📄 কীভাবে আল্লাহর প্রতি সুধারণা আছে বলে বুঝতে পারবে?
তা এভাবে যে, তোমার মধ্যে এ বিশ্বাস সৃষ্টি হবে- আল্লাহ তাআলাই তোমার সমস্যা সমাধানকারী, তিনিই তোমার অহিষ্কা-দূরকারী। কারণ, বান্দা যখন তার রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর বরকতের দরজাসমূহ এমনভাবে খুলে দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। তাই হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করবে; তাহলে তুমি আল্লাহর থেকে এমন কিছু দেখতে পাবে, যা তোমাকে আনন্দিত করবে। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَنَا عِنْدَ ظَنّ عَبْدِي بِي، إِنْ ظَنَّ خَيْرًا فَلَهُ، وَإِنْ ظَنَّ شَرًّا فَلَهُ
“আমি বান্দাকে তেমনই দিয়ে থাকি, বান্দা আমার প্রতি যেভবে ধারণা করে থাকে। সে যদি ভালো ধারণা করে তবে তার জন্য তা-ই। আর যদি খারাপ ধারণা করে; তবে তার জন্য তা-ই।”
তাই আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ কর এবং তোমার আশা-ভরসা শুধু তাঁর সাথে সম্পৃক্ত কর। আর আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক, কারণ এটা মারাত্মক ধ্বংসাত্মক বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السُّوءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلَعَنَهُمْ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
“যারা আল্লাহর সম্পর্কে কুধারণা করে, মন্দ পালাবর্তন তাদেরই ওপর। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন এবং তাদেরকে নিজ রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জাহান্নাম। তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।”
টিকাঃ
২২. মুসনাদে আহমাদ: ৯০৭৬
২৩. সূরা ফাতহ: ০৬
📄 মুমিনের ধারণা ও মুনাফিকের ধারণার মাঝে পার্থক্য
হাসান বসরী রহ. বলেন, মুমিন বান্দা তাঁর রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করে; তাই সে ভালো আমল করে। আর আল্লাহর প্রতি মুনাফিকের ধারণা হয় মন্দ; তাই সে খারাপ আমল করে।
📄 কোন জিনিস তোমাকে ভালো আমলে উদ্বুদ্ধ করবে?
আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা আল্লাহ তাআলার উত্তম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
জেনে রেখ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। কারণ, যে বিষয়টি বান্দাকে ভালো আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, তা হচ্ছে- আল্লাহর প্রতি তার এ ধারণা যে, আল্লাহ তাকে তার আমলের প্রতিদান বা বিনিময় দান করবেন এবং তাঁর থেকে তা কবুল করবেন। সুতরাং যে জিনিসটি তাকে আমল করতে উদ্বুদ্ধ করল, তা হচ্ছে সুধারণা। তাই যখনই তার রবের প্রতি ধারণা সুন্দর হবে, তখনই তার আমলও সুন্দর হবে। অন্যথায়, প্রবৃত্তির অনুসরণের সাথে আল্লাহর প্রতি সুধারণা অনর্থক।
মোটকথা মুক্তির মাধ্যমগুলো অর্জন করার সাথে সুধারণা হয়ে থাকে। ধ্বংসের কাজ করে সুধারণা করা যায় না।
📄 নিন্দনীয় প্রত্যাশা
ফরজ-ওয়াজিব পরিহার করে এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর প্রতি সুধারণা করাই হলো নিন্দনীয় প্রত্যাশা। আর এটা আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নির্ভিক হয়ে যাওয়াও নামান্তর।