📄 খুশু’র মূল কথা
খুশু হচ্ছে অন্তরের নরম, কোমল, প্রশান্ত, অনুগত ও নত হওয়া। তাই যখন অন্তর খুশুবিশিষ্ট (বিনয়ী) হয়, তখন সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিনয়ী হয়। কারণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তো অন্তরেরই অনুগামী।
📄 পূর্বসূরিদের খুশু’র কয়েকটি নমুনা
ইবনে জুবায়ের রাযি. যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন বিনয়ের কারণে এমন হয়ে যেতেন; যেন একটি কাঠ। তিনি যখন সিজদায় যেতেন, চড়ুই পাখি তাঁকে গাছের কর্তিত ডাল মনে করে তার পিঠে বসত।
📄 খুশু’র অনুপস্থিতির কারণে দুটি মন্দ ফলাফল দেখা যায়
প্রথমতঃ: অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত না থাকা। কারণ, নামাজই অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন– إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ “নিশ্চয়ই নামাজ অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে”
দ্বিতীয়তঃ: কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ সফলতা অর্জন না হওয়া। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ সফলতাকে যুক্ত করেছেন খুশু'র সাথে। আল্লাহ তায়ালা বলেন– قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ “অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে; যারা স্বীয় নামাজে বিনয়াবনত।”
টিকাঃ
৬. সুরা আনকাবুত: ৪৫
৭. সুরা মুমিনুন: ১-২
📄 নামাজের প্রাণ
খুশু হলো, নামাজের প্রাণ এবং তার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। তাই খুশুহীন নামাজ হলো, প্রাণহীন দেহের ন্যায়। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ. এক ব্যক্তিকে নামাজের মধ্যে অযথা কাজে লিপ্ত হতে দেখে বললেন, এই লোকের কলব বিনয়ী হলে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিনয়ী হতো।