📄 লোকদের অনীহা সত্ত্বেও গোপনে তাদের আলাপ শ্রবণ করা
আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَاَ تَجَسَّسُوا 'তোমরা গোয়েন্দাগিরি করনা' (হুজুরাত ১২)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ أَوْ يَفِرُّونَ مِنْهُ ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الأَنْكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ -
'যে ব্যক্তি লোকদের অনীহা বা তার কাছ থেকে পালানো সত্ত্বেও তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে ক্বিয়ামতের দিন তার দু'কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে'।১৬২
আর যদি ক্ষতি করার মানসে তাদের থেকে শোনা কথা তাদের অগোচরে মানুষের নিকট বলে বেড়ায়, তাহ'লে গোয়েন্দাগিরি পাপের সাথে কুটনামির পাপও জড়িত হবে। কেননা নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَاتُ 'চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না'।১৬৩
টিকাঃ
১৬২. বুখারী; মিশকাত হা/৪৪৯৯।
১৬৩. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৮২৩।
📄 প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ করা
প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতি জোর তাকীদ দিয়ে আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছেন,
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا -
'তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত কর, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদাচরণ কর। আর সদাচরণ কর নিকটাত্মীয়, অনাথ, নিঃস্ব, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, পার্শ্বস্থিত সঙ্গী, পথিক ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাদের ভালবাসেন না যারা গর্বে স্ফীত অহংকারী' (নিসা ৩৬)।
प्रतिবেশীর হক্ব অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাকে কষ্ট দেওয়া হারাম। আবু শুরাইহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ. قِيلَ وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ -
'আল্লাহ্ শপথ সে মুমিন নয়, আল্লাহ্র শপথ সে মুমিন নয়, আল্লাহ্র শপথ সে মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হল, কে সে জন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)? তিনি বললেন, যার প্রতিবেশী তার অত্যাচার হতে নিরাপদে থাকতে পারে না'।১৬৪
নবী করীম (ছাঃ) এক প্রতিবেশী কর্তৃক অন্য প্রতিবেশীর প্রশংসা ও নিন্দা করাকে ভাল ও মন্দ আচরণের মাপকাঠি গণ্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)! আমি ভাল আচরণ করলাম না মন্দ আচরণ করলাম তা কী করে বুঝব? তিনি বললেন,
إِذَا سَمِعْتَ حِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ : قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ
'যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীদেরকে বলতে শুনবে যে, তারা তোমার সম্পর্কে বলাবলি করছে, 'তুমি ভাল আচরণ কর' তখন বুঝবে, তুমি নিশ্চয়ই ভাল আচরণ করছ। আর যখন তাদেরকে বলাবলি করতে শুনবে যে, 'তুমি মন্দ আচরণ কর' তখন বুঝবে, তুমি নিশ্চয়ই মন্দ আচরণ করছ'।১৬৫
প্রতিবেশীর সঙ্গে মন্দ আচরণ নানাভাবে হতে পারে। যেমন- প্রতিবেশীর সাথে যৌথভাবে নির্মিত বাড়ীর প্রাচীরের উপর কাঠ কিংবা বাঁশ পুঁততে বাধা দেওয়া, প্রতিবেশীর অনুমতি না নিয়ে তার বাড়ী হতে নিজ বাড়ীকে উঁচু বা বহুতল করে তার বাড়ীতে আলো-বাতাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা, প্রতিবেশীর বাড়ী বরাবর জানালা তৈরী করে তার বাড়ীর লোকদের সতর দেখতে চেষ্টা করা, বিরক্তিকর শব্দ দ্বারা তাকে কষ্ট দেওয়া, বিশেষ করে ঘুম ও আরামের সময়ে চেঁচামেচি ও খটখট আওয়াজ করা, প্রতিবেশীর সন্তানদের মারধোর করা কিংবা তার বাড়ীর দরজায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা ইত্যাদি।
তাছাড়া প্রতিবেশীর হজ্বের উপর চড়াও হলে পাপের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,
لأَنْ يَزْنِيَ الرَّجُلُ بِعَشْرِ نِسْوَةٍ أَيْسَرُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْ يَزْنِي بِامْرَأَةِ جَارِهِ. لَأَنْ يَسْرِقَ الرَّجُلُ مِنْ عَشْرَةِ أَبْيَاتٍ أَيْسَرُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْ يَسْرِقَ مِنْ جَارِهِ
'কোন ব্যক্তির পক্ষে অন্য দশজন মহিলার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া স্বীয় প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারের তুলনায় অনেক সহজ। অনুরূপভাবে অন্য দশ বাড়ীতে চুরি করা কোন ব্যক্তির স্বীয় প্রতিবেশীর বাড়ীতে চুরি করা অপেক্ষা অনেক সহজ'।১৬৬
অনেক অসাধু ব্যক্তি আছে, যারা প্রতিবেশীর অনুপস্থিতির সুযোগে রাতে তাদের গৃহে প্রবেশ করে এবং অপকর্মে লিপ্ত হয়। এসব লোকের জন্য এক বিভীষিকাময় দিনের শাস্তি অপেক্ষা করছে।
টিকাঃ
১৬৪. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৯৬২।
১৬৫. ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৪৯৮৮।
১৬৬. আহমাদ হা/২৩৯০৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬৫।
📄 অছিয়ত দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করা
শরী'আতের একটি অন্যতম নীতি لاَ ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ 'নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হব না, অন্যের ক্ষতি করব না'।১৬৭ এ জাতীয় ক্ষতি করার একটি উপমা হল, শরী'আত স্বীকৃত ওয়ারিছগণের সবাইকে অথবা বিশেষ কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কেউ এমন করলে সে নবী করীম (ছাঃ) প্রদত্ত হুঁশিয়ারীর আওতায় পড়বে। তিনি বলেছেন,
مَنْ ضَارَّ أَضَرَّ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ شَاقَ شَاقَ اللَّهُ عَلَيْهِ
'যে কারো ক্ষতি করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। আর যে শত্রুতা ও বিরোধিতা করবে আল্লাহ তাকে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করবেন।১৬৮
অছিয়তের মাধ্যমে নানাভাবে ক্ষতি হতে পারে। যেমন- কোন ওয়ারিছকে তার ন্যায্য অংশ হতে বঞ্চিত করা। অথবা একজন ওয়ারিছকে শরী'আত যেটুকু দিয়েছে তার বিপরীতে তার জন্য অছিয়ত করা কিংবা এক তৃতীয়াংশের বেশী অছিয়ত করা ইত্যাদি।
যে সব দেশে ইসলামী বিচার ব্যবস্থা চালু নেই সেখানে একজন পাওনাদার অনেক ক্ষেত্রেই মানব রচিত বিধানের কারণে তার শরী'আত প্রদত্ত অধিকার লাভে সমর্থ হয় না। মানব রচিত বিচার ব্যবস্থা তাকে উকিলের মাধ্যমে লিখিত অন্যায় অছিয়ত কার্যকর করতে আদেশ দেয় এবং সে তা কার্যকর করতে বাধ্য হয়। সুতরাং বড়ই পরিতাপ তাদের স্বহস্তে রচিত আইনের জন্য এবং বড়ই পরিতাপ তারা যে পাপ কামাই করছে তার জন্য!
টিকাঃ
১৬৭. ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০, সনদ ছহীহ।
১৬৮. আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৫০৪২।
📄 দাবা খেলা
লোকসমাজে প্রচলিত অনেক খেলাধূলার সাথেই হারাম জড়িত আছে। দাবা এমনই একটি খেলা। দাবা থেকে আরো অনেক রকম খেলার প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়। যেমন পাশা খেলা প্রভৃতি। জুয়া ও বাজির দ্বার উন্মোচনকারী এই দাবা সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন,
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ-
'যে ব্যক্তি দাবা খেলে সে যেন শূকরের রক্ত-মাংসে স্বীয় হাত রঞ্জিত করে'।১৬৯
আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
'যে ব্যক্তি দাবা খেলে সে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধানকে অমান্য করে'।১৭০
সুতরাং দাবা ও তার আনুসঙ্গিক খেলা যেমন তাস, পাশা, ফ্লাশ ইত্যাদি সম্বন্ধে অবশ্যই শরী'আতের আদেশ মানতে হবে।
টিকাঃ
১৬৯. মুসলিম; মিশকাত হা/৪৫০০।
১৭০. আহমাদ, আবুদাঊদ; মিশকাত হা/৪৫০৫।