📄 বান্দার অন্তরে কীভাবে দুটি বিপরীত বিষয় একত্রিত হয়?
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, একজন বান্দার অন্তরে কীভাবে এ দুটি জিনিস একত্রিত হতে পারে যে, সে এ কথার বিশ্বাস করবে- সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, আল্লাহ তার কথাবার্তা শোনেন, তার অবস্থান দেখেন, তার গোপন-প্রকাশ্য সবকিছু জানেন, তার কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর নিকট গোপন নয়, সে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হবে এবং তাকে তাঁর প্রত্যেক কাজের জবাবদিহি করতে হবে; অথচ সে তাঁর অসন্তষ্টির মাঝে অবস্থান করছে, তাঁর আদেশগুলো লঙ্ঘন করছে, তাঁর হকসমূহ নষ্ট করছে, আর এতদসত্ত্বেও আবার সে আল্লাহর প্রতি সুধারণা করছে। এটা কি আত্মপ্রবঞ্চনা ও অলীক স্বপ্ন ছাড়া অন্য কিছু?
📄 তাওয়াক্কুলের নামই কি আল্লাহর প্রতি সুধারণা?
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, কেউ কেউ তাওয়াক্কুলের ব্যাখ্যা করেছেন- ‘আল্লাহর প্রতি সুধারণা করা।’ কিন্তু প্রকৃত কথা হলো, আল্লাহর প্রতি সুধারণা তাওয়াক্কুলের প্রতি উপকুমকারী। কারণ, প্রতি তোমার খারাপ ধারণা বা যার থেকে তুমি আশা কর না, তার ওপর তোমার তাওয়াক্কুল করা সম্ভব নয়।
📄 কীভাবে আল্লাহর প্রতি সুধারণা আছে বলে বুঝতে পারবে?
তা এভাবে যে, তোমার মধ্যে এ বিশ্বাস সৃষ্টি হবে- আল্লাহ তাআলাই তোমার সমস্যা সমাধানকারী, তিনিই তোমার অহিষ্কা-দূরকারী। কারণ, বান্দা যখন তার রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর বরকতের দরজাসমূহ এমনভাবে খুলে দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। তাই হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করবে; তাহলে তুমি আল্লাহর থেকে এমন কিছু দেখতে পাবে, যা তোমাকে আনন্দিত করবে। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَنَا عِنْدَ ظَنّ عَبْدِي بِي، إِنْ ظَنَّ خَيْرًا فَلَهُ، وَإِنْ ظَنَّ شَرًّا فَلَهُ
“আমি বান্দাকে তেমনই দিয়ে থাকি, বান্দা আমার প্রতি যেভবে ধারণা করে থাকে। সে যদি ভালো ধারণা করে তবে তার জন্য তা-ই। আর যদি খারাপ ধারণা করে; তবে তার জন্য তা-ই।”
তাই আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ কর এবং তোমার আশা-ভরসা শুধু তাঁর সাথে সম্পৃক্ত কর। আর আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক, কারণ এটা মারাত্মক ধ্বংসাত্মক বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السُّوءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلَعَنَهُمْ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
“যারা আল্লাহর সম্পর্কে কুধারণা করে, মন্দ পালাবর্তন তাদেরই ওপর। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন এবং তাদেরকে নিজ রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জাহান্নাম। তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।”
টিকাঃ
২২. মুসনাদে আহমাদ: ৯০৭৬
২৩. সূরা ফাতহ: ০৬
📄 মুমিনের ধারণা ও মুনাফিকের ধারণার মাঝে পার্থক্য
হাসান বসরী রহ. বলেন, মুমিন বান্দা তাঁর রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করে; তাই সে ভালো আমল করে। আর আল্লাহর প্রতি মুনাফিকের ধারণা হয় মন্দ; তাই সে খারাপ আমল করে।