📄 মৃত্যুর সময় সুধারণা রাখা
ইমাম ইশবিলী রহ. বলেন, মৃত্যুর সময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা ওয়াজিব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন–
لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ
“তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর ওপর সুধারণা পোষণ না করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ না করে।""
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যখন তোমরা দেখবে, কারও মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, তখন তাকে সুসংবাদ দেবে; যাতে সে স্বীয় রবের প্রতি সুধারণা রাখা অবস্থায় তার সাথে সাক্ষাৎ করে। আর যখন সে জীবিত থাকে, তখন তাকে তার রবের ব্যাপারে ভয় দেখাবে এবং তার কঠিন শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।
টিকাঃ
১৯. সহীহ মুসলিম: ২৮৭৭
📄 আল্লাহর প্রতি সুধারণার একটি নিদর্শন
আল্লাহর ইবাদাতে কঠোর পরিশ্রম করা।
📄 সুধারণার ফলাফলসমূহ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, সেই সত্তার শপথ! যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই! যে কেউ আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখবে, আল্লাহ তাকে উক্ত ধারণা অনুপাতে দান করবেন। কারণ, কল্যাণ তাঁরই হাতে।
সুহাইব রহ. বলেন, এক মালিক ইবনে দিনার রহ. কে তার মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু ইয়াহইয়া! আমি যদি জানতাম, আপনি আল্লাহর সামনে কী নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন? তিনি বললেন, আমি অনেকগুলো গুনাহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি, আল্লাহর প্রতি আমার সুধারণা সেগুলোকে মিটিয়ে দিয়েছে।
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, যখনই বান্দা আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা, ভালো আশা ও যথাযথ তাওয়াক্কুল করে, তখন আল্লাহ তাআলা কিছুতেই তার আশা ভঙ্গ করেন না। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো আশা পোষণকারীর আশা ব্যর্থ করেন না এবং কোনো আমলকারীর আমল বিনষ্ট করেন না।
আল্লাহর প্রতি সুধারণা অন্তরকে আমলের ওপর শক্তিশালী করে
কারণ, তখন তো আপনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ আপনার দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করবেন। তিনি স্বীয় বান্দার সব খবর রাখেন এবং তিনি দৃঢ় ও প্রচণ্ড শক্তির অধিকারী।
আল্লাহর প্রতি সুধারণা উত্তম পরিসমাপ্তির অন্যতম উপায়
আর মন্দ ধারণা মন্দ পরিসমাপ্তির কারণ। তাই বান্দার উচিত- এ কথার প্রতি বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না, তিনি মানুষের প্রতি সামান্যতমও অবিচার করেন না। তিনি বান্দার সাথে তেমনই ফায়সালা করেন, বান্দা যেমন তাঁর সম্পর্কে ধারণা করে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي
“আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি বান্দার সাথে তেমনই ফায়সালা করি, বান্দা আমার ওপর যেমন ধারণা করে। আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি।”
কোনো বুজুর্গ বলেছেন, তোমার যে কোনো বিপদ দূর করার জন্য আল্লাহর প্রতি সুধারণার আমলটি করো। কারণ, এটাই সমাধানের সহজ পথ।
মুমিন ততক্ষণ স্বীয় রবের প্রতি সুধারণা রাখে, ততক্ষণ তার অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং তার মন খণ্ডিতে থাকে। আল্লাহর ফায়সালা ও তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি এবং স্বীয় রবের প্রতি আনুগত্যের মহাত্ম্যবান চাদর তাকে ঢেকে রাখে।
মুমিনের অন্তর তার রবের প্রতি সুধারণা রাখে, সর্বদা তার থেকে কল্যাণই আশা করে। সুখে-দুঃখে সর্বদা তার থেকে কল্যাণের আশা করে এবং আল্লাহর প্রতি এ বিশ্বাস রাখে যে, তিনি সর্বাবস্থায়ই তার কল্যাণ চান। এ রহস্য হলো, তার অন্তর তো আল্লাহর সাথে মিলিত। আর আল্লাহর থেকেই অবিরত কল্যাণের ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়। তাই যখনই অন্তর তাঁর সাথে মিলিত হবে, তখনই সে এক প্রকৃত ব্যস্ততাকে স্পর্শ করতে পারবে, তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার অনুভূতি লাভ করবে এবং তার স্বাদ আস্বাদন করবে。
টিকাঃ
২০. সহীহ বুখারী: ৭১৩৫; মুসলিম: ২৬৭৫
📄 একটি জঘন্য ভুল ও সীমাহীন অজ্ঞতা
সাফালিনী রহ. বলেন: অনেক বড় ও মূর্চের চরিত্র হলো, আল্লাহর আদেশ নিষেধের তোয়াক্কা করে না; কিন্তু তাঁর প্রশস্ত দয়া ও ক্ষমা ওপর ভরসা করে আর মনে মনে আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা যাচ্ছে। এটা একটা জঘন্য ভুল এবং সীমাহীন অজ্ঞতাপূর্ণ একটি কাজ। কারণ, তুমি যাঁর আনুগত্য করো না, তাঁর দয়া আশা করা বোকামি ও আত্মপ্রবঞ্চনা। নিম্নলিখিত আয়াতে এ কথাই বলা হয়েছে।
تَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ بَعْضٌ وَرَثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضُ مِّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ
“এরপর তাদের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাব (তাওরাত) - এর উত্তরাধিকারী হলো এমন সব উত্তরপুরুষ; যারা এ দুনিয়ার তুচ্ছ সামগ্রী (ঘুষরূপে) গ্রহণ করত এবং তারা বলত, ‘আমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ কিন্তু তার অনুরূপ সামগ্রী তাদের কাছে পুনরায় আসলে তারা (ঘুষরূপে) তাও নিয়ে নিত।”
টিকাঃ
২১. সূরা আ’রাফ: ১৬৯