📄 কখন ইবাদতে স্বাদ পাওয়া যাবে?
বিশর ইবনুল হারিস রহ. বলেন, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ইবাদতের স্বাদ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার ও কামনা-বাসনার মাঝে একটি লোহার প্রাচীর দাঁড় না করাবে।
ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ায রহ. বলেন, শরীর রোগাক্রান্ত হয় ব্যথা-বেদনার কারণে। হৃদয় রোগাক্রান্ত হয় গুনাহের কারণে। তাই অসুস্থ হলে শরীর যেমন খাবারের স্বাদ পায় না, তেমনিভাবে গুনাহ করলেও হৃদয়ে ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যায় না।
উছাইবা ইবনুল ওয়ারুদ রহ. কে বলা হলো, যে গুনাহ করে সে কি ইবাদতের স্বাদ পায়? তিনি বললেন, না। এমনকি যে গুনাহের ইচ্ছা করে, সেও না।
📄 আমাদের ওপর আল্লাহর হক কী?
আমাদের ওপর আল্লাহর হক হলো, আমরা তাঁরই ইবাদত করব, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করব না এবং সামান্য ইবাদতও মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নিবেদন করব না। কারণ, একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাই সকল প্রকার ইবাদতের হকদার। তাওহীদ শুধু তাঁরই, আনুগত্য শুধু তাঁরই। জবাই, মানত এবং কসম শুধু তাঁরই নামে হবে, তাওয়াফ কেবল তাঁর ঘরঘরেই করতে হবে, শাসনকর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই অধিকার। কারণ, একমাত্র তিনিই ইবাদতের উপযুক্ত।
হাসান বসরী রহ. মসজিদে প্রবেশ করে একটি মজলিসের পাশে বসলেন, যেখানে কথা চলছিল। তিনি তাদের কথা শোনার জন্য চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, এ লোকগুলোর নিকট ইবাদত নিরর্থক হয়ে গেছে। তাদের কাছে গল্পগুজব ইবাদতের চেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহভীতি কমে যাওয়ার কারণে তারা (এমন) কথাবার্তা বলছে।
ইবাদতের প্রাণ হলো, আল্লাহর বড়ত্বের অনুভূতি ও তাঁর প্রতি ভালোবাসা। যখন একটি অপরটি থেকে পৃথক হয়ে যায়, তখন ইবাদত-বন্দেগি বিনষ্ট হয়ে যায়।
📄 কেন আমরা ইবাদত থেকে বঞ্চিত হই?
ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, যখন তুমি রাতের তাহাজ্জুদ ও দিনের রোযা থেকে বঞ্চিত হবে, তখন বুঝে নেবে যে, তুমি বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত। তোমার গুনাহই তোমাকে বঞ্চিত করে রেখেছে। তুমি বন্দি, তোমার গুনাহই তোমাকে বন্দি করে রেখেছে।
আবু সুলাইমান আদ-দারানী রহ. বলেন, কারও গুনাহের কারণেই তার জামাআতে নামাজ ছুটে যায়।
এক ব্যক্তি ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহ.কে বলল, আমি রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করতে পারি না; তাই আমার জন্য একটি চিকিৎসা বলুন। তিনি বললেন, দিনে আল্লাহর অবাধ্য হয়ো না; তাহলে তিনিই তোমাকে রাতে তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। কারণ, রাতে তাঁর সামনে দাঁড়ানো অনেক বড় সম্মানের বিষয়। গুনাহগার সেই সম্মানের অধিকারী হয় না।
📄 কীভাবে ইবাদত ছাড়তে পারে?
আবু সুলাইমান আদ-দারানী রহ. বলেন, ঐ ব্যক্তির বিষয়টি আশ্চর্যের নয়, যে এখনও ইবাদতের স্বাদ পায়নি; কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ইবাদতের স্বাদ পাওয়ার পরও তা ছেড়ে দিল। এরপর সে কীভাবে ইবাদত থেকে নির্লিপ্ত থাকতে পারে?