📄 নিন্দনীয় প্রত্যাশা
ফরজ-ওয়াজিব পরিহার করে এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর প্রতি সুধারণা করাই হলো নিন্দনীয় প্রত্যাশা। আর এটা আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নির্ভিক হয়ে যাওয়াও নামান্তর।
📄 আল্লাহর প্রতি ধারণার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষের অবস্থা
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, সৃষ্টজীবের অধিকাংশ; বরং প্রায় সবাই-শুধু তারা ব্যতীত, আল্লাহ যাদের ব্যাপারে তাঁর কছে কল্পনা-আল্লাহর প্রতি অন্যায় ধারণা পোষণ করে। কারণ, অধিকাংশ মানুষ এ ধারণা করে যে, সে ন্যায্য অধিকার পায় নি। তার পাওনা অসম্পূর্ণ রয়েছে। আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তার চেয়ে সে বেশি পাওয়ার অধিকার রাখে।
তার ভাবের অবস্থা হলো: আমার রব আমার প্রতি জুলুম করেছে (নাউযুব বিল্লাহ) এবং আমার হকদার ছিলাম, আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে তার মন তিরিক্ষে সাক্ষ্য দেয়; যদিও মুখে সে তা স্বীকার করে না বা স্পষ্টভাবে বলার মতো দুঃসাহসিকতা দেয় না।
📄 আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা করার পরিণতি ভয়াবহ
কারণ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা তাওহীদের জন্য একটি আবশ্যকীয় বিষয়। যা আল্লাহ রহমত, অনুগ্রহ, সম্মান, হিকমত ও তাঁর সমস্ত নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান রাখার কারণেই হয়ে থাকে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা’র প্রতি মন্দ ধারণা তাওহীদের বিরোধী।
📄 আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণার কয়েকটি নমুনা
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এ ধারণা করে যে, তিনি তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেন না, রাসূলের লক্ষ্যকে পূর্ণ করেন না, রাসূলকে এবং তাঁর সাহায্যকারীদের শক্তিশালী করেন না, শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের বিজয় দান করেন না এবং তার কিতাব ও দ্বীনের নুসরত করেন না; তাহলে সে আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করল।
যে আল্লাহর ব্যাপারে এমন ধারণা করল যে, তিনি তার ওলীদেরকে তাদের নেক আমল ও ইখলাস সত্ত্বেও শান্তি দেন না বা তাদের সাথে ও তাদের শত্রুদের সাথে সমান আচরণ করেন, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা করল।
যে আল্লাহর প্রতি ধারণা করল, আল্লাহ তার সৃষ্টিজীবককে আদেশ-নিষেধ ছাড়া এমনিতেই ছেড়ে দেবেন, তাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করা হবে না, তাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ করা হবে না; বরং তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় অনর্থক ছেড়ে দেওয়া হবে, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল।
যে ধারণা করল, সে আল্লাহর আদেশ পালন করে শুধু তিনিই সন্তষ্টির জন্য নেক আমল করা সত্ত্বেও আল্লাহ তার উক্ত নেক আমল বিনষ্ট করে দেন এবং বারবার পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়া সেগুলোকে নিষ্ফল করে দেন অথবা তার দোষ ছাড়া তাকে শাস্তি দেন, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা করল।
যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল কর্তৃক বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলির বিপরীত ধারণা পোষণ করল বা স্বয়ং আল্লাহ তাআ'লার যার বিবরণ দিয়েছেন অথবা আল্লাহ তাআ'লা'র সেসব হক উপেক্ষা করল, যেগুলো তিনি ও তাঁর রাসূলগণ বর্ণনা করেছেন; তাহলে সে আল্লাহর প্রতি কুধারণা করল। যে ধারণা করল, সে আল্লাহর জন্য কোনো কিছু বর্জন করলে, আল্লাহ তাকে এর থেকে উত্তম বিনিময় দান করবেন না, অথবা কেউ আল্লাহর জন্য কোনো কিছু করলে, তিনি তাকে তার থেকে উত্তম কিছু দান করবেন না, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা করল।
কেউ যদি মনে করে যে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোনো কিছু ত্যাগ করলে তার বিনিময় আল্লাহ দেবেন না বা তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু করলে তার প্রতিদানে উত্তম কিছু তিনি দেবেন না; তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করল।
যে ধারণা করল, আল্লাহ কোনো অপরাধে ছাডা় তার প্রতি ক্রোধাম্বিত হবেন, তাকে শাস্তি দেবেন বা তাকে বঞ্চিত করবেন, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা করল।
যে ধারণা করল, সে যদি সত্যিকার অর্থও আল্লাহকে ভালোবাসে, তাঁকে ভয় করে, তাঁর নিকট মিনতি করে, প্রার্থনা করে, সাহায্য চায় এবং তাঁর ওপর ভরসা করে; তথাপি আল্লাহ তাকে ব্যর্থ করবেন, তার আবেদন পুরা করবেন না, সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল এবং তাঁর শানে যা উপযুক্ত নয়, তার প্রতি তা ধারণা করল।