ব্যাপারে একমত যে, বান্দার যত কল্যাণ সাধিত হয়; তা মূলত আল্লাহ তাআলা’র তাওফীক্বই হয়। আর বেশি বেশি দুআ, প্রার্থনা, সাহায্য চাওয়া এবং বেশি বেশি মুখাপেক্ষিতা ও দুর্বলতা প্রকাশ করার দ্বারাই আল্লাহ্র তাওফীক্ব লাভ হয়। আর এগুলো ব্যাপারে অবহেলা করলে তাওফীক্ব থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
📄 কখন তোমার প্রতি আল্লাহর সাহায্য আসবে?
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, যখনই বান্দা পূর্ণাঙ্গ দাসত্ব করবে, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর সর্বোচ্চ সাহায্য আসবে।
📄 ‘আউযু বিল্লাহ’ পড়ার মধ্যেও আল্লাহর থেকে সাহায্য প্রার্থনা রয়েছে
কুরআন পাঠে গভীর ভীতি অর্জনের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়ার একটি নমুনা হলো, কুরআন পাঠকারীর জন্য শায়তান مِنْ الشَّيْطَانِ أَعُوذُ بِاللَّهِ বলার বিধান দেওয়া হয়েছে। وَبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এতে কুরআন পাঠে এবং বিশেষত যে সূরাটি এখন পড়ার ইচ্ছা করছে, তার মধ্যে ভীতি অর্জনের জন্য আল্লাহর থেকে সাহায্য প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।