📄 কীভাবে আমরা খুশু অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব?
প্রথমতঃ: তুমি নামাজে তোমার ওঠা-বসা, কিরাত পাঠ, দাঁড়ানো, বসা সবকিছুতে ‘আল্লাহ তোমাকে দেখছেন’ এ কথা মনে রাখবে। খুশু শুধু নামাজের সাথে নির্দিষ্ট নয়। এটি একটি অন্তরের ইবাদত, প্রতিটি অবস্থায় এর প্রভাব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়।
দ্বিতীয়তঃ: রবের পরিচয় পরিপূর্ণভাবে জানা। কেননা, তা অন্তরে রবের মহত্ত্ব সৃষ্টি করবে।
তৃতীয়তঃ: তুমি মনে করবে ও একথা ভাববে যে, তুমি জাহান্নামের ওপর ‘পুলসিরাত’-এ আছ; যেন তুমি তোমার চোখের সামনে জান্নাত ও জাহান্নام দেখছ, যেন তুমি আল্লাহর সামনে হিসাব দেওয়ার জন্য দণ্ডায়মান আছ।
📄 ঈমানী খুশু ও কপটতাপূর্ণ খুশুর মাঝে পার্থক্য
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, ঈমানী খুশু হলো- আল্লাহর মহত্ত্ব, বড়ত্ব, গাম্ভীর্যতা, তাঁর প্রতি ভয় ও লজ্জায় অন্তর নত ও বিনয়ী হওয়া। মুমিনের অন্তরে যখন ভয়, অনুতাপ, ভালোবাসা ও লজ্জা থাকবে আর সে আল্লাহর নেয়ামতরাজি প্রত্যক্ষ করে এবং নিজ নিজ অপরাধকর্মের প্রতি লক্ষ করে আল্লাহর জন্য সিজদাবনত হবে, তখন তার অন্তর আবশ্যকীয়ভাবেই নত ও বিনয়ী হবে। আর এর ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিনয়ী হবে। পক্ষান্তরে কপটতাপূর্ণ বিনয় কৃত্রিমভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পাবে বটে; কিন্তু অন্তর নত ও বিনয়ী হবে না।
📄 নামাজের খুশু দু’প্রকার
বাহ্যিক খুশু: তা হচ্ছে নামাজি স্থির ও শান্ত থাকা। সিজদার দিকে তার দৃষ্টি রাখা। ডানে বামে দৃষ্টি না ফেরানো। নামাজে অনর্থক কাজ ও ইমারতের আগে বেড়ে যাওয়া থেকে দূরে থাকা।
আভ্যন্তরীণ খুশু: এটি অর্জিত হবে আল্লাহর বড়ত্ব মনে উপস্থিত করা, আয়াত ও যিকিরসমূহের অর্থ চিন্তা করা এবং শয়তানের বিভিন্ন কুমন্ত্রণার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার মাধ্যমে।