📄 দাবা খেলা
লোকসমাজে প্রচলিত অনেক খেলাধূলার সাথেই হারাম জড়িত আছে। দাবা এমনই একটি খেলা। দাবা থেকে আরো অনেক রকম খেলার প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়। যেমন পাশা খেলা প্রভৃতি। জুয়া ও বাজির দ্বার উন্মোচনকারী এই দাবা সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন,
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ-
'যে ব্যক্তি দাবা খেলে সে যেন শূকরের রক্ত-মাংসে স্বীয় হাত রঞ্জিত করে'।১৬৯
আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
'যে ব্যক্তি দাবা খেলে সে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধানকে অমান্য করে'।১৭০
সুতরাং দাবা ও তার আনুসঙ্গিক খেলা যেমন তাস, পাশা, ফ্লাশ ইত্যাদি সম্বন্ধে অবশ্যই শরী'আতের আদেশ মানতে হবে।
টিকাঃ
১৬৯. মুসলিম; মিশকাত হা/৪৫০০।
১৭০. আহমাদ, আবুদাঊদ; মিশকাত হা/৪৫০৫।
📄 কোন মুসলমানকে অভিশাপ দেওয়া এবং যে অভিশাপ পাওয়ার যোগ্য নয় তাকে অভিশাপ দেওয়া
অনেকেই রাগের সময় জিহ্বাকে সংযত রাখতে পারে না। ফলে বেদিশা হয়ে লা'নত করে বসে। তাদের লা'নতের কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। মানুষ, পশু, জড় পদার্থ, দিন-ক্ষণ এমনকি নিজের সন্তান-সন্ততিদেরও তারা লা'নত করে বসে। দেখা যায়, স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে লা'নত করে, আবার স্ত্রীও স্বামীকে লা'নত করে। এটি একটি মারাত্মক অন্যায়। আবু যায়েদ ছাবিত বিন যাহহাক আনছারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَفَتْلِهِ ، وَمَنْ رَمَى مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَفَتْله 'যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে লা'নত করল বা কাফের বলে গালি দিল, সে যেন তাকে হত্যা করল'।১৭২
মহিলাদেরকে বেশী বেশী লা'নত করতে দেখা যায়। এজন্যে নবী করীম (ছাঃ) মহিলাদের জাহান্নামী হওয়ার নানা কারণের মধ্যে এটি একটি বলে উল্লেখ করেছেন।১৭৩ এমনিভাবে লা'নতকারীরা ক্বিয়ামত দিবসে সুফারিশকারীও হতে পারবে না।
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার এই যে, অন্যায়ভাবে লা'নত করলে তা লা'নতকারীর উপর বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। তাতে লা'নতকারী মূলতঃ নিজকেই আল্লাহ্র রহমত থেকে বঞ্চিত করার জন্য প্রার্থনাকারী হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং খুব নিরুপায় না হলে ও শারঈ অনুমোদন ক্ষেত্র ব্যতীত লা'নত করা ঠিক নয়।
টিকাঃ
১৭১. লা'নত অর্থ রহমত বা দয়া থেকে দূর করে দেওয়া। উহার বাংলা প্রতিশব্দ অভিশাপ। কাউকে আল্লাহ্ রহমত থেকে বঞ্চিত করার জন্য বদ দো'আকে এক কথায় লা'নত বলে। অহেতুক লা'নত এজন্যই মারাত্মক অপরাধ ও হারাম।-অনুবাদক
১৭২. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৪১০।
১৭৩. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/১৯।
📄 বিলাপ ও মাতম করা
অনেক মহিলা আছে যারা চেঁচিয়ে কাঁদে, মৃতের গুণাবলী উল্লেখ করে মাতম করে, গালে-মুখে থাপ্পড় মারে। এগুলি বড় অন্যায়। অনুরূপভাবে কাপড় ও পকেট ছিঁড়ে, চুল উপড়িয়ে, বেনী বেঁধে বা জড়িয়ে ধরে বিলাপ করাও মহা অন্যায়। এতে আল্লাহ্র ফায়ছালার প্রতি অসন্তোষ ও বিপদে অধৈর্যের পরিচয় মেলে। যে এমন করবে নবী করীম (ছাঃ) তার প্রতি লা'নত করেছেন। এ সম্পর্কে আবু উমামা (রাঃ) বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْخَامِشَةَ وَجْهَهَا وَالشَّاقَّةَ جَيْبَهَا وَالدَّاعِيَةَ بِالْوَيْلِ وَالنُّبُورِ -
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুখমণ্ডল ক্ষত-বিক্ষতকারিণী, পকেট ফাড়নে ওয়ালী এবং দুর্ভোগ ও ধ্বংস প্রার্থনাকারিণীর উপর লা'নত করেছেন'।১৭৪
ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُودَ ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ-
'যে গালে থাপ্পড় মারে, পকেট ছিঁড়ে ফেলে ও জাহেলিয়াতের রীতি-নীতির প্রতি আহ্বান জানায় সে আমাদের দলভুক্ত নয়'।১৭৫
তিনি আরো বলেছেন,
النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ حَرَبٍ
'মাতমকারিণী মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করলে ক্বিয়ামত দিবসে তাকে আলকাতরার পাজামা ও মরিচাযুক্ত বর্ম পরিহিতা অবস্থায় তোলা হবে'।১৭৬
সুতরাং কারো মৃত্যু বা বিপদে বিলাপ-মাতম ও আহাজারী করা বড়ই অন্যায়।
টিকাঃ
১৭৪. ইবনু মাজাহ হা/১৫৮৫ সনদ ছহীহ।
১৭৫. বুখারী হা/১২৯৪ ।
১৭৬. মুসলিম; মিশকাত হা/১৭২৭।
📄 মুখমণ্ডলে আঘাত করা ও দাগ দেওয়া
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ وَعَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুখমণ্ডলে আঘাত করতে এবং মুখমণ্ডলে দাগ দিতে নিষেধ করেছেন'।১৭৭
মুখমণ্ডলে আঘাতের বিষয়টি কিছু মাতা-পিতা ও শিক্ষকদের থেকে বেশী প্রত্যক্ষ করা যায়। তারা সন্তানদের বা ছাত্রদের শাসন করার জন্য হাত কিংবা অন্য কিছু দ্বারা মুখমণ্ডলে মেরে থাকে। অনেকে বাড়ীর চাকরদের সাথে এরূপ করে থাকে। এতে আল্লাহ তা'আলা যে চেহারার বদৌলতে মানুষকে সম্মানিত করেছেন তাকে অমর্যাদা করার সাথে সাথে অনেক সময় মুখমণ্ডলের কোন একটি ইন্দ্রিয় অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ফলে অনুশোচনা ছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষে ক্বিছাছ দেওয়া লাগতে পারে।
পশুর মুখমণ্ডলে দাগ দেওয়া কাজটি পশু মালিকদের সাথে জড়িত। তারা স্ব স্ব পশু চেনা ও হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার জন্য পশুগুলির মুখে দাগ দিয়ে থাকে। এটা হারাম। এতে পশুর চেহারা ক্ষত করা ছাড়াও উহাকে কষ্ট দেওয়া হয়। কেউ যদি দাবী করে যে, এরূপ দাগ দেওয়া তাদের গোত্রের একটি রীতি এবং গোত্রের বিশেষ চিহ্ন, তাহলে এটুকু করার অবকাশ থাকতে পারে যে শরীরের অন্য কোথাও দাগ বা কোন চিহ্ন দিবে; মুখমণ্ডলে নয়।
টিকাঃ
১৭৭. মুসলিম; মিশকাত হা/৪০৭৭।
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ وَعَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুখমণ্ডলে আঘাত করতে এবং মুখমণ্ডলে দাগ দিতে নিষেধ করেছেন'।১৭৭
মুখমণ্ডলে আঘাতের বিষয়টি কিছু মাতা-পিতা ও শিক্ষকদের থেকে বেশী প্রত্যক্ষ করা যায়। তারা সন্তানদের বা ছাত্রদের শাসন করার জন্য হাত কিংবা অন্য কিছু দ্বারা মুখমণ্ডলে মেরে থাকে। অনেকে বাড়ীর চাকরদের সাথে এরূপ করে থাকে। এতে আল্লাহ তা'আলা যে চেহারার বদৌলতে মানুষকে সম্মানিত করেছেন তাকে অমর্যাদা করার সাথে সাথে অনেক সময় মুখমণ্ডলের কোন একটি ইন্দ্রিয় অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ফলে অনুশোচনা ছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষে ক্বিছাছ দেওয়া লাগতে পারে।
পশুর মুখমণ্ডলে দাগ দেওয়া কাজটি পশু মালিকদের সাথে জড়িত। তারা স্ব স্ব পশু চেনা ও হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার জন্য পশুগুলির মুখে দাগ দিয়ে থাকে। এটা হারাম। এতে পশুর চেহারা ক্ষত করা ছাড়াও উহাকে কষ্ট দেওয়া হয়। কেউ যদি দাবী করে যে, এরূপ দাগ দেওয়া তাদের গোত্রের একটি রীতি এবং গোত্রের বিশেষ চিহ্ন, তাহলে এটুকু করার অবকাশ থাকতে পারে যে শরীরের অন্য কোথাও দাগ বা কোন চিহ্ন দিবে; মুখমণ্ডলে নয়।
টিকাঃ
১৭৭. মুসলিম; মিশকাত হা/৪০৭৭।