📄 খুশু’র অনুপস্থিতির কারণে দুটি মন্দ ফলাফল দেখা যায়
প্রথমতঃ: অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত না থাকা। কারণ, নামাজই অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন– إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ “নিশ্চয়ই নামাজ অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে”
দ্বিতীয়তঃ: কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ সফলতা অর্জন না হওয়া। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ সফলতাকে যুক্ত করেছেন খুশু'র সাথে। আল্লাহ তায়ালা বলেন– قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ “অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে; যারা স্বীয় নামাজে বিনয়াবনত।”
টিকাঃ
৬. সুরা আনকাবুত: ৪৫
৭. সুরা মুমিনুন: ১-২
📄 নামাজের প্রাণ
খুশু হলো, নামাজের প্রাণ এবং তার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। তাই খুশুহীন নামাজ হলো, প্রাণহীন দেহের ন্যায়। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ. এক ব্যক্তিকে নামাজের মধ্যে অযথা কাজে লিপ্ত হতে দেখে বললেন, এই লোকের কলব বিনয়ী হলে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিনয়ী হতো।
📄 মুনাফেকী (কপটতাপূর্ণ) বিনয়
আবু ইয়াহইয়া রহ. থেকে বর্ণিত, তাঁর নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, আবু দারদা রাযি. অথবা আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, তোমরা কপটতাপূর্ণ বিনয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। জিজ্ঞেস করা হলো, সেটা কেমন? তিনি উত্তর দিলেন, শরীর বিনয়াবনত হতে দেখা গেলেও অন্তর বিনয়ী না হওয়াই হলো, নিফাকপূর্ণ বিনয়।
📄 কীভাবে আমরা খুশু অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব?
প্রথমতঃ: তুমি নামাজে তোমার ওঠা-বসা, কিরাত পাঠ, দাঁড়ানো, বসা সবকিছুতে ‘আল্লাহ তোমাকে দেখছেন’ এ কথা মনে রাখবে। খুশু শুধু নামাজের সাথে নির্দিষ্ট নয়। এটি একটি অন্তরের ইবাদত, প্রতিটি অবস্থায় এর প্রভাব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়।
দ্বিতীয়তঃ: রবের পরিচয় পরিপূর্ণভাবে জানা। কেননা, তা অন্তরে রবের মহত্ত্ব সৃষ্টি করবে।
তৃতীয়তঃ: তুমি মনে করবে ও একথা ভাববে যে, তুমি জাহান্নামের ওপর ‘পুলসিরাত’-এ আছ; যেন তুমি তোমার চোখের সামনে জান্নাত ও জাহান্নام দেখছ, যেন তুমি আল্লাহর সামনে হিসাব দেওয়ার জন্য দণ্ডায়মান আছ।